রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন খানকে অবরুদ্ধের ঘটনায় রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) পূর্ণ দিবস কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এ ঘটনায় জড়িত ছাত্রদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। দাবি না মানলে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে টানা কর্মবিরতি চলবে বলেও জানিয়েছেন শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল আলিম।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘শনিবার বেলা ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) দাপ্তরিক কাজ শেষে দুপুরের খাবারের জন্য বাসায় যাবার জন্য গাড়িতে ওঠেন। এ অবস্থায় কতিপয় ছাত্র তাকে গাড়ি থেকে জোরপূর্বক নামিয়ে গাড়ির চাবি নিয়ে নেয় এবং অশালীন উক্তিসহ তার গাড়ির ওপরে ভিক্ষা হিসেবে টাকা ছুড়ে দেয়। এরপর হেঁটে তার বাসায় ঢুকতে গেলে প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেয়। নিরুপায় হয়ে তিনি জুবেরী ভবনে গেলে তাকে ঘিরে নানা ধরনের কটূক্তি করে ও তাকে নিয়ে ধস্তাধস্তি করতে থাকে।’
অধ্যাপক আব্দুল আলিম বলেন, ‘প্রক্টরসহ তার বডির সদস্যবৃন্দ তাকে প্রোটেকশন দেওয়ার চেষ্টা করলে প্রক্টরকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করাসহ তার পকেট থেকে ১০ হাজার টাকা ও তার হাত ঘড়ি ছিনিয়ে নেয়। প্রো-ভিসি নিরুপায় হয়ে জুবেরী ভবনের দোতালায় একটি কক্ষে আশ্রয় নিতে গেলে তার গলা চেপে ধরে ও ধাক্কা মেরে সিঁড়িতে ফেলে দেয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘জুবেরী ভবন একটি আবাসিক ও ক্লাব ভবন। এখানে অনেক পরিবার বাস করে যার মধ্যে স্ত্রী, কন্যা, শিশুরাও আছে। জুবেরী ভবনের অবস্থানরত কক্ষে বিদ্যুৎ সংযোগ ও খাবার পানির ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছে। তারা সেখানে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালিসহ স্লোগান দিচ্ছে। যার ফলে ওই ভবনে একটা ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ফলশ্রুতিতে ভবনের পরিবারগুলো আতঙ্কিত ও নিরাপত্তাহীনতায় আছে।’
রবিবার পূরণদিবস কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকের ঘটনাস্থলে রাকসুর নির্বাচন কমিশনার প্রফেসর ড. এনামুল হক সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাকে হাসপাতালে নিতে হয়। উপরোক্ত ঘটনাবলী আসন্ন রাকসু নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের অংশ বলে শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ মনে করছেন। আজকে শিক্ষক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় জড়িত ছাত্রদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এবং ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে রবিবার পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি ঘোষণা করছি। দাবি না মানলে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে কর্মবিরতি চলমান থাকবে।’
এদিকে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের এ ঘোষণার পর আরও বিক্ষোভে ফেটে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।
এর আগে শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক আন্দোলনের মুখে পোষ্য কোটা ফের স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।