দুয়েক দিন আগের কথা। এশিয়া কাপে টিকে থাকতে হলে আফগানিস্তানকে হারাতে হবে—এই সমীকরণে কয়েকদিনের জন্য শ্রীলঙ্কার প্রতি বাংলাদেশের সমর্থকদের আবেগ বদলে গিয়েছিল। দীর্ঘদিনের বিরাগ-অনুভূতি চাপা দিয়ে, লঙ্কানদের জয়ের দিকেই তাকিয়ে ছিলেন তারা। শেষ পর্যন্ত তাই-ই হয়েছে, তাতে উচ্ছ্বাসে ভাসছে বাংলাদেশি সমর্থকরাও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলে নানারকম আত্মবিদ্রূপাত্মক মিম—কারও প্রোফাইলে শ্রীলঙ্কার পতাকা, আবার কেউ বাংলাদেশি হয়েও গায়ে চাপিয়েছেন লঙ্কান জার্সি।
গত সাত বছরে গড়ে ওঠা বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা দ্বৈরথ যেমন অনেক সময় বিব্রতকর ঘটনার জন্ম দিয়েছে, তেমনি এটাও সত্য, মুখোমুখি হলে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে বাড়তি তাগিদ কাজ করেছে। তাই এশিয়া কাপে শনিবারের ম্যাচ নিয়ে আগ্রহ তুঙ্গে—সুপার ফোর পর্বের প্রথম ম্যাচেই মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। ম্যাচ শুরু হবে আজ রাত সাড়ে ৮টায়। দেখাবে টি স্পোর্টস ও নাগরিক টিভি।
চারিথ আসালঙ্কার নেতৃত্বে শ্রীলঙ্কা এখন পর্যন্ত এশিয়া কাপে সবচেয়ে ধারাবাহিক। বি গ্রুপের তিন ম্যাচেই জয় পেয়েছে তারা, যার মধ্যে একটি আবার বাংলাদেশের বিপক্ষেও আছে। মজার ব্যাপার, হংকং-ই বরং শ্রীলঙ্কাকে বেশি চাপে ফেলেছিল; আফগানিস্তান বা বাংলাদেশ ততটা পারেনি।
কুশল মেন্ডিস ও কামিন্দু মেন্ডিসের ব্যাটিংয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করায় স্বস্তি ফিরে এসেছে লঙ্কান শিবিরে। এতদিন টপ-অর্ডারের ভরসা পাথুম নিসাঙ্কাকে একাই লড়তে হচ্ছিল, এবার তিনি পেয়েছেন সঙ্গী। টুর্নামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ পর্বে সেটাই বাড়তি আত্মবিশ্বাস যোগাচ্ছে শ্রীলঙ্কাকে।
অন্যদিকে, নিজেদের ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার সুযোগ বাংলাদেশের সামনে। কিছু পরিবর্তন ইতোমধ্যেই হয়েছে—পারভেজ হোসেন ইমনকে বাদ দিয়ে দলে আনা হয়েছে সাইফ হাসানকে। ফেরার ম্যাচে তিনি কিছুটা আশার আলো জাগালেও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেটিই হবে বড় পরীক্ষা। সর্বশেষ মোকাবেলায় ম্যাচের শুরুতেই টানা দুটি মেডেন ওভারে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছিল বাংলাদেশ। এবারও বোলিং কম্বিনেশন নিয়ে শঙ্কা রয়ে গেছে। বিশেষ করে সাইফ ও শামীম হোসেনের জুটি আগের ম্যাচে একেবারেই কাজে আসেনি।
সব মিলিয়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচের আভাস মিলছে। সুপার ফোরে প্রথম পয়েন্ট পাওয়াটাই হবে মূল লড়াই। অস্থায়ী শান্তির পর আবার নতুন করে নিজেদের প্রমাণের লড়াইয়ে নামতে প্রস্তুত দুই দল।