জনপ্রিয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোম্পানি ওপেনএআই ঘোষণা করেছে, যাচাইকৃত প্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীরা এখন থেকে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে ইরোটিক (প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী) কনটেন্ট তৈরি করতে পারবেন। কোম্পানিটি একে বলছে, ‘প্রাপ্তবয়স্কদের প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবেই আচরণ করা’ নীতি।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) এক ঘোষণায় ওপেনএআই জানায়, তারা শিগগিরই চ্যাটজিপিটির নতুন সংস্করণ চালু করতে যাচ্ছে, যেখানে ব্যবহারকারীরা নিজের মতো করে এআই অ্যাসিস্ট্যান্টের ব্যক্তিত্ব কাস্টমাইজ করতে পারবেন। এতে থাকবে আরও মানবসুলভ প্রতিক্রিয়া, ইমোজির ঘন ঘন ব্যবহার কিংবা বন্ধুত্বপূর্ণ কথোপকথনের ধরন বেছে নেওয়ার সুযোগ।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি আসছে ডিসেম্বরে, যখন কোম্পানি বয়স যাচাই ব্যবস্থা চালু করবে। এতে বয়স-নির্ভর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করে যাচাইকৃত প্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের জন্য ইরোটিক কনটেন্টের অনুমতি দেওয়া হবে। তবে ওপেনএআই এখনো জানায়নি, বয়স যাচাই বা কনটেন্ট নিরাপত্তার জন্য তারা কী ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করবে।
এর আগে, গত সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠানটি ১৮ বছরের নিচের ব্যবহারকারীদের জন্য আলাদা চ্যাটজিপিটি সংস্করণ চালু করে, যেখানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অশালীন বা যৌনবিষয়ক কনটেন্ট ব্লক করা হয়।
ওপেনএআই আরও জানায়, তারা এমন এক প্রযুক্তি তৈরি করছে যা ব্যবহারকারীর আচরণ বিশ্লেষণ করে অনুমান করতে পারবে তিনি ১৮ বছরের বেশি না কম।
এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে ওপেনএআই-এর সিইও স্যাম অল্টম্যান বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি এড়াতে কড়া নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আনার পর অনেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীর কাছে চ্যাটজিপিটি ‘কম উপভোগ্য বা কম কার্যকর’ হয়ে উঠেছিল।
এই কঠোর নিরাপত্তা নীতিগুলো আসে এক কিশোরের আত্মহত্যার ঘটনায় বিতর্কের পর। চলতি বছরের শুরুতে ক্যালিফোর্নিয়ার কিশোর অ্যাডাম রেইন আত্মহত্যা করেন। তার বাবা-মা আগস্টে মামলা করেন— অভিযোগ, চ্যাটজিপিটি তাকে আত্মহত্যার পদ্ধতি সম্পর্কে নির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছিল।
দুই মাস পর অল্টম্যান জানান, কোম্পানি ইতোমধ্যেই মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কিত গুরুতর সমস্যাগুলো নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিও) কয়েকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে— যার মধ্যে ওপেনএআইও রয়েছে। তদন্তের লক্ষ্য, শিশু ও কিশোরদের উপর এআই চ্যাটবটগুলোর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব মূল্যায়ন করা।সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান