আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) তিনটি দলকে নিবন্ধন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরমধ্যে আলোচিত ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আমীনের গড়া বাংলাদেশ আম জনগণ পার্টিকেও নিবন্ধন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ তিনটি দলকে নিবন্ধন দেওয়ার ঘোষণা করেন।
এদিকে দলটিকে নিবন্ধন দেওয়ার ঘোষণায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিবন্ধন তালিকা থেকে ছিঁটকে পড়া আম জনতার দলের সদস্য সচিব তারেক রহমান। তিনি তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, ৪৩ লাখ গ্রাহকের অর্থ লুট করে, ১ মাস আগে এসে দল খুলে নিবন্ধন পেলো ডেসটিনি। আমরা বছরের পর বছর রাজনীতি করে নিবন্ধিত হই না। রাজনীতি শুধু বুর্জোয়াদের জন্য।
নিজেদের দল ‘আমজনতার দল’ ইসির নিবন্ধন তালিকায় না থাকায় নির্বাচন কমিশনের প্রধান ফটকের সামনে আমরণ অনশনে বসেছে তারেক রহমান। এসময় তিনি বলেন, ডেসটিনি কবে থেকে রাজনীতি করে, বলেন? জেল থেকে এসে আবার যেন জেলে যেতে না হয় তাই দল খুলেছে। তাকে নিবন্ধন দিয়েছে। আমরা রাজনীতিটা করি, কিন্তু আমাদের পছন্দ হচ্ছে না। আমাদের তো টাকা নাই। ডেসটিনি কোম্পানিকে নিবন্ধনের তালিকায় নাম লিখছে, এইটাই এদের কোয়ালিটি। এমএলএম ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এদের যোগসাজশ।
উল্লেখ্য, ডেসটিনি বাংলাদেশের একটি আলোচিত প্রতিষ্ঠান, যার বিরুদ্ধে গ্রাহক টাকা আত্মসাৎ করাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমীন অর্থপাচার ও ডেসটিনি ট্রি প্লান্টেশন নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের করা দুটি মামলায় দীর্ঘ সময় কারাভোগ করেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর তিনি কারামুক্তি পান।
ডেসটিনি-২০০০ লিমিটেড পণ্যগুলো এমএলএম পদ্ধতিতে সরাসরি বিক্রয়ের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করতো। এই পদ্ধতির ব্যবসার মাধ্যমে চার হাজার কোটি টাকা অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে অর্থ পাচার করে বলে সে সময় গণমাধ্যমে এসেছিল। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের সরকারে আমলে করা মামলায় রফিকুল আমীনকে কারাভোগ করতে হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক ও আদালতের নির্দেশে ডেসটিনির সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংক হিসাব স্থবির করে রাখা হয়। ফলে সে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যায়।
চলতি বছর ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশ আ-আম জনতা পার্টি নামে প্রথমে দল গঠন করেন রফিকুল আমীন। পরবর্তী আম জনতার দলের আপত্তির মুখে পরবর্তী সময়ে নামটি পরবর্তন করা হয়। দল গঠনের দিনই ডেসটিনির ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা নির্বাচন ভবনের সামনে এসে মানববন্ধন করেন।
তাদের একজন মুহিবুব জামান বলেন, আমি ১০ হাজার টাকার গাছ কিনেছিলাম। তারপর আর কোনও আপডেট পায়নি। এখন সেই কোম্পানিও নেই, গাছেরও কোনও খোঁজ নেই। যেই ব্যক্তি তার সহকর্মীদের অংশীদ্বারত্ব নিয়ে বাটপারি করেছে, আমানত রক্ষা করতে পারেনি, তার হাতে দেশেকে কী করে আমানত হিসেবে দেওয়া যাবে? এই দল নিবন্ধন পেলে স্বাধীন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইসির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ বিফ্রিংয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলকেও (মার্কসবাদী) নিবন্ধন দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান।
আইন অনুযায়ী, পরবর্তী প্রক্রিয়ায় দাবি আপত্তি আহ্বান করে বিজ্ঞপ্তি দেবে ইসি। এতে কোনও আপত্তি না আসলে বা আপত্তি আসলে তা নিষ্পত্তির পর সনদ দেবে নির্বাচন কমিশন।