অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরছে, আস্থা নয়

অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরছে, আস্থা নয়

আমার দৃষ্টিতে ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তে এসে বাংলাদেশের অর্থনীতি এক ধরনের পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়ার ভেতর আছে। সংকটের ধাক্কা কিছুটা কমেছে, কিন্তু শরীরে এখনও দুর্বলতা স্পষ্ট। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় দেড় বছর হতে চলেছে। এই সময়ে তারা রিজার্ভে কিছু স্বস্তি ফিরিয়েছে ও রেমিট্যান্সে উন্নতি এনেছে। তবু অর্থনীতির মূলে যে চ্যালেঞ্জগুলো রয়ে গেছে—উচ্চ সুদ, বিনিয়োগের স্থবিরতা, খেলাপি ঋণ ও রফতানি পতন— তা এখনও অমীমাংসিত।নিঃসন্দেহে বলা যায়, এই সরকার এক সংকটকালীন ব্যবস্থাপক হিসেবে ভূমিকা নিয়েছে। কিন্তু পুনরুদ্ধারের ভিত মজবুত করার সুযোগ এখন তারা ঠিক পাচ্ছে না। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন সামনে থাকায়, সরকারের নীতিনির্ধারণের ফোকাস কিছুটা সরে গেছে বলেই মনে হচ্ছে। সেই হিসেবেই যদি আগামী নভেম্বরে তফসিল ঘোষণা হয়ে যায়, তাহলে তো বলার অপেক্ষা রাখে না!উচ্চ সুদ ও বিনিয়োগের স্থবিরতা: শ্বাস রুদ্ধ অবস্থাসংকট সামলানোর মাঝেই ব্যবসায়ীরা এখন এক নতুন চাপে— উচ্চ সুদের ধাক্কায়। বর্তমান ব্যাংক ঋণের সুদহার ব্যবসাবান্ধব নয়, দ্বি-অঙ্কের সুদে লাভজনক হওয়া অসম্ভব বলেই তাদের অভিযোগ। তারা আগামী মুদ্রানীতিতে সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামানোর দাবি জানিয়েছেন। যেহেতু অর্থনীতি ঋণনির্ভর, সেহেতু উচ্চ সুদের অর্থ হলো চাকা ধীরে ঘোরা। এখন ব্যাংক ঋণের গড় হার ১২-১৩ শতাংশ, যা মুদ্রাস্ফীতির ওপরে। এভাবে উৎপাদন ও নতুন বিনিয়োগ দুটিই চাপে পড়ছে। তাই এই নীতিকে আরও “সিগন্যাল-বেসড” করা প্রয়োজন— মূল্যস্ফীতির নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ সুদ হ্রাসই এখন বাজারের চাহিদা।বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি: দুই দশকের সবচেয়ে নিচেএই উচ্চ সুদের ছায়াই বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধিকে ঠেলে দিয়েছে দুই দশকের নিচতম স্তরে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আগস্টে ব্যক্তি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ৬.৩৫ শতাংশ ছিল— যা ২০০৩ সালের পর সর্বনিম্ন। (New Age সংবাদ, ৩ অক্টোবর ২০২৫ )।রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ঋণপ্রবাহে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ এ অবস্থার মূল কারণ। ফলে বিনিয়োগ মন্থর, নতুন কারখানা কম, চাকরি সৃষ্টিও থেমে গেছে। অন্যদিকে রাজস্ব চাপ মোকাবিলায় সরকার জন খরচ সংকোচন নীতিতে গিয়েছে, যা চাহিদাকেও দমন করছে। অর্থাৎ সুদ-মুদ্রা-রাজস্ব নীতির তিন দিক একসঙ্গে অর্থনীতির শ্বাসরোধ করছে।খেলাপি ঋণ: অর্থনীতির ‘অদৃশ্য রক্তক্ষরণ’এই স্থবিরতার ভিত্তিতে আছে ব্যাংক খাতের অসুস্থতা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, ২০২৫-এর অক্টোবরে খেলাপি ঋণ প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে — মোট ঋণের চতুর্থাংশেরও বেশি। প্রতি চার টাকা ঋণের একটি টাকাই ফেরত আসছে না। এর ফলে একদিকে ব্যাংকগুলো নতুন ঋণ দিতে ভয় পাচ্ছে, অন্যদিকে বিনিয়োগকারীরাও আস্থা হারাচ্ছেন। ফলে অর্থপ্রবাহ অচল, বিনিয়োগ মন্থর, আর কর্মসংস্থান অদৃশ্যভাবে কমছে — এটাই অর্থনীতির রক্তক্ষরণ।