মাহফুজ মিশু:
নদীর কোনও দেশ নেই, নেই সীমানাও। নদীর উৎপত্তি উজানে হলেও তা বয়ে চলেছে ভাটির দেশেও। তাই পানির ন্যায্য হিস্যা আন্তঃদেশীয় সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। সম্প্রতি ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধেও বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে সিন্ধুর পানি।
আবার দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও তিস্তা নদীর ন্যায্য হিস্যা আদায়ে ভারতের সাথে চুক্তি করতে পারেনি বাংলাদেশ।
পরিবেশ ও জলবায়ূ নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা ইসিমোড বলছে, নদী আসলে ঐক্যবদ্ধ করে দেশগুলোকে। যদিও বাস্তবতা ভিন্ন।
ইসিমোডের মহাপরিচালক পেমা জেমছো যমুনা টেলভিশনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, নদী নিয়ে দেশগুলোর মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক থাকত হবে। সেজন্য পানি প্রবাহ, পলিসহ সকল বিষয়ের বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য থাকা জরুরি। এটাও সত্য এসব কাজ হুট করে হবে না। পর্যায়ক্রমে তথ্য সংগ্রহ, বিনিময় ও সে অনুযায়ী কাজ করলে সমাধান সম্ভব।
এদিকে, কেবল বাংলাদেশে বায়ূদূষণ নয়, হিমালয়বেস্টিত সব দেশেই বড় সংকট। আকাশের কোনও সীমানা না থাকায় দূষিত বায়ূর প্রবাহ ঠেকানোও সম্ভব নয় কোনও দেশের পক্ষে।
আবার প্রতিবছরই বাড়ছে বন্যার প্রকোপ। ব্যাহত হচ্ছে কৃষি উৎপাদন, মানুষের জীবন জীবিকা। অথচ কার্যকর পূর্বাভাস ব্যবস্থা থাকলে তা ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
একইভাবে খরাও ভুগাচ্ছে বাংলাদেশসহ পুরো অঞ্চলকে। এসব নিয়ে দেশগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করছে ইসিমোড।
পেমা জেমছো বললেন, একদিকে পানির স্বল্পতা আবার অন্যদিকে ভয়াবহ বন্যা। অথচ এগুলোর আগাম তথ্য পাওয়া সম্ভব। আবার সব দেশই বায়ূদূষণে ভয়াবহভাবে ভুগছে। এসব সংকট নিয়ে বাংলাদেশসহ দেশগুলোর সাথে কাজ করছি আমরা।
পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার কৃষি-বন্যা ও খরা প্রতিরোধেও কাজ করতে যাচ্ছে ইসিমোড।
সংস্থাটির মহাপরিচালক জানালেন, রাজনৈতিক বিভেদের বাইরে থেকে এসব ইস্যুতে কাজ অব্যাহত রাখতে চায় সংস্থাটি।
/এমএন