অস্কারজয়ী অভিনেত্রী জেনিফার লরেন্স সম্প্রতি দ্য নিউ ইয়র্কার-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তিনি এখন আর সিনেমা প্রচারের সময় মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। প্রায় ১৫ বছর ধরে তিনি ট্যাবলয়েড মিডিয়ার প্রিয় মুখ হলেও, বিষয়টিকে তিনি ‘অভিনয়জীবনে চাপ সৃষ্টি’ বলে মনে করছেন।
পুরনো সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গ উঠতেই লরেন্স হেসে বলেন, ‘ও না, সেগুলো কত অতিরিক্ত! কত বিব্রতকর ছিলো!’
প্রথমদিকে তার খোলামেলা, আত্ম-বিদ্রূপাত্মক আচরণে দর্শকরা মুগ্ধ ছিলেন। কিন্তু পরে অনেকেই দাবি করতে থাকেন—সবটাই নাকি অভিনয়!
লরেন্স বললেন, ‘‘ওটা আমার আসল ব্যক্তিত্বই ছিল, কিন্তু একইসঙ্গে একটা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। আমি মানুষকে বোঝাতে চাইতাম—আমি ‘তারকা’ নই। তাদের মতো সাধারণ। এখন ওই সাক্ষাতকারগুলো দেখি আর মনে হয়, ‘কি বিরক্তিকর একটা মেয়ে আমি!’ আমি এখন বুঝতে পারি, এমন কাউকে বারবার দেখা কতটা ক্লান্তিকর হতে পারে। আরিয়ানা গ্র্যান্ডে যেভাবে আমাকে নকল করেছিল, একদম নিখুঁত ছিল।” jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw6901ff450627d" ) ); ২০১৬ সালের এসএনএল–এর এক স্কেচে গ্র্যান্ডে লরেন্সকে নকল করে বলেছিলেন, ‘আমি তো স্ন্যাক খাই খুব! প্রিঙ্গলস আমার প্রিয়, কেউ না দেখলে পুরো ক্যানটাই খেয়ে ফেলি।’
দ্য নিউ ইয়র্কার-কে লরেন্স কথা প্রসঙ্গে বলেন, “আমি বেশ কিছু সিনেমায় দর্শকদের মন জয় করতে পারিনি আমার সিনেমা বা রাজনৈতিক মতের কারণে নয়, বরং আমার ব্যক্তিত্বের কারণে। তখন পরিবেশটাই আমার জন্য ‘আনহ্যাবিটেবল’ হয়ে গিয়েছিল।”
তিনি আরও জানান, ৬ বছরে ১৬টি সিনেমা করার পর তিনি দুই বছরের জন্য হলিউড থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। কিছু সিনেমা বক্স অফিসে ব্যর্থ হওয়ায় তার জনপ্রিয়তাও তলানিতে পৌঁছে যায় তখন।
২০২১ সালে ভ্যানিটি ফেয়ার-এ তিনি বলেছিলেন, ‘‘আমার মনে হচ্ছিল, সবাই আমার ওপর বিরক্ত। আমিও নিজের ওপর বিরক্ত হয়ে গিয়েছিলাম। এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিলাম, যেখানে আমি যা-ই করি, কেউই খুশি হয় না। রেড কার্পেটে হাঁটলেও মানুষ বলত, ‘সে দৌড়ালো না কেন?’’
লরেন্স আরও বলেন, ‘আমি সারাজীবন মানুষকে খুশি রাখার চেষ্টা করেছি। কাজ করলেই মনে হতো—কেউ আমার ওপর রাগ করবে না। কিন্তু একটা সময় বুঝলাম, শুধু আমার অস্তিত্বই অনেককে বিরক্ত করছে। তখনই উপলব্ধি করি, কাজ বা ক্যারিয়ার কখনও আত্মার শান্তি দিতে পারে না।’ jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw6901ff45062b2" ) ); আশার কথা, দীর্ঘ বিরতির পর লরেন্স আবারও আলোচনায় ফিরে এসেছেন ‘ডাই মাই লাভ’ সিনেমার মাধ্যমে। লিন রামসে পরিচালিত এই সাইকোড্রামায় তার সহ-অভিনেতা রবার্ট প্যাটিনসন। ছবিতে তিনি এক নারীর চরিত্রে, যার জীবন ভেঙে পড়ে বিবাহ ও মাতৃত্বের টানাপোড়েনে।
সিনেমাটি প্রথম প্রদর্শিত হয় এ বছরের কান চলচ্চিত্র উৎসবে। জানা যায়, কিংবদন্তি পরিচালক মার্টিন স্করসেজি নিজেই লরেন্সকে এই ছবিতে অভিনয়ের পরামর্শ দেন।
স্করসেজি বলেছিলেন, “আমি ‘ডাই মাই লাভ’ উপন্যাসটা পড়ে ভাবলাম, এটা জেনিফারের জন্য একদম উপযুক্ত। আমি তাকে বলেছিলাম, ‘এটাই তোমার জন্য চ্যালেঞ্জ। আরামদায়ক চরিত্র ভুলে যাও, ঝুঁকি নাও।”
মুবি প্ল্যাটফর্ম সিনেমাটি মুক্তি দেবে আগামী ৭ নভেম্বর, প্রেক্ষাগৃহে। এই সিনেমার সুবাদে জেনিফার লরেন্স এখন যদিও আবার প্রচারে ফিরেছেন, তিনি স্বীকার করছেন, ‘আমি এখন অনেক শান্তিতে আছি। হলিউড বিশাল এক জগৎ, কিন্তু সবকিছুরই একটা সীমা আছে। আমি সেই সীমা এখন অতিক্রম করে ফেলেছি।’ jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw6901ff45062df" ) ); সূত্র: ভ্যারাইটি