অবস্থান কর্মসূচি, অনশন ও কর্মবিরতি পালনের মধ্যেই বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক–কর্মচারীরা কালো পতাকা মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা কালো পতাকা মিছিল শুরু করেন। মিছিল নিয়ে দোয়েল চত্বর হয়ে কদম ফোয়ারা চত্বরে পৌঁছে শিক্ষক-কর্মচারীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। এতে হাজারের বেশি শিক্ষক–কর্মচারী অংশ নেন।
এ সময় ‘সি আর আবরার, আর নয় দরকার’, ‘রাজপথে কে রাজপথে কে, শিক্ষক শিক্ষক’, ‘ছাত্র–শিক্ষক–জনতা, গড়ে তোলো একতা’, ‘সারা বাংলার শিক্ষক, এক হও লড়াই করো’ ইত্যাদি স্লোগান দেন শিক্ষক-কর্মচারীরা।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক–কর্মচারীরা মূল বেতনের ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া, এক হাজার ৫০০ টাকা মেডিক্যাল ভাতা ও কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ৭৫ শতাংশ করার দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আন্দোলন শুরু করেন গত ১২ অক্টোবর। পরে পুলিশি নির্যাতনের পর লাগাতার কর্মসূচি শুরু করেন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। একইসঙ্গে সারাদেশের শিক্ষকরা কর্মবিরতি পালন শুরু করেন।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) কদম ফোয়ারায় কালো পতাকা মিছিলের পর বিক্ষোভ সমাবেশে শিক্ষক–কর্মচারীদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান।
কদম ফোয়ারা চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেন, ‘সরকারকে বেকায়দায় ফেলার কোনও চিন্তা আমাদের নেই। কিন্তু সরকারের প্রতি এই সহযোগিতাকে যদি দুর্বলতা মনে করা হয়, আর শিক্ষকরা যদি বিদ্রোহী হয়ে ওঠেন, তাহলে প্রশাসনকে বলতে চাই, আপনার কোনও বাহিনী দিয়ে এটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষকরা মৃত্যুর শপথ নিয়ে শহীদ মিনারে এসেছেন। ২০ শতাংশ মানে, ২০ শতাংশ। এক হাজার ৫০০ টাকা মানে, এক হাজার ৫০০ টাকা। আর ৭৫ শতাংশ মানে, ৭৫ শতাংশ। কোনও টালবাহানা চলবে না।’
শিক্ষক–কর্মচারীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনশনের পাশাপাশি দাবি আদায় না হলে পরবর্তী সময় তারা আমরণ অনশন কর্মসূচিতে যাবেন।
শিক্ষক নেতারা জানান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল আজ শনিবার রাত ৮টায় এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আন্দোলনে অনশনরত শিক্ষকদের সার্বিক অবস্থা ও স্বাস্থ্যের খোঁজ খবর নিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উপস্থিত থাকবেন।
এনসিপির ওই টিমে জাতীয় নাগরিক পার্টির স্বাস্থ্য উইং প্রধান ডা. আব্দুল আহাদ এবং শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ শান্তসহ উপস্থিত থাকবেন শিক্ষা সেল ও স্বাস্থ্য উইংয়ের অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা।