দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এডিস মশাবাহিত এ রোগে চলতি বছর মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ১৯২।
আজ রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, রোববার সকাল আটটা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে দুজন ও উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮৪৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময় ডেঙ্গু নিয়ে সবচেয়ে বেশি ১৬৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন বরিশাল বিভাগের হাসপাতালগুলোতে। এরপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৬৪ জন রোগী ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন (সিটি করপোরেশন ব্যতীত)। একই সময় হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬৫৮ জন রোগী।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৪৬ হাজার ৫১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৬০ দশমিক ৫ শতাংশ পুরুষ ও ৩৯ দশমিক ৫ শতাংশ নারী।
চলতি বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে ডেঙ্গুর প্রকোপ সর্বোচ্চ ছিল। তবে ২১ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গুতে এক দিনে সর্বোচ্চ ১২ জনের মৃত্যু হয়। এর আগে ১১ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গুতে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সব মিলিয়ে চলতি মাসে এখন পর্যন্ত ৭০ জন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে; যা এ বছর এক মাসে সর্বোচ্চ মৃত্যু। এর আগে ডেঙ্গুতে জুলাই মাসে সর্বোচ্চ ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
দেশে ২০০০ সালে যখন নতুন করে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়, তখন তা ছিল মূলত রাজধানীকেন্দ্রিক। কিন্তু দিন দিন এটা ছড়িয়ে গেছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। গত বছর থেকেই ডেঙ্গু ঢাকার বাইরে ছড়িয়েছে ব্যাপক হারে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ঢাকার বাইরে আক্রান্ত হয়েছেন ৩০ হাজার ৮৫৪ জন। আর ঢাকায় আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার ৯৭৭।
ডেঙ্গু মোকাবিলায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নানা সীমাবদ্ধতা থাকলেও এখানে বিশেষ করে মশা নিয়ন্ত্রণে কিছু উদ্যোগ আছে। কিন্তু দেশের অন্যত্র এটা প্রায় অনুপস্থিত। ঢাকার বাইরে, বিশেষ করে পৌরসভাগুলোতে মশা নিয়ন্ত্রণে প্রায় কোনো উদ্যোগই নেই। আবার ঢাকার বাইরে বেশির ভাগ এলাকায় ডেঙ্গুর চিকিৎসারও কোনো কাঠামো গড়ে ওঠেনি। চলতি বছর দেশে প্রায় ৫০ শতাংশ ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে। এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যুর কারণ বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পেয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর অর্থ হলো, বেশির ভাগ রোগী একেবারের মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে পৌঁছেছে।