যুক্তরাজ্যের যোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকম সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে নারীদের বিরুদ্ধে হয়রানি, ‘পাইল-অন’ আক্রমণ, ঘন ঘন অপমানজনক মন্তব্য এবং অন্তরঙ্গ ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার মতো অপরাধ দমনে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) থেকে কার্যকর হওয়া এ নির্দেশনায় প্রথমবারের মতো প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে নির্দিষ্ট পোস্টে মন্তব্যের সংখ্যা সীমিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
অফকম বলেছে, প্ল্যাটফর্মগুলো যেন এমন ব্যবস্থা নেয় যাতে কোনও নারী বা ব্যক্তি একটি পোস্ট করার পর সমন্বিতভাবে হাজারো অপমানজনক মন্তব্যের শিকার না হন। বিশেষ করে এক্স (সাবেক টুইটার)-এর মতো প্ল্যাটফর্মে মন্তব্যের সংখ্যা সীমিত করলে এ ধরনের অনলাইন হামলা কমবে।
সংস্থাটি সুপারিশ করেছে, সোশ্যাল মিডিয়াগুলো যেন একটি যৌথ ডাটাবেসের সাহায্যে হ্যাশ-ম্যাচিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনুমতি ছাড়া শেয়ার হওয়া অন্তরঙ্গ ছবি ও ভিডিও দ্রুত শনাক্ত ও সরিয়ে ফেলতে পারে।এই প্রযুক্তিতে ব্যবহারকারীর অভিযোগে আসা ছবি বা ভিডিওর ডিজিটাল ফিঙ্গারপ্রিন্ট তৈরি করে তা ডাটাবেসে থাকা বেআইনি ছবি—যেমন রিভেঞ্জ পর্ন বা ডিপফেক—এর সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়।
এ সুপারিশগুলো এসেছে যুক্তরাজ্যের অনলাইন সেফটি অ্যাক্টের অধীনে, যা শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের অনলাইন ক্ষতির হাত থেকে সুরক্ষা দিতে তৈরি করা হয়েছে। যদিও নির্দেশনাগুলো বাধ্যতামূলক নয়, তবুও অফকম জানিয়েছে, ২০২৭ সালে তারা প্রকাশ করবে কোন প্ল্যাটফর্ম কীভাবে এ নির্দেশনা অনুসরণ করেছে। প্রয়োজনে আইন আরও কঠোর করা হতে পারে।
অফকম বলেছে— ‘যদি সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মগুলো যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়, তবে আমরা সরকারকে আইনে সংশোধনের আনুষ্ঠানিক সুপারিশ দেব।’
অফকমের প্রধান নির্বাহী ডেম মেলানি ডস বলেন, তিনি নারীদের ওপর হওয়া ভয়ংকর অনলাইন নির্যাতনের বহু ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন।
তিনি বলেন— ‘টেক কোম্পানিগুলোকে আমরা পরিষ্কার বার্তা দিচ্ছি—নারী ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনই কঠোর ব্যবস্থা নিন। আমরা প্ল্যাটফর্মগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করব এবং যুক্তরাজ্যে নারীদের অনলাইন নিরাপত্তায় নতুন মানদণ্ড তৈরি করব।’
আরও যেসব সুপারিশ করেছে অফকম
* আপত্তিকর মন্তব্য পোস্ট করার আগে ব্যবহারকারীদের সতর্কবার্তা দেখানো
* বারবার নিয়মভঙ্গ করলে ব্যবহারকারীকে ‘টাইম-আউট’ দেওয়া
* নারী বিদ্বেষী কনটেন্ট দিয়ে যেন কেউ বিজ্ঞাপন থেকে আয়ের সুযোগ না পায়
* একসঙ্গে একাধিক অ্যাকাউন্ট ব্লক/মিউট করার সুবিধা
ইন্টারনেট ম্যাটার্স নামের শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তাবিষয়ক সংস্থা বলেছে, নির্দেশনাগুলো বাধ্যতামূলক না হওয়ায় অনেক প্রযুক্তি কোম্পানি এগুলো মানবে না।
সংস্থাটির সহ-প্রধান নির্বাহী র্যাচেল হাগিন্স বলেন— ‘বাধ্যতামূলক না হলে এ নির্দেশনা অনেকেই উপেক্ষা করবে, আর নারীরা এখন যেসব অনলাইন ঝুঁকির মুখে রয়েছে তা থেকেই যাবে।’
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান