পাসপোর্ট-মোবাইল ফেরত না পেয়ে কাঁদলেন মেঘনা আলম

পাসপোর্ট-মোবাইল ফেরত না পেয়ে কাঁদলেন মেঘনা আলম

প্রতারণা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে রাজধানীর ধানমণ্ডি থানার মামলায় জব্দ করা পাসপোর্ট, মোবাইল ও ল্যাপটপ ফেরতের আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। শুনানি শেষে আদলত প্রাঙ্গণে তাকে অঝোরে কাঁদতে দেখা যায়। পরে সাংবাদিকদের সামনে তিনি বলেন, তারা (রাষ্ট্রপক্ষ) আমার বিরুদ্ধে একটার পর একটা মিথ্যা বলে যাচ্ছে। আমাকে সব মানুষের সামনে অপমান করছে। আদালতে যদি একটার পর একটা মিথ্যা বলতে থাকে, আমরা কীভাবে ন্যায় বিচার পাবো? 

মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত মেঘনা আলমের আবেদন নাকচ করেন। পরে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে তিনি এ কথা বলেন।

এদিন সকাল ১১টার দিকে হাতে কুরআন ও মাথায় হিজাব পরে আদালতে আসেন তিনি। কিছুক্ষণ পর শুনানি শুরু হয়। 

শুনানিতে মেঘনা আলম বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে পাসওয়ার্ড দিয়েছি। তার সঙ্গে যোগাযোগ আছে। তিনি বলেছেন, আপনাকে আসতে হবে না। আনলক করা গেছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমার একটা গুরুত্বপূর্ণ ট্যুর আছে। মোবাইল ও পাসপোর্ট আমার জন্য খুবই জরুরি। 

শুনানি শেষে আসামি পক্ষের আইনজীবী মহসীন রেজা সাংবাদিকদের উদ্দেশ বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে সময় চেয়ে একটি পিটিশন দেন। সেখানে তিনি ফরেনসিক রিপোর্ট শেষ না হওয়ায় সময়ের আবেদন করেন। সে কারণে আজ পাসপোর্ট ফেরত চেয়ে আমাদের করা পিটিশন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন। 

তিনি বলেন, ফরেনসিক রিপোর্ট ইচ্ছাকৃতভাবে দেরি করা হচ্ছে। উনি (মেঘনা আলম) জামিন পেয়েছেন এপ্রিলের ২৯ তারিখে। পাসপোর্ট, মোবাইল ও ল্যাপটপের আবেদনের পর ২ মাস পার হয়েছে। একটি ফরেনসিক করতে দুই মাস সময় লাগে না। বিচার প্রক্রিয়া দেরি করার জন্যই এটা করা হচ্ছে। পরবর্তী তারিখের আগে আশা করি আমরা এসব ফেরত পাবো।

ক্রন্দনরত অবস্থায় মেঘনা আলম বলেন, তারা (রাষ্ট্রপক্ষ) আমার বিরুদ্ধে একটার পর একটা মিথ্যা বলে যাচ্ছে। আমার মানবাধিকার ক্ষুণ্ন করেছে। ডিবির তদন্ত কর্মকর্তারা আমাকে বলেছে, তারা আমার দেওয়া পাসওয়ার্ড দিয়ে মোবাইল ও ল্যাপটপ ওপেন করতে পেরেছে। অথচ আজ আদালতে শুনলাম, আমার পক্ষ থেকে নাকি পাসওয়ার্ড দেওয়া হয়নি। আমি ডিভাইস ফেরত চাই। আমি কেন পাসওয়ার্ড দিবো না? 

সৌদি রাষ্ট্রদূতের ইশারায় ন্যায় বিচার পাচ্ছেন না অভিযোগ জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা বারবার বিদেশিদের হাত থেকে আমাদের দেশকে রক্ষা করেছি। কেন সৌদি আরবের একজন রাষ্ট্রদূতের ইশারায় আমাদের দেশের ন্যায় বিচার বন্ধ হয়ে থাকবে? সে ব্যক্তি আমাকে বিয়ের আংটি পরিয়ে ঘরে তুলতে চেয়েছেন। তাকে আমি রিজেক্ট করেছি। আমাকে কেন? দিনের পর দিন হয়রানি করা হচ্ছে? এখন আমাকে মৃত্যুর হুমকি দেয়। সরকার নাকি ওয়াদাবদ্ধ হয়েছে, আমাকে মৃত্যুদণ্ড দিবে। আমার দেশের সরকার কীভাবে বিদেশিদের কাছে ওয়াদাবদ্ধ হয়? স্বৈরাচারের সময়ের মতো এখনও বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার ভাবমূর্তি নষ্ট করা হচ্ছে। 

ড. ইউনূসের সফর সঙ্গী হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ২০১৪ সালে ড. ইউনূস নিজে প্রতিযোগিতা করে আমাকে খুঁজে এনেছিলেন তার সঙ্গে আয়াল্যান্ডের সফর সঙ্গী হওয়ার জন্য। ইউনূসের ভাইয়ের ছেলে আমার জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তা দেখে রেফার করেন। ঈসার সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আমার দেখা হয়। তার কাছে পরিচিত হয়ে আমার আন্তর্জাতিক খ্যাতি পাওয়ার কিছু নেই। বরং তিনি অন্যদের সঙ্গে মিস আর্থ বাংলাদেশ এসেছে বলে নিজেকে জাহির করেছেন। আদালতে দাঁড়িয়ে মিথ্যা বলার বিচার ব্যবস্থাকে ধিক্কার জানাই। 

কুরআন নিয়ে আসার কারণ জানিয়ে বলেন, সৌদি অ্যাম্বাসি আমাকে আল কুরআন দিয়েছে। সৌদিরা যখন কাউকে মর্যাদার যোগ্য মনে করে তখন তার হাতে আল কুরআন তুলে দেয়। তারা আমাকে সে সম্মান দেখিয়েছেন। সেজন্য আমি তাদের সে সম্মান বহন করছি। আপনাদের মধ্যে যদি কোনও মানবতা থাকে, তাহলে আমি বলবো, আপনারা এ হয়রানি থেকে আমাকে মুক্ত করেন। 

বিচার সংশয় পোষণ করে তিনি বলেন, শুরু থেকে ডিবি বলেছেন, মেঘলা আলম। পিপি বলেছেন, মেঘলা আলম। আমার ছোট্ট একটি নাম যদি ঠিক মতো বলতে না পারে, আমার বিরুদ্ধে কীভাবে অনুসন্ধান করবে। আমার পরিচয় দিচ্ছে, মডেল। অথচ আমার পরিচয় হচ্ছে রাজনৈতিক প্রশিক্ষক। আমি ২০২০ সালে যে শুধু মিস আর্থ হয়েছি, তা নয়। গত দুই বছর ধরে আমি মিস আর্থ বাংলাদেশের ডিরেক্টর। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জাতীয় পর্যায়ের কাজ আমার। আমার এ পরিচয় গোপন করে, আমাকে মডেল হিসেবে উপস্থাপন করছে বিচার ব্যবস্থা। তারা তো আমার সম্পর্কে কিছুই জানে না। আজকে আমি দাঁড়িয়ে আছি, শুধু আমার জন্য না। বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের জন্য আমার লড়াই। 

এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি আশা করছি, ন্যায় বিচার পাবো। আমাদের দেশের দায়িত্বে আছেন ড. ইউনূস। কিন্তু উনাকে ভালোভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে না।  

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুনুর রশিদ বলেন, মেঘনা আলমের গ্রেফতারের সময় তদন্ত কর্মকর্তা তার কাছ থেকে দুটি মোবাইল, একটি ল্যাপটপ ও একটি পাসপোর্ট জব্দ করেন। গত ২৯ জুলাই জব্দ করা জিনিসগুলো তার জিম্মায় নেওয়ার জন্য আবেদন করেন। 

আদালত আসামি পক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি নিয়ে আদেশে বলেন, জব্দ করা আলামতগুলো বিশেষজ্ঞ দ্বারা পরীক্ষা করা হয়েছে কিনা? মোবাইল ও ল্যাপটপে রাষ্ট্র বিরোধী কোনও উপাদান রয়েছে কিনা? সে বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য করা প্রয়োজন। তদন্ত কর্মকর্তা ২৬ আগস্ট আদালতে মোবাইল ও ল্যাপটপের পাসওয়ার্ড চেয়ে আবেদন করেন। 

তিনি আরও বলেন, গত ৩১ আগস্ট আদালত পাসওয়ার্ড দেওয়ার জন্য মেঘনা আলমকে নির্দেশ দেন। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা এখনও সেই পাসওয়ার্ড পাননি। সেজন্য ফরেনসিক শেষ করা সম্ভব হয়নি। আজকেও তিনি আবেদন করেন। আমরা আদালতকে জানিয়েছি, মেঘনা আলম এখনও পাসওয়ার্ড না দেওয়ায় তার ফরেনসিক হয়নি। তার মোবাইল ও ল্যাপটপে কোনও রাষ্ট্র বিরোধী উপাদান আছে কিনা জানা যায়নি। এর মধ্যে যদি তাকে পাসপোর্ট দিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে সে বিদেশে পালিয়ে যেতে পারে।

Comments

0 total

Be the first to comment.

জুলাইয়ের মামলা থেকে বাঁচানোর কথা বলে চাঁদাবাজি, ৩ সমন্বয়ক কারাগারে BanglaTribune | অন্যান্য

জুলাইয়ের মামলা থেকে বাঁচানোর কথা বলে চাঁদাবাজি, ৩ সমন্বয়ক কারাগারে

জুলাই আন্দোলনের মামলা থেকে অব্যাহতির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং সাড়ে পাঁ...

Sep 12, 2025

More from this User

View all posts by admin