চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অধিকার সচেতন শিক্ষার্থীবৃন্দ’ এর সদস্যরা এবার সম্পূর্ণ প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের অপসারণের দাবি তুলেছেন। এ দাবিতে আজ সোমবার বেলা পাঁচটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলার ঝুপড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেন তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নারী অঙ্গনের সংগঠক ও মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া শিকদার। তিনি বলেন, সাবেক প্রক্টর তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরীফকে অপসারণ করলেও প্রক্টরিয়াল বডিকে অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে ওই বডির নানা অসংগতি ও দায়িত্বহীনতার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো হচ্ছিল। এ কারণে শিক্ষার্থীরা অনশন কর্মসূচিতেও গিয়েছিলেন। তাঁরা অভিযোগ করেন, প্রক্টরের দায়িত্বে থেকে নারীবিদ্বেষী মন্তব্য, ভিকটিম ব্লেমিং, নিরাপত্তার ক্ষেত্রে পক্ষপাতমূলক আচরণ এবং শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনে সাড়া না দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে।
শিক্ষার্থীদের লিখিত বক্তব্যে নতুন প্রক্টরের জন্য কিছু প্রত্যাশার কথা জানায় শাখা বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি জশদ জাকির। সেগুলো হলো—সার্বক্ষণিক প্রক্টরের ক্যাম্পাসে অবস্থান ও আবাসিক কোয়ার্টারে থাকা বাধ্যতামূলক করা, দলকানা না হওয়া, নারীবিদ্বেষী আচরণ না করা, নিরাপত্তার প্রশ্নে পক্ষপাতহীন থাকা এবং শিক্ষার্থীদের যেকোনো প্রয়োজনে দ্রুত সাড়া দেওয়া। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের সাত দফা দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রক্টরিয়াল বডির কাঠামো পরিবর্তনের দাবি তুলেছিলাম। এ ছাড়া আগের প্রক্টর নানা নারীবিদ্বেষী মন্তব্য করেছেন, যা আমরা মেনে নিতে পারিনি।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলা বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ওমর সমুদ্র, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সংগঠক ধ্রুব বড়ুয়া, শাখা বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি জশদ জাকির, সাংগঠনিক সম্পাদক রাম্রা সাইন মারমা, রাজনৈতিক শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক আহমেদ মুগ্ধ, দপ্তর সম্পাদক নাইম শাহজাহান, নারী অঙ্গনের সংগঠক ও মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া শিকদার এবং পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের (ইউপিডিএফ-সমর্থিত) সাধারণ সম্পাদক সুদর্শন চাকমা।
শাখা গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সংগঠক ধ্রুব বড়ুয়া বলেন, ‘অনশনের পর উপাচার্য আমাদের আশ্বস্ত করেছিলেন। কিন্তু পরে তিনি জানান, শিক্ষক রাজনীতির কারণে সব দাবি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। বাকি প্রক্টরদের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ওমর সমুদ্র বলেন, ‘সহকারী প্রক্টর নুরুল হামিদ কাননসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আমরা অভিযোগ দিয়েছিলাম। তারপরও তাদের দায়িত্ব বাড়ানো হয়েছে। আশা করি নতুন প্রক্টর শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি শুনবেন।’
১০ সেপ্টেম্বর (বুধবার) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকার সচেতন শিক্ষার্থীবৃন্দের ব্যানারে অনশন কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন বাংলা বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী ওমর সমুদ্র, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সংগঠক ধ্রুব বড়ুয়া, শাখা বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর জশদ জাকির, সাংগঠনিক সম্পাদক রাম্রা সাইন মারমা, রাজনৈতিক শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক আহমেদ মুগ্ধ, দপ্তর সম্পাদক নাইম শাহজাহান, নারী অঙ্গনের সংগঠক ও মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া শিকদার, বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনের সংগঠক ঈশা দে ও পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের (ইউপিডিএফ-সমর্থিত) সাধারণ সম্পাদক সুদর্শন চাকমা। এর মধ্যে জশদ জাকির বেলা তিনটার দিকে যুক্ত হয়েছিলেন।
প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ ছাড়া অনশনরত শিক্ষার্থীদের অন্য দাবির মধ্যে ছিল গ্রামবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষে আহত শিক্ষার্থীদের মানসম্মত চিকিৎসার নিশ্চয়তা, ক্যাম্পাসে নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা, হামলার ভিডিও প্রকাশকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, প্রকৃত অপরাধীদের বিচার, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমন্বয় কমিটি গঠন ও সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন।
উল্লেখ্য, স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের গত ৩০ ও ৩১ আগস্ট কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২০০ শিক্ষার্থী আহত হন। সংঘর্ষের পর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ দাবি করেন ‘অধিকার সচেতন শিক্ষার্থীবৃন্দ’।