মার্কিন যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কসহ একাধিক বিতর্কের জেরে রাজ উপাধি ত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ব্রিটেনের প্রিন্স অ্যান্ড্রু। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, ‘ডিউক অব ইয়র্ক’ উপাধি তিনি আর ব্যবহার করবেন না।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, আমাকে ঘিরে চলমান অভিযোগগুলো আমার ভাই কিং চার্লস ও রাজপরিবারের বৃহত্তর কাজের প্রতি মনোযোগ ব্যাহত করছে। আমি সব সময়ের মতোই আমার পরিবার ও দেশের প্রতি কর্তব্যকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি।
রাজা তৃতীয় চার্লসের ছোট ভাই ও প্রয়াত রানি এলিজাবেথের দ্বিতীয় পুত্র অ্যান্ড্রুর সুনাম বিগত কয়েক বছরে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষত এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্কের কারণে আরও বেশি দুর্নাম ছড়িয়ে পড়ে।
গত বছর আদালতের এক রায়ে প্রকাশ পায়, অ্যান্ড্রুর এক ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়িক সহযোগীকে ব্রিটিশ সরকার চীনা গুপ্তচর হিসেবে সন্দেহ করেছিল। তিনি সে সময় দাবি করেছিলেন, ওই ব্যক্তির সঙ্গে তিনি সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন।
বিবৃতিতে অযান্ড্রু আরও বলেন, রাজার সম্মতিতে এখন থেকে আমার রাজকীয় উপাধি ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি আগের মতোই অভিযোগগুলো দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করছি।
রাজ পরিবারের সূত্রে জানা যায়, পরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্যদের সঙ্গে আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং রাজা এতে সন্তুষ্ট।
৬৫ বছর বয়সি অ্যান্ড্রু বর্তমানে সিংহাসনের অষ্টম উত্তরাধিকারী। একসময় ব্রিটিশ নৌবাহিনীর আকর্ষণীয় কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং ১৯৮০ এর দশকে ফকল্যান্ডস যুদ্ধে অংশ নেন। তবে ২০১১ সালে বাণিজ্য দূতের দায়িত্ব থেকে তাকে সরে যেতে হয়। ২০১৯ সালে তিনি সব ধরনের রাজকীয় দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন এবং ২০২২ সালে যৌন অসদাচরণের অভিযোগ ওঠার পর তার সামরিক সংযোগ ও পৃষ্ঠপোষকতার পদ বাতিল করা হয়—যা তিনি সব সময় অস্বীকার করে এসেছেন।