মানবসভ্যতার শুরু থেকেই স্বর্ণ এক চিরন্তন সম্পদ। এর উজ্জ্বলতা হারায় না, মরচে ধরে না, আগুনেও নষ্ট হয় না। তাই হাজার বছর ধরে এটি শুধু গয়নার অলঙ্কার নয় বরং রাষ্ট্রীয় ভাণ্ডারের ভরসা, যুদ্ধ ও দুর্দিনে নিরাপত্তার ঢাল, অর্থনৈতিক স্থিতির স্তম্ভ এবং মানুষের চিরন্তন আস্থার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। বিশ্বায়নের যুগে এসে স্বর্ণ আবারও প্রমাণ করছে—এটি নিছক ধাতু নয় বরং এক “স্ট্র্যাটেজিক অ্যাসেট”, যা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও রাজনীতির টানাপোড়েনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে উঠছে। ২০২৫ সালে এসে বৈদেশিক রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় স্বর্ণ এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
আমরা দেখতে পাই ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী- বিশ্বব্যাপী ২০২২ সাল থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো প্রতিবছর গড়ে ১ হাজার টনের বেশি স্বর্ণ কিনছে। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে তাদের হাতে জমা হয়েছে ৩৬ হাজার ৭০০ মেট্রিক টনের বেশি স্বর্ণ যা ১৯৭০ এর দশকের পর সবচেয়ে বড় মজুত। এদিকে ২০২৪ সালে আউন্সপ্রতি ২ হাজার ৬০০ ডলার দামে থাকা স্বর্ণ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বেড়ে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ ডলার ছুঁয়েছে। এক বছরেরও কম সময়ে প্রায় ৩৭ শতাংশ বৃদ্ধি যার পেছনে মূল চালক ছিল দুর্বল ডলার, ফেডের নরম নীতি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর লাগাতার ক্রয়।
আমরা দেখতে পাচ্ছি, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো স্বর্ণের মজুত দ্রুত বাড়াচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে চারটি বড় কারণ —
১. ডলারের দাপট কমানো (De-dollarization)১৯৯৯ সালে বৈশ্বিক রিজার্ভে ডলার-এর ভাগ ছিল ৭১ শতাংশ। ২০২৩ সালে তা নেমে এসেছে ৫৮ শতাংশে। নিষেধাজ্ঞা, মার্কিন ঋণসংকট ও ভূ–রাজনীতির কারণে ডলারের ওপর আস্থা কমছে। তাই বিকল্প হিসেবে স্বর্ণকে বেছে নিচ্ছে বহু দেশ।
২. মুদ্রাস্ফীতির আঘাত ঠেকানো২০২৪-২৫ সালে গড় বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৪ শতাংশের ওপরে। ইউরোপ, দক্ষিণ এশিয়া, লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে খাদ্য ও জ্বালানির দাম বেড়েছে। স্বর্ণের দাম মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে ওঠে তাই এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য এক ধরনের সুরক্ষার ঢাল।
৩. ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকিরাশিয়ার বৈদেশিক রিজার্ভের অর্ধেকের বেশি ২০২২ সালে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় আটকে যায়। এই ঘটনার পর অনেক দেশ শিখেছে ডলার বা বন্ড বিদেশি ভল্টে রাখা নিরাপদ নয়। দেশের ভল্টে স্বর্ণ রাখা যায় এবং এটি কারও নিয়ন্ত্রণাধীন নয়।
৪. কৌশলগত নিরাপত্তাবর্তমানে বিশ্বজুড়ে নতুন অর্থব্যবস্থা গঠনের নানা আলোচনা চলছে — যেমন সিবিডিসি (ডিজিটাল মুদ্রা), কমোডিটি–ভিত্তিক চুক্তি এবং আঞ্চলিক মুদ্রা ব্লক। এই সম্ভাব্য পরিবর্তনের আগে নিজেদের রিজার্ভ সুরক্ষিত রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো কৌশলগতভাবে স্বর্ণের ভাণ্ডার বাড়াচ্ছে।
২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের প্রধান দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর রিজার্ভে স্বর্ণের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে নিচের মতো —
দেশ
স্বর্ণ মজুত (টন)
আনুমানিক মূল্য (ডলার)
রিজার্ভে স্বর্ণের ভাগ
যুক্তরাষ্ট্র
৮,১৩৩.৫
≈ ৯০০ বিলিয়ন
৭০%+
জার্মানি
৩,৩৫৪.৪
≈ ৩৭০ বিলিয়ন
৬৫%
চীন
২,২৩৫.০
≈ ২৪০ বিলিয়ন
১৫%
ভারত
৮২২.১
≈ ৯০ বিলিয়ন
৮-৯%
তুরস্ক
৫৫০+
≈ ৬০ বিলিয়ন
২০%+
বাংলাদেশ
১৪
≈ ১.৩–১.৬ বিলিয়ন
৫-৬%
এই তালিকা থেকেই স্পষ্ট বোঝা যায়, বাংলাদেশের রিজার্ভে স্বর্ণের অংশ বিশ্বের তুলনায় অত্যন্ত কম।
বাংলাদেশ স্বর্ণ বাড়ালে সম্ভাব্য লাভ
বর্তমানে বাংলাদেশের বৈদেশিক রিজার্ভের বড় অংশ রাখা রয়েছে ডলার এবং মার্কিন ট্রেজারি বন্ড-এ। কিন্তু ২০২৪-২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রর ঋণের পরিমাণ ৩৪ ট্রিলিয়ন ডলার ছুঁয়েছে যা বৈশ্বিক বাজারে তাদের ঋণ-সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে স্বর্ণের অংশ বাড়ালে ঝুঁকি কমানো সম্ভব। তাছাড়া ২০২৪ সালে বাংলাদেশে ভোক্তা পর্যায়ের মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৯ শতাংশের কাছাকাছি আর ডলারর বিপরীতে টাকার বিনিময় হার ১২০ ছাড়িয়েছে। এই সময়ে স্বর্ণের দাম বেড়ে গেছে প্রায় ৩৭ শতাংশ। এর ফলে রিজার্ভে থাকা ১৪ টন স্বর্ণের মূল্য ১.২ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে প্রায় ১.৬ বিলিয়ন ডলার — যা প্রমাণ করে স্বর্ণ রিজার্ভের ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখতে সহায়তা করে।
এছাড়া, রাজনৈতিক বা ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনে বিদেশি ব্যাংক রিজার্ভ আটকে দিতে পারলেও দেশের ভল্টে রাখা স্বর্ণ আটকাতে পারে না। তুরস্ক, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশে রাখা স্বর্ণ দেশে ফিরিয়ে এনেছে নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।
আমার দৃষ্টিতে, এই বাস্তবতা বাংলাদেশকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। আমরা এখনও ডলারকেন্দ্রিক রিজার্ভ কাঠামোর ওপর নির্ভর করে আছি, যা বৈশ্বিক অস্থিরতায় ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। আমি মনে করি, স্বর্ণের অংশ বাড়ানো কেবল লাভের সুযোগ নয় বরং এটি আমাদের আর্থিক নিরাপত্তার এক বাধ্যতামূলক কৌশল হয়ে উঠছে। বাংলাদেশের এখন উচিত ধাপে ধাপে স্বর্ণের মজুত বাড়ানো। প্রথম ধাপে রিজার্ভের ১৫-২০ শতাংশ স্বর্ণ রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা যেতে পারে। পাশাপাশি দেশের ভল্ট অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং নিয়মিত রিজার্ভ তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আস্থা অর্জনের উদ্যোগ নিতে হবে।
বাংলাদেশ স্বর্ণ বাড়ালে সম্ভাব্য ক্ষতি
যদিও স্বর্ণ রিজার্ভের স্থিতিশীলতা বাড়াতে পারে তবুও এর কিছু উল্লেখযোগ্য সীমাবদ্ধতা রয়েছে -স্বর্ণ থেকে কোনও সুদ পাওয়া যায় না, অথচ ডলার বা মার্কিন ট্রেজারি বন্ড-এ রিজার্ভ রাখলে সুদ আয় হয়। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৪ সালে ১০ বছরের বন্ডে গড় ফলন ছিল ৪.৩ শতাংশ অর্থাৎ ১ বিলিয়ন ডলার বন্ডে রাখলে বছরে প্রায় ৪৩ মিলিয়ন ডলার আয় হতো। কিন্তু একই অর্থ স্বর্ণ হিসেবে ভল্টে রাখলে কোনও আয় আসে না ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও দেশের রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এজন্য ভারত ও চীন স্বর্ণ ও সুদ-উপার্জনকারী সম্পদকে ভারসাম্যে রাখে। এছাড়াও আমরা জানি, স্বর্ণ হাতে রাখার মানে শুধু ধাতু কেনা নয়। ভল্ট নির্মাণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা আর আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বীমা নিতে হয় যা কোটি কোটি টাকা ব্যয় বাড়ায়। যুক্তরাষ্ট্র বা জার্মানির মতো দেশে বড় ভল্ট থাকায় খরচ তুলনামূলক কম হয়। কিন্তু বাংলাদেশে স্বর্ণ বাড়ালে ভল্ট, নিরাপত্তা ও বীমার স্থায়ী ব্যয়ও বাড়বে। আবার এটাও ঠিক যে, স্বর্ণ সরাসরি আমদানি বিল মেটাতে ব্যবহার করা যায় না। ডলার বা ইউরো থাকলে তা দিয়ে মাসে ৬-৭ বিলিয়ন ডলারের আমদানির বিল তৎক্ষণাৎ পরিশোধ করা যায়। কিন্তু স্বর্ণ আগে বিক্রি করে ডলারে রূপান্তর করতে হয়- যাতে সময়, খরচ আর ক্ষতির ঝুঁকি থাকে। যেমন, শ্রীলঙ্কা ২০২২ সালে স্বর্ণ থাকলেও নগদে রূপান্তরে দেরি করায় বিপাকে পড়েছিল। ওদিকে আরও বিড়ম্বনা আছে যেমন, স্বর্ণ দীর্ঘমেয়াদে মূল্য ধরে রাখলেও স্বল্পমেয়াদে দামের বড় ওঠানামা হয়।
কোভিড-১৯ সময় ২০২০ সালে স্বর্ণের দাম বেড়ে হয়েছিল ২ হাজার ৭০ ডলার, ২০২১-এ নেমে আসে ১ হাজার ৭০০-তে আর ২০২৫-এ আবার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬০০ ডলার। এই ওঠানামায় রিজার্ভের মূল্যায়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একসাথে বেশি স্বর্ণ কিনে দাম পড়ে গেলে রিজার্ভ দুর্বল দেখাবে। তুরস্কও ২০২০-২২ সালে এ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিল।
আমার দৃষ্টিতে, এই বাস্তবতা আমাদের বুঝিয়ে দেয় যে স্বর্ণ যেমন একদিকে সুরক্ষা দেয় অন্যদিকে কিছু ঝুঁকিও বয়ে আনে। আমি মনে করি, কেবল আবেগের বশে বা বৈশ্বিক প্রবণতা অনুসরণ করে হঠাৎ স্বর্ণের মজুত বাড়ানো হলে তা বিপরীত ফল বয়ে আনতে পারে। বাংলাদেশের উচিত স্বর্ণের অংশ বাড়ানোর আগে খরচ-সুবিধার পূর্ণ হিসাব করা। স্বল্প সময়ে বেশি না কিনে ধীরে ধীরে ক্রয়, ভল্ট অবকাঠামো প্রস্তুত এবং রিজার্ভে স্বর্ণের-বন্ডের ভারসাম্য বজায় রাখা—এই তিনটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এবারে দেখা যাক, লাভ-ক্ষতির সমীকরণে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান–
বিশ্বব্যাপী স্বর্ণের চাহিদা বাড়তে থাকায় বাংলাদেশরও এখনই পরিকল্পিতভাবে স্বর্ণের রিজার্ভ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। আমার দৃষ্টিতে, স্বর্ণ রিজার্ভ বাড়ানো শুধু বৈচিত্র্য আনার উপায় নয় বরং ভবিষ্যতের বৈশ্বিক অস্থিরতার বিরুদ্ধে একটি সুরক্ষা বলয়। এজন্য একসাথে বেশি না কিনে ধাপে ধাপে (ডলার কস্ট অ্যাভারেজিং নীতিতে) ক্রয় করলে দামের ওঠানামার ঝুঁকি কমবে এবং সুযোগমতো রিজার্ভও বাড়বে। পাশাপাশি, স্বর্ণ দেশি ও বিদেশি ভল্টে ভাগ করে রাখা হলে একদিকে নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে অন্যদিকে আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ হবে। এর সঙ্গে রিজার্ভ তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং ভারত, চীন, তুরস্কের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নীতি তৈরি করা বাংলাদেশকে নতুন কিছু আবিষ্কার করতে হবে না বরং ভারত, চীন ও তুরস্কের অভিজ্ঞতা থেকে শেখাই যথেষ্ট। ভারত ধাপে ধাপে কিনছে ও বিদেশি ভল্ট থেকে স্বর্ণ দেশে আনছে, চীন নিয়মিত মাসিক ক্রয়ে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান তৈরি করছে, আর তুরস্ক হঠাৎ বেশি কিনে দামের ধাক্কায় পড়েছে। এই অভিজ্ঞতা দেখায় বেপরোয়া স্বর্ণ কেনা উচিত নয়। বরং ধীরে এবং পরিকল্পিতভাবে ক্রয় করাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
বাংলাদেশের উচিত এই অভিজ্ঞতাগুলো বিশ্লেষণ করে নিজেদের জন্য মিশ্র নীতি তৈরি করা যেখানে ধীর-স্থির ক্রয়, ভল্টের ভারসাম্য, এবং স্বচ্ছতা সব একসাথে থাকবে। যদি বাংলাদেশ পরিকল্পিতভাবে স্বর্ণ রিজার্ভ বাড়াতে থাকে তবে ২০৪০ সালের মধ্যে বৈদেশিক রিজার্ভ দাঁড়াতে পারে ৮০-১০০ বিলিয়ন ডলারে। এর মধ্যে যদি ২০ শতাংশ স্বর্ণ রাখা যায় তবে ভল্টে থাকবে ১৬-২০ বিলিয়ন ডলারের স্বর্ণ। এটি শুধু সম্পদ নয় বরং অর্থনীতির টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে। সেই সাথে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের ওজন বাড়াবে এবং সংকটকালেও আমাদের আত্মবিশ্বাসী জাতি হিসেবে দাঁড় করবে।
২০২৫ সালের বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে স্বর্ণ কোনও বিলাসিতা নয়, এটি রাষ্ট্রীয় সম্পদের বীমা। ডলার দুর্বল হলে, মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়লে কিংবা নিষেধাজ্ঞার ঝড় এলে স্বর্ণের ভাণ্ডারই হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ ভরসা। তাই বাংলাদেশকে এখনই দেরি না করে পরিকল্পিত ও ধারাবাহিকভাবে স্বর্ণ মজুত বাড়াতে হবে। আমরা যদি সময়মতো সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে পারি তবে বাংলাদেশ ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যাবে। এই কৌশলগত পদক্ষেপ আমাদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, স্থিতি এবং আন্তর্জাতিক মর্যাদা নিশ্চিত করবে।
লেখক: ব্যাংকার এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষক
[email protected]