রিজার্ভ ও রেমিট্যান্স: দুটি অক্সিজেন সিলিন্ডারএ অবস্থায় অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে দৃশ্যমান সাফল্য হলো রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখা ও রেমিট্যান্সে উন্নতি। ২০২৫-এর সেপ্টেম্বর শেষে রিজার্ভ ২৫ বিলিয়ন ডলার— এক বছর আগের চেয়ে প্রায় দুই বিলিয়ন বেশি। রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি ৬-৮ শতাংশ, যা ডলারের চাহিদা কমিয়ে বাজারে স্বস্তি দিয়েছে। তবে এই দুটি অর্জন অর্থনীতির শুধু ‘অক্সিজেন সিলিন্ডার’ বা স্থায়ী চিকিৎসা নয়। রফতানি পতন যেভাবে চাপ তৈরি করছে, তাতে এই স্বস্তি ধীরে ধীরে খরচ হয়ে যাচ্ছে।রপ্তানি: দুই মাসে ধস, উদ্বেগ বাড়ছেরিজার্ভের স্বস্তি যখন আসছে, ঠিক তখনই রফতানিতে নতুন ঝড়। ইপিবির তথ্য বলছে, আগস্টে রফতানি আয় কমেছে ৩ শতাংশ, সেপ্টেম্বরে আরও ৪.৬১ শতাংশ। জুলাই-সেপ্টেম্বরে মোট আয় ১২.৩১ বিলিয়ন ডলার হলেও শেষ দুই মাসের ধস চিন্তার। তৈরি পোশাক, হোম টেক্সটাইল, কৃষিপণ্য সবখানেই পতন শুধু চামড়া ও প্রকৌশলে সামান্য বৃদ্ধি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক, ইউরোপের চাহিদা হ্রাস ও কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধিই দোষী। অর্থাৎ রফতানি এখন একটি বিশ্ববাজারের ঝড়ে অবরুদ্ধ।খাদ্য নিরাপত্তা: উৎপাদনে স্থিতি, বিতরণে দুর্বলতাঅন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরে খাদ্য নিরাপত্তা নীতিতে বড় কোনও বিপর্যয় ঘটেনি। তবে “বহির্বিশ্বের ধাক্কা” সামলানোই ছিল মূল চ্যালেঞ্জ। গম, ডাল ও তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে দামের তারতম্যে সরকার দ্রুত আমদানি চুক্তি ও ওপেন মার্কেট সেল (ওএমএস) বাড়িয়েছে—এটা ছিল একটি তাৎক্ষণিক সাফল্য। কিন্তু বাস্তবে বিতরণব্যবস্থার দুর্বলতা ও জেলাভিত্তিক সরবরাহ সংকটে সাধারণ মানুষের কাছে এর প্রভাব সীমিত।পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত চালের দাম আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৯ শতাংশ বেশি ছিল, আর খাদ্যস্ফীতি ৮ শতাংশের ওপরে ছিল। অর্থাৎ উৎপাদনে স্থিতি থাকলেও সরবরাহে অসমতা রয়ে গেছে। সরকারের কৃষি ভর্তুকি অব্যাহত থাকলেও বীজ, সার ও ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় চাষির খরচ কমেনি। বলা যায়—সরকার ‘খাদ্য ঘাটতি’ ঠেকাতে পেরেছে, কিন্তু ‘খাদ্য ব্যয়’ ঠেকাতে পারেনি।জ্বালানি নিরাপত্তা: ব্যয় কমেছে, নির্ভরতা রয়ে গেছেএকই সময়ে জ্বালানি খাতে সরকারের নীতি ছিল “ব্যবস্থাপনা ও সংযমের”—কিন্তু ফল মিশ্র। এলএনজি আমদানি ব্যয় কিছুটা কমেছে, তবু জ্বালানি ঘাটতি মোকাবিলায় ব্যাকআপ উৎপাদন বাড়াতে হয়েছে। BPDB–র তথ্য বলে, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৭ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছেছিল, কিন্তু বাস্তবে সরবরাহ ছিল গড়ে ১৫ থেকে ১৬ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে। এর মানে, ‘ক্যাপাসিটি’ আছে, কিন্তু ‘সরবরাহে ধারাবাহিকতা’ নেই।জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকার ক্যাপাসিটি চার্জ পুনরায় মূল্যায়নে দেরি করেছে। স্থানীয় গ্যাস অনুসন্ধানেও নতুন অগ্রগতি দেখা যায়নি। তবু ইতিবাচক দিক—লোডশেডিং এখন অনেক কম, জ্বালানি ভর্তুকি ধীরে ধীরে কমছে। তবে সত্য হলো, বিদেশি জ্বালানির ওপর নির্ভরতা যতদিন থাকবে, বাজেটের ওপর সেই চাপও ততদিন থেকে যাবে।কর্মসংস্থান: স্বস্তির চেয়ে বেশি উদ্বেগঅর্থনীতির মূল শক্তি হলো কর্মসংস্থান, আর এখানেই সরকারের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা ধরা পড়ে। বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৬.৩৫ শতাংশে নামায় নতুন কারখানা ও শিল্পে বিনিয়োগ কমেছে—ফলে চাকরি সৃষ্টিও কমছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের মধ্যভাগে যুব বেকারত্বের হার ১০ শতাংশের কাছাকাছি, যা আগের বছরের তুলনায় সামান্য বেড়েছে। সরকার কিছু স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগ নিয়েছে— যেমন দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, আইটি ও ফ্রিল্যান্সিং খাতে প্রণোদনা—কিন্তু সেগুলো এখনো সীমিত পরিসরে। নির্মাণ, গার্মেন্টস, কৃষি—এই তিন খাতেই মজুরি বৃদ্ধি না হওয়ায় ক্রয়ক্ষমতা বাড়ছে না। আমি মনে করি, কর্মসংস্থান যদি না বাড়ে তাহলে রেমিট্যান্স ও রপ্তানির সাফল্যও অর্থনীতিতে স্থায়ী প্রভাব ফেলবে না।রাজস্ব ও নীতির সংগতি: কাঠামো ঠিক, কার্যকারিতা কমরফতানির এই ধস ও অভ্যন্তরীণ চাপে সরকার রাজস্ব কাঠামোয় সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়ন—এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে, যা কাঠামোগতভাবে একটি বড় পদক্ষেপ। তবে বাস্তবে এর প্রভাব এখনও রাজস্ব সংগ্রহে স্পষ্ট নয়। রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত এখনও ১০ শতাংশের নিচে—দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বনিম্নগুলোর একটি। এর অর্থ, নীতির নকশা সঠিক হলেও বাস্তবায়নের গতি ধীর।এই প্রেক্ষাপটে বলা যায়, সংস্কারের পথ তৈরি হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেই পথে হাঁটা এখনও শুরু হয়নি। যতক্ষণ না প্রশাসন ও রাজস্ব ব্যবস্থায় প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার গড়ে ওঠে, ততক্ষণ বাজেটের ঘাটতি সামলানো ও উন্নয়ন ব্যয় ঠিকভাবে চালানো কঠিন হবে।করণীয়: স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি তিন ধাপেএখন প্রয়োজন কেবল দিকনির্দেশনা নয়, বাস্তব রোডম্যাপস্বল্পমেয়াদে (০–৬ মাস): খাদ্য-জ্বালানি আমদানিতে শুল্ক শিথিল, নিত্যপণ্যে ওপেন-মার্কেট সাপ্লাই, মধ্যস্বত্বভোগীদের বিরুদ্ধে টাস্কফোর্স, রেমিট্যান্সে ছোট প্রণোদনা, ব্যাংকিংয়ে ‘ফাস্ট-ট্র্যাক’ ঝুঁকি পরিচ্ছন্নতা। এই প্যাকেজ মূল্যস্ফীতির আগুন কমাবে ও ডলারের প্রবাহ বাড়াবে।মধ্যমেয়াদে (৬–২৪ মাস): নমনীয় বিনিময় হার ও সুদনীতিতে ধাপে ধাপে সংস্কার, গ্যাস-বিদ্যুৎ মূল্য বাস্তবায়ন পুনর্বিবেচনা, রাজস্বে ই-ইনভয়েস ও রিস্ক-বেসড অডিট, রপ্তানিতে ক্রেডিট ইনস্যুরেন্স ও ডিউটি-ড্র-ব্যাক সুবিধা। এটি বিনিয়োগের হিসাবকে অনুকূলে টানবে।দীর্ঘমেয়াদে (২৪-৬০ মাস): ব্যাংক একীভূতকরণ, দক্ষতাভিত্তিক শ্রমবাজার, এলডিসি-উত্তর কৌশল ও লজিস্টিকস মডার্নাইজেশন। ম্যাক্রো-স্থিতিশীলতা ও প্রতিযোগিতা একসাথে শক্ত করাই হবে উন্নয়নের মৌলিক পথ।হানিমুন শেষ, এখন নীতি ও আস্থার পরীক্ষাএখানে পাল্টা মতও আছে—অনেকে বলছেন, “সুদ বাড়িয়ে মুদ্রাস্ফীতি নামানো সম্ভব, বাজার নিজেই ভারসাম্যে ফিরবে।” কিন্তু বাস্তবতা অন্য কথা বলে। সরবরাহের ধাক্কার সময় কেবল সুদ বাড়িয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল মেলে না বরং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা চাপে পড়ে, কর্মসংস্থান কমে যায়। আবার যদি ডলার পুরোপুরি বাজারের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়, তবে খাদ্য, ওষুধ ও জ্বালানির আমদানিও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই পথটা ধীরে, ধাপে ধাপে, বিশ্বাসযোগ্যভাবে ‘সিকোয়েন্সড’ হওয়াই এখন সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। আমি মনে করি, নীতির ভাষা যত কম জটিল, ততই তা মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়। সরকার কী করবে, কবে করবে, কীভাবে করবে—এ বিষয়ে আগেভাগেই পরিষ্কার বার্তা দিলে বাজারও স্থির হয়, জল্পনা কমে, ঝুঁকিও হ্রাস পায়। নীতির অনিশ্চয়তা কমলে বিনিয়োগকারীর আত্মবিশ্বাস বাড়ে, প্রকল্পের সম্ভাব্য মুনাফা বাড়ে, কর্মসংস্থানও ত্বরান্বিত হয়। এক কথায়, ‘নীতি-আস্থা’ বা policy predictability—এই মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে কার্যকর, অথচ সবচেয়ে সস্তা প্রণোদনা।এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক বাস্তবতাও উপেক্ষা করা যায় না। অন্তর্বর্তী সরকারের বয়স এখন প্রায় সোয়া এক বছর হতে চলেছে। অস্থিরতার মাঝেও তারা স্থিরতা ফিরিয়ে এনেছে কিন্তু অর্থনীতির ‘হানিমুন পিরিয়ড’ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তারা নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর করবে—যখন তাদের বয়স হবে প্রায় পৌনে দুই বছর। অর্থাৎ এই সরকার শিশুকাল পেরিয়ে কৈশোরে প্রবেশ করছে ঠিক সেই সময়ে যখন বিদায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই স্বল্প সময়েই তারা অর্থনীতিকে ‘আইসিইউ’  থেকে ‘কেবিনে’ তুলতে পেরেছে। কিন্তু ‘ওয়ার্ডে’ নিয়ে যাওয়ার মতো সময় তাদের হাতে আর থাকছে না আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে।সবশেষে বলা যায়, এই অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু সাফল্য থাকলেও অর্থনীতি এখনও সম্পূর্ণ সুস্থ নয়। রিজার্ভ ও রেমিট্যান্স দুটি অক্সিজেন সিলিন্ডার, কিন্তু বাকি অঙ্গগুলো দুর্বল। এখন দেশের সামনে ছয়টি বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে — বেকারত্ব, খাদ্য নিরাপত্তা, জ্বালানি নিরাপত্তা, উচ্চ সুদ, খেলাপি ঋণ এবং রপ্তানি মন্থরতা। অর্থাৎ অর্থনীতি ‘আইসিইউ’ থেকে ‘কেবিনে’ ফিরেছে, কিন্তু এখনও ‘ওয়ার্ডে’ ফেরেনি। পরবর্তী সরকার যদি এই ভিতের ওপর বাস্তব সংস্কার চালাতে পারে, সুদের হার কমিয়ে ব্যাংক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে কর্মসংস্থান ও খাদ্য-জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করে এবং রফতানিতে বৈচিত্র্য আনে তাহলে বাংলাদেশের অর্থনীতি আবার প্রাণ ফিরে পাবে। এখন আর প্রশংসার সময় নয় এটি কার্যকর সংস্কারের সময়।এই সংকটকাল যদি সাহসী ও সুসংহত নীতি পায় তবে ২০২৬ সালের বাংলাদেশ লিখবে এক নতুন অধ্যায়—যেখানে সংকট নয়, সংস্কারই হবে মূলধন।লেখক: ব্যাংকার এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষক[email protected]

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin