নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দল নিবন্ধনের তালিকায় ‘আমজনতার দল’ না থাকায় ইসির প্রধান ফটকের সামনে অনশনরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন দলটির নেতা তারেক রহমান। তার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে অ্যাম্বুলেন্স।
বুধবার (৫ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের সামনে টানা প্রায় ৩০ ঘণ্টা ধরে অনশন করছেন দলটির এই নেতা। তারেক রহমান বলেন, “আমৃত্যু অনশন করবো”।
দলের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, তারেক রহমান অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। স্যালাইনও নিচ্ছেন না। তার প্রেসার স্বাভাবিক থাকছে না। জরুরি পরিস্থিতিতে সেবা দেওয়ার জন্য নির্বাচন ভবনের অদূরেই রাখা হয়েছে অ্যাম্বুলেন্স।
এদিকে, তারেক রহমানের অনশনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা ইতোমধ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। অনশন স্থলে এসে বক্তব্য দিয়েছেন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরাও।
বুধবার রাত পৌনে আটটার দিকে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও সাংবাদিক আনিস আলমগীর তাকে দেখতে এসে বলেন, “যারা জুলাই যোদ্ধা বা মানুষের সঙ্গে আছে তাদের নিবন্ধন না দেওয়াটা হতাশাজনক। আশাকরি তিনি অনশন ভাঙবেন। নিজের শরীরের ক্ষতি করে আন্দোলন চালিয়ে যান এটা আমি পছন্দ করি না। রফিকুল আমীনের মতো বিতর্কিত লোক, তার সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব নেই, তার মতো একজন চিহ্নিত জেলখাটা লোক যদি দলের নিবন্ধন পান, তাহলে তারেকের মতো নিবেদিত প্রাণের দল কেন নিবন্ধন পাবে না।”
এর আগে দুপুরে গণঅধিকার পরিষদের সাধারষ সম্পাদক রাশেদ খাঁন তাকে দেখতে এসে বলেন, “ডেসটিনির দল যদি নিবন্ধন পায়, তারেকের দল কেন পাবে না। তারেক রহমান ভাই যে আন্দোলন করছে এই আন্দোলন যৌক্তিক এবং তার দল আমজনতার দলকে অবশ্যই নিবন্ধন দিতে হবে।”
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) নির্বাচন কমিশন তিন দলকে—জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্ক্সবাদী) এবং বাংলাদেশ আম জনগণ পার্টি—নিবন্ধন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে তালিকা থেকে ছিটকে পড়ে তারেক রহমানের আমজনতার দল। সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর বিকেলেই আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের মূল ফটকের সামনে অনশনে বসেন তিনি।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ গতকাল বলেন, “চূড়ান্ত পর্যালোচনা শেষে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্ক্সবাদী) এবং বাংলাদেশ আম জনগণ পার্টিকে নিবন্ধন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এখন পত্রিকায় গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে দাবি-আপত্তি চেয়ে। পরবর্তীতে সেসব নিষ্পত্তি করে চূড়ান্ত নিবন্ধন প্রদান করা হবে।”