প্রাথমিকে ছুটি কমিয়ে ৬০ দিন করা হচ্ছে: ডিজি শামসুজ্জামান

প্রাথমিকে ছুটি কমিয়ে ৬০ দিন করা হচ্ছে: ডিজি শামসুজ্জামান

সাতক্ষীরা: শিক্ষার্থীদের পাঠদানের সময় বাড়াতে প্রাথমিক বিদ‌্যাল‌য়ে ছু‌টি ক‌মি‌য়ে ৬০ দিন করা হ‌চ্ছে ব‌লে জা‌নি‌য়ে‌ছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) আবু নূর মো. শামসুজ্জামান।

রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) সাতক্ষীরা শহরের লেকভিউ রিসোর্টে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সির (জাইকা) কারিগরি সহযোগিতায় এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ আয়োজিত শিক্ষক‌দের ফুড সেফ‌টি অ‌্যাওয়ার‌নেস বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তি‌নি এ তথ‌্য জানান।

ডিজি ব‌লেন, দেশে বছরে মাত্র ১৭৯ দিন স্কুল খোলা পাওয়া যায়। শিক্ষার্থীদের পাঠদানের সময় বাড়াতে ছুটির ক্যালেন্ডারে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আমাদের বছরে ছুটি ছিল প্রায় ৭৯ দিন। তা কমিয়ে এবার ৬০ দিনের মতো করা হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা আরও বেশি সময় স্কুলে থাকতে পারবে এবং পাঠ গ্রহণের সুযোগ পাবে।

এ সময় তিনি স্কুলের আশপাশে অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, প্রায় সব স্কুলের বাউন্ডারি ওয়ালের বাইরে সারি সারি দোকান। এসব দোকানে ঝালমুড়ি, ফুচকা, চটপটি, আইসক্রিমসহ নানা মুখরোচক খাবার বিক্রি হয়। কিন্তু এগুলোতে কোনো স্বাস্থ্যবিধি মানা হয় না। ফুচকা বিক্রেতারা এক বালতি পানি দিয়েই সারাদিনের সব কাজ সারছে। একই পানি দিয়ে প্লেট ধোয়া, হাত ধোয়া, এমনকি ঘাম মোছার কাজও হচ্ছে। এরপর একটি গামছা দিয়েই সব মুছে ফেলা হচ্ছে। অথচ আমরা সেসব খাবার খাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, অন্যদিকে সামর্থ্যবানরা তথাকথিত ‘জাঙ্কফুট’ খাচ্ছেন, যেখানে কেমিক্যালসহ নানা অস্বাস্থ্যকর উপাদান ব্যবহার করা হয়। খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আমরা কোথাও দাঁড়িয়ে নেই। শিক্ষকদের মনে রাখতে হবে—‘ফুড সিকিউরিটি’ ও ‘ফুড সেফটি’। শুধু খাবারের প্রাপ্যতা নয়, ‌নিরাপদ খাবারের নিশ্চয়তাও সময়ের দাবি।

কর্মশালায় জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪০জন শিক্ষক অংশ নেন।

প্রশিক্ষণে শিশুদের জন্য নিরাপদ খাদ্যের প্রাথমিক ধারণা, মৌলিক স্বাস্থ্যবিধি, করণীয়-বর্জনীয় ও হাত ধোয়ার পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত ছিল। শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের এসব বিষয়ে সচেতন করবেন।

কর্মশালায় জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. জাকারিয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান, এসটিআইআরসি প্রকল্পের পরিচালক শ্রাবস্তী রায়, প্রকল্পের টিম লিডার আতসুশি কইয়ামা, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রুহুল আমীন এবং জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার দীপংকর দত্ত।

খাদ্য নিরাপদ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. জাকারিয়া বলেন, আমরা সবাই সুস্বাস্থ্য চাই। সুস্বাস্থ্যের দুটি মূলনীতি হলো—যে খাদ্য গ্রহণ করবেন তা যেন নিরাপদ হয় এবং সুস্বাস্থ্যের নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হবে। এ দুটি বিষয় মানা না হলে চিকিৎসক যতই চেষ্টা করুন না কেন, সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, আগুন থেকে রক্ষা করে ফায়ার সার্ভিস নয়, বরং নিজেদের সচেতনতা। একইভাবে চিকিৎসা ব্যবস্থা আপনাকে বিপদ থেকে উদ্ধার করবে, কিন্তু নিজের স্বাস্থ্য রক্ষার দায়িত্ব প্রথমে আমাদেরই নিতে হবে।

এমআরএম

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin