নতুন স্মার্টফোন এখন বেশ ব্যয়বহুল। বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক–সংক্রান্ত নীতির কারণে দাম আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ অবস্থায় অনেকেই টাকা বাঁচাতে পুরোনো বা সেকেন্ডহ্যান্ড ফোন কেনার দিকে ঝুঁকছেন।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিসিএস ইনসাইট জানায়, ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের বাজার এখন নতুন ফোনের বাজারের চেয়েও দ্রুত বাড়ছে। প্রতি বছর নতুন মডেল আসার সঙ্গে সঙ্গে অনেকে পুরোনো ফোন বিক্রি বা এক্সচেঞ্জ করে দেন, অথচ সেগুলোর বেশির ভাগই এখনও ব্যবহারযোগ্য।
কেন সেকেন্ডহ্যান্ড ফোন জনপ্রিয়
যারা বাজেট বাঁচাতে চান, তাদের জন্য পুনঃনির্মিত ফোন ভালো বিকল্প হতে পারে। এসব ফোন নতুনের চেয়ে ১৫ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত সস্তা হয়। এখন এগুলো পাওয়া যায় ওয়ারেন্টি, কিস্তি সুবিধা ও বিক্রয়োত্তর সেবাসহ।
কোথায় পাবেন নির্ভরযোগ্য সেকেন্ডহ্যান্ড ফোন
সিসিএস ইনসাইটের তথ্যমতে, বিশ্বব্যাপী সেকেন্ডহ্যান্ড ফোন বাজারের প্রায় ৬০ শতাংশ দখলে রেখেছে অ্যাপল, এরপর রয়েছে স্যামসাং (১৭ শতাংশ)। বাকি অংশে আছে শাওমি ও অন্যান্য চীনা ব্র্যান্ড।
তবে অনলাইনে কেনাকাটার সময় প্রতারণার আশঙ্কাও থাকে। তাই বিশ্বস্ত বিক্রেতা ও ওয়েবসাইট বেছে নেওয়া জরুরি।
বিশেষায়িত কিছু প্ল্যাটফর্ম যেমন গ্যাজেল, ব্যাক মার্কেট, সপ্পা, কিংবা ই-ব্যা ব্যবহার করতে পারেন। বড় রিটেইলার বেস্টবাই, অ্যামাজন বা মোবাইল অপারেটররাও রিফার্বিশড ফোন বিক্রি করে। এমনকি অ্যাপল ও স্যামসাং–এর নিজস্ব ওয়েবসাইটেও পাওয়া যায় এসব ডিভাইস।
অ্যাপল ও স্যামসাংয়ের রিফার্বিশড ফোন সাধারণত তাদের নিজস্ব টেকনিশিয়ানদের মাধ্যমে পরীক্ষা–নিরীক্ষা করা হয়। ফলে নির্ভরযোগ্যতা বেশি হলেও দাম তুলনামূলক কিছুটা বেশি হতে পারে।
রিফার্বিশড বনাম ব্যবহৃত ফোন
রিফার্বিশড ফোন সাধারণত সম্পূর্ণরূপে ডেটা মুছে ফেলে পরীক্ষা করা হয় এবং নষ্ট অংশ পরিবর্তন করা হয়।অন্যদিকে, ব্যবহৃত ফোন মানে হতে পারে এমন ফোন যা ব্যক্তি পর্যায়ে সরাসরি বিক্রি করা হচ্ছে—যেমন ফেসবুক মার্কেটপ্লেস–এর মতো সাইটে। এসব ফোন তুলনামূলক সস্তা হলেও কোনও গ্যারান্টি বা মেরামতের নিশ্চয়তা থাকে না।
ব্যাটারি ও মান যাচাই
সব রিফার্বিশড ফোনে ব্যাটারি নতুন হয় না। অনেক সময় শুধু ব্যাটারির সক্ষমতা ৮০ শতাংশ আছে কি না, সেটুকুই নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। তবে অ্যাপল ও স্যামসাং তাদের রিফার্বিশড ডিভাইসে নতুন ব্যাটারি, নতুন বক্স ও এক বছরের ওয়ারেন্টি দেয়।
প্রতিটি বিক্রেতা নিজস্ব মান রেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে—যেমন “গুড, ভেরি গুড, লাইক নিউ” ইত্যাদি। তবে এসব মান একরকম নয়, তাই বিভিন্ন সাইটের গ্রেড তুলনা করে দেখা দরকার।
কোন ফোন কেনা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ
সিসিএস ইনসাইটের ভাইস প্রেসিডেন্ট সাইমন ব্রায়ান্ট পরামর্শ দেন, তিন প্রজন্ম পুরোনো ফোন কেনাই সবচেয়ে ভালো। পাঁচ বা ছয় প্রজন্ম পুরোনো ফোনে অনেক সময় অপারেটিং সিস্টেম আপডেট বন্ধ হয়ে যায়।
ফোন চুরি বা ব্ল্যাকলিস্ট চেক করুন
বেশির ভাগ প্ল্যাটফর্ম চুরি করা ফোন বিক্রি ঠেকাতে ব্যবস্থা নেয়। ফোনের আইএমইআই নম্বর যাচাই করে নিশ্চিত হতে পারেন ফোনটি ব্ল্যাকলিস্টেড নয়।
অন্যান্য সতর্কতা
যদি আপনি বাজেটের মধ্যে একটি ভালো ফোন খুঁজছেন, সেকেন্ডহ্যান্ড বা রিফার্বিশড ডিভাইস হতে পারে বুদ্ধিমানের সিদ্ধান্ত। তবে কেনার আগে বিক্রেতা, ওয়ারেন্টি, ব্যাটারি অবস্থা ও ডিভাইসের ইতিহাস ভালোভাবে যাচাই করুন—তাহলেই নিরাপদে সাশ্রয়ী মূল্যে পেতে পারেন আপনার পছন্দের স্মার্টফোন।
সূত্র: ডেইলি মেইল