একসময় ছিল যখন ব্যাচেলর, সিঙ্গেল বা সদ্য বিবাহিতদের ঘর মানেই কলা-রুটি-চা আর রেস্টুরেন্টে লাইন ধরার বিষণ্ণ গল্প। অথবা দিনের পর দিন না খেয়ে নিজেকে শাস্তি দেওয়া। কিন্তু এখন? সময় বদলেছে। নিজে রান্না মানে শুধু খিদে মেটানো নয়—নিজের প্রতি যত্ন, সাশ্রয় আর একটু গর্বও করা। তাই আজ থাকছে চারটি বেসিক অথচ সবচেয়ে দরকারি ও মজাদার খাবারের সহজ রেসিপি থাকলো রান্নাঘরে নতুনদের জন্য—ভাত, ডাল, আলু ভর্তা আর ডিম ভাজি। এই চারে জিতে যাবে আপনার অসহায় সকাল-দুপুর-রাত, ফিরবে মানসিক শান্তিও।
নিম্নে মূলত একজনের পরিমাণের রেসিপি তুলে ধরা হলো। বেঁচে গেলে পরের বেলাতেও কেতে পারবেন। আর চাইলে একসঙ্গে দু’জনেও শেয়ার করতে পারবেন আরামসে।
দরকার
চাল— ১ কাপ
পানি— ২ কাপ
লবণ— সামান্য
তেল— আধা চা চামচ (ভাতটা ঝরঝরে হবে) jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw690469f34bf72" ) ); রান্না
১) চাল ভালোভাবে দুই–তিনবার ধুয়ে নিন।
২) পাতিলে পানি গরম দিন। গরম পানিতে চাল, লবণ ও তেল দিন।
৩) ঢাকনা না দিয়ে মাঝারি আঁচে ফুটতে দিন।
৪) পানি কমে এলে আঁচ একেবারে কমিয়ে ঢেকে ১০ মিনিট রাখুন।
৫) চুলা বন্ধ করে আরও ৫ মিনিট রেখে দিলেই হয়ে গেলো ভাত।
পরামর্শ: ভাতের পাতিল বেশি নেড়েচেড়ে দেবেন না—ভাত গলে যাবে।
দরকার
মসুর ডাল— আধা কাপ
পানি— ২ কাপ
পেঁয়াজ বাটা— ১ টেবিল চামচ
হলুদ— আধা চা চামচ
লবণ— স্বাদমতো
মরিচ— ১টা
তেল/ঘি— ১ চা চামচ jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw690469f34bfa2" ) ); রান্না
১) ডাল ধুয়ে পানি, লবণ, হলুদ ও মরিচ দিয়ে চুলায় দিন।
২) ফুটে এলে আঁচ মাঝারি করে ১০-১২ মিনিট রান্না করুন।
৩) ডাল নরম হলে তেল বা ঘি দিন।
৪) চাইলে শেষে সামান্য ধনেপাতা কুচি দিতে পারেন।
পরামর্শ: সময় থাকলে ডালের মধ্যে রসুন কুঁচি ভেজে দিন—গন্ধেই ক্ষুধা বাড়বে।
দরকার
আলু— ২টা মাঝারি
পেঁয়াজ কুঁচি— ১ টেবিল-চামচ
কাঁচা মরিচ— ১টি
সরিষার তেল— ১ চা-চামচ
লবণ— স্বাদমতো
ধনেপাতা— সামান্য (চাইলে) jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw690469f34bfc9" ) ); তৈরি প্রক্রিয়া
১) আলু সেদ্ধ করে খোসা ছাড়িয়ে নিন
২) পেঁয়াজ, মরিচ, লবণ, সরিষার তেল দিয়ে ভালো করে ম্যাশ করুন
৩) চাইলে ধনেপাতা দিন— হয়ে গেলো দারুণ ঝাঁঝালো আলু ভর্তা
দরকার
ডিম— ২টা
পেঁয়াজ কুঁচি— ২ টেবিল চামচ
কাঁচা মরিচ— ১টি
লবণ— একটু
তেল— ১ টেবিল চামচ jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw690469f34bfee" ) ); তৈরি প্রক্রিয়া
১) ডিম ফাটিয়ে লবণ দিয়ে ফেটে নিন।
২) প্যানে তেল গরম করে পেঁয়াজ–মরিচ দিন, হালকা বাদামী করুন।
৩) ডিম ঢেলে মাঝারি আঁচে ভাজুন—ওমলেটের মতো বা স্ক্র্যাম্বল—আপনার পছন্দমতো।
পরামর্শ: এক চামচ দুধ দিলে ডিমটা নরম ও ফুলবে।
ভাতের পাশে গরম ডাল—তার ওপর অল্প ঘি। পাশে ডিম ভাজি—আর কাঁচা পেঁয়াজ। চাইলেই লেবু–কাঁচা মরিচ—ব্যস! যেন এক প্লেটে সুখ।
রান্না করলে আর খেয়ে নিলেই যে কর্ম শেষ, বিষয়টি তা নয়। খাওয়া শেষেই রান্নার সঙ্গে সংযুক্ত থালা, বাসন, কড়াই, পাতিল পরিষ্কার করুন।
আজ রান্না—কাল পরিষ্কার, এতে ঘরের পরিবেশ, মানসিক শান্তি, রান্নার উৎসাহ; সবই ভেস্তে যাবে! মনে রাখবেন, রান্না মানে দায়িত্ব—আর দায়িত্বই আপনাকে আরও শক্ত করবে। ফলে পেটে পাথর বেঁধে হাত কোলে নিয়ে বসে না থেকে আজই ট্রাই করুন—আর নিজ হাতের রান্নায় বুক ভরে উঠুক গর্বে।