যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসতে ইরানের কোনও তাড়া নেই। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রবিবার (২ নভেম্বর) এ কথা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
তিনি বলেন, পারস্পারিক স্বার্থ ও সমমর্যাদা বজায় রাখতে পারলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনায় রাজি তেহরান। তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ, ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ কমানো, আঞ্চলিক মিত্রদের প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার এবং সরাসরি আলোচনাসহ অন্যান্য মার্কিন শর্ত অযৌক্তিক ও অন্যায্য।
আরাঘচি বলেন, এসব শর্ত কোনও আলোচনাকে ব্যর্থ করে দেয়। তবে মনে হচ্ছে, তাদের তেমন তাড়া নেই। তাই আমরাও খুব একটা ব্যস্ত হচ্ছি না।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ষষ্ঠ দফার আলোচনা জুনের হামলার পর ভেস্তে যায়। তেহরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় মার্কিন বিমান হামলা থেকে শুরু হওয়া কথিত ১২ দিনের যুদ্ধে অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সঙ্গে হাজারো মানুষের প্রাণহানির অভিযোগ রয়েছে।
আরাঘচি বলেন, প্রায় ৬০ শতাংশে সমৃদ্ধকৃত চারশো কেজি ইউরেনিয়াম ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে।
স্থবির হয়ে যাওয়া পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় চালুর ব্যাপারে আগেরদিনই ঘোষণা দিয়েছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
আল জাজিরার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞা নিয়েও কথা বলেছেন আরাঘচি। তিনি বলেন, ইউরোপীয়দের চাপিয়ে দেওয়া জাতিসংঘের নতুন নিষেধাজ্ঞাকে স্বীকৃতি দেয়নি চীন ও রাশিয়া। অন্যদিকে, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও জার্মানি আলোচনায় ফিরতে আগ্রহী হলেও বাস্তবসম্মত কোনও অগ্রগতি হয়নি। বরং ওই দেশগুলো রাশিয়ায় ইরানের ড্রোন রফতানি এবং পারমাণবিক কর্মসূচির বিরুদ্ধে নতুনভাবে অবস্থান নিয়েছে।
দেশ তিনটির তরফ থেকে সেপ্টেম্বর জানানো হয়, তারা ইরানের সঙ্গে ফ্লাইট স্থগিত রাখছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু এয়ার সার্ভিস পুনরায় চালু হচ্ছে। রবিবার তেহরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অস্ট্রিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট অবতরণের ফুটেজ প্রচার করেছে ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। লুফথানসাও শিগগিরই ফ্লাইট চালু করবে বলে জানা গেছে।