আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণায় জড়িত এক চক্রের মূলহোতাসহ ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৪। চাকরি প্রত্যাশীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া এই প্রতারক চক্র দীর্ঘদিন ধরে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় সক্রিয় ছিল।
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মিরপুরে র্যাব-৪ এর সদর দফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কোম্পানি কমান্ডার শাহাবুদ্দিন কবীর এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন,‘সম্প্রতি সোহেল রানা নামে একজন আমাদের কাছে অভিযোগ করেন তার ছোট ভাই প্রতারণার শিকার হয়েছেন। ভুক্তভোগীর ছোট ভাই ১৪ সেপ্টেম্বর সফিপুর আনসার ব্যাটালিয়ন একাডেমির নিয়োগ পরীক্ষায় প্রাথমিকভাবে বাদ পড়েন। পরে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি মোবাইলে যোগাযোগ করে নিজেকে সেনাবাহিনীর মেজর সোহেল হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি দাবি করেন, তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে, ১২ লাখ টাকা দিলে তিনি চাকরি নিশ্চিত করতে পারবেন।’
পরে ঢাকা মহানগরীর শাহ আলী থানার একটি হোটেলে ভুক্তভোগীর সঙ্গে দেখা করেন সোহেল রানা। সেখানে প্রতারণার হোতা সোহেল রানা নিজেকে সেনাবাহিনীর মেজর ও তার সহযোগী তৈয়বুর রহমানকে কর্নেল হিসেবে পরিচয় করান। চাকরি দেওয়ার আশ্বাসে তারা ভুক্তভোগীর কাছ থেকে প্রথমে ব্যাংকের মাধ্যমে চার লাখ টাকা ও পরে বিকাশ-নগদে আরও এক লাখ টাকা নেন। নিয়োগপত্র দেওয়ার পর ভুক্তভোগী কাগজপত্র যাচাই করে দেখতে পান সেটি ভুয়া।
অভিযোগ পাওয়ার পর র্যাব-৪ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে মঙ্গলবার রাতে ঢাকা ও সাভারের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। এ সময় প্রতারক চক্রের মূলহোতাসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার ছয়জন হলেন- সোহেল রানা ওরফে মিলন (৩৩), তৈয়ব ওরফে মোস্তাক (৪৬), মো. সজীব মুন্সি (৪৪), শামীম আহমেদ (৪৫), মো. মওলাদ আলী খান (৫২) এবং সোহেল রানা ওরফে জিন্নাহ (৩৭)।
গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে একটি প্রাইভেটকার, সাতটি মোবাইল ফোন, দুটি ভুয়া নিয়োগপত্র ও ৯৫,২০০ টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া সেনাবাহিনীতে চাকরি দেওয়ার নাম করে আনা আরেক ভুক্তভোগীকেও উদ্ধার করা হয়।
র্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন তারা সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্রের সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জেলার চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে তারা সেনাবাহিনী, পুলিশ, আনসারসহ সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে এবং অতীতে র্যাব-৪ কর্তৃক দু’বার গ্রেফতার হয়েছিল।