দিনের ব্যস্ততা শেষে রাতের খাবার শুধু পেট ভরানোর জন্য নয়; বরং শরীরের সুস্থতা, ঘুমের মান ও পরদিনের শক্তি ধরে রাখার জন্যও খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাতের খাবার হওয়া উচিত হালকা, পুষ্টিকর ও সহজপাচ্য। কারণ রাতে আমাদের মেটাবলিজম ধীর হয়ে যায়, ফলে ভারী খাবার ঘুম ব্যাহত করতে পারে এবং হজমের সমস্যা তৈরি করতে পারে।
রাতে খাবারের সঠিক ধরন
পুষ্টিবিদদের মতে রাতের খাবারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি পূরণ করা, তবে এমনভাবে যাতে পাকস্থলী ও হজমতন্ত্র অতিরিক্ত চাপের মুখে না পড়ে।
ডায়েট প্লেটের সঠিক অনুপাত—
৫০% শাকসবজি (ভাপা/সেদ্ধ/স্টার ফ্রাই)
২৫% প্রোটিন (মাছ, চিকেন, ডিম বা ডাল)
২৫% কার্বোহাইড্রেট (ভাত, রুটি, ওট)
খাওয়ার সঠিক সময়
ঘুমানোর অন্তত ২–৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। দেরিতে খেলে হজমে সমস্যা, অ্যাসিডিটি, ঘুমের মান কমে যাওয়া, ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ে। jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw6908a86362bc7" ) ); রাতে আদর্শ খাবারের তালিকা
• কম ভাত বা রুটি
• মুগ ডাল বা হালকা স্যুপ
• গ্রিলড বা ভাপা মাছ/চিকেন
• সবজি ভাপা/সিদ্ধ
• ওট খিচুড়ি বা ডালিয়া
• সেদ্ধ ডিম
খাওয়ার পরে হালকা হাঁটার পরামর্শ দেওয়া হয়।
যা এড়িয়ে চলবেন
ভাজা-পোড়া খাবার
ফাস্টফুড
অতিরিক্ত লবণ ও মশলা
বেশি মিষ্টি
ঘুমানোর আগে চা-কফি
কার্বোনেটেড ড্রিংকস
ঘুমের আগে কী খাওয়া যায়
যাদের ল্যাকটোজ সমস্যা নেই তারা চাইলে ঘুমানোর ১ ঘণ্টা আগে সামান্য গরম দুধ বা হার্বাল টি পান করতে পারেন। jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw6908a86362bf3" ) ); পুষ্টিবিদের মত
পুষ্টিবিদ শারমিন নাসরিন বলেন, ‘রাতের খাবার যতটা হালকা হবে, শরীর ততটাই আরাম পাবে। অনেকেই দিনের খাবার কমিয়ে রাতে বেশি খান—এটি সম্পূর্ণ ভুল অভ্যাস। রাতের খাবারের পর অল্প হাঁটা এবং পর্যাপ্ত পানি পান শরীরের বিপাকক্রিয়া ঠিক রাখে এবং ঘুম ভালো হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশেষ করে ডায়াবেটিস ও অ্যাসিডিটি রোগীদের রাতে কার্বোহাইড্রেট ও ভাজা খাবার কমাতে হবে। সবজি, প্রোটিন ও সঠিক সময়েই রাতের খাবারে গুরুত্ব দিতে হবে।’
শেষ কথা
রাতের খাবারকে হালকা, পুষ্টিকর ও নিয়মমাফিক রাখলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে, হজম ভালো হয়, ঘুমের মান উন্নত হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।স্বাস্থ্যকর জীবন শুরু করতে রাতের খাবারের অভ্যাসে পরিবর্তন আনার কোনও বিকল্প নেই।