বিশ্বখ্যাত রক ব্যান্ড কিস-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান গিটারিস্ট এস ফ্রেলি আর নেই। নিউ জার্সির একটি হাসপাতালে বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।
পরিবার জানিয়েছে, গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে নিজস্ব রেকর্ডিং স্টুডিওতে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছিলেন ফ্রেলি। মাথায় আঘাতের কারণে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় তিনি কয়েক সপ্তাহ ধরে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
এস ফ্রেলি স্ত্রী জিনেট এবং কন্যা মনিক’কে রেখে গেছেন।
পারিবারিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছি। শেষ মুহূর্তে আমরা তাকে ঘিরে রেখেছিলাম ভালোবাসা, প্রার্থনা ও শান্তির অনুভূতি দিয়ে। আমরা তার হাসি, স্নেহ, সৃষ্টিশীল শক্তিকে চিরকাল স্মরণ করবো। তার চলে যাওয়া এক বিশাল ক্ষতি—যা অনুধাবন করা অসম্ভব। তবে এস ফ্রেলির স্মৃতি, তার সংগীত ও অর্জন—সবই চিরকাল বেঁচে থাকবে।’
১৯৫১ সালে নিউইয়র্ক সিটিতে পল ড্যানিয়েল ফ্রেলি নামে জন্ম নেওয়া এস ফ্রেলি, ১৯৭৩ সালে পল স্ট্যানলি, জিন সিমন্স এবং পিটার ক্রিসকে নিয়ে গঠন করেন কিংবদন্তি ব্যান্ড কিস। jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68f22d38cba52" ) ); তার মৃত্যুতে সহকর্মী পল স্ট্যানলি ও জিন সিমন্স এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, ‘আমরা ভীষণভাবে মর্মাহত। ব্যান্ডের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোতে এস ছিলেন অপরিহার্য ও অনন্য এক যোদ্ধা। তিনি কিস-এর উত্তরাধিকারের চিরন্তন অংশ হয়ে থাকবেন।’
ড্রামার পিটার ক্রিস এক্স (টুইটার)-এ লেখেন, ‘আমি স্তম্ভিত!!! আমার বন্ধু... আমি তোমাকে ভালোবাসি!’
ফ্রেলি পড়ে মাথায় আঘাত পান সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে। এতে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়। প্রথমে একাধিক কনসার্ট বাতিল করেন তিনি। পরে পুরো ২০২৫ সালের ট্যুর স্থগিত করা হয় ‘স্বাস্থ্যগত জটিলতার’ কারণে।
১৯৭৪ সালে প্রকাশিত ব্যান্ডের প্রথম অ্যালবাম ‘কিস’ সমালোচকদের কাছ থেকে তেমন প্রশংসা না পেলেও, ব্যান্ডটি দ্রুতই খ্যাতি পায় তাদের রঙিন মেকআপ, বন্য পারফর্মেন্স ও চামড়ার পোশাকের জন্য। প্রতিটি সদস্য গ্রহণ করেছিলেন আলাদা চরিত্র—ফ্রেলি ছিলেন দ্য স্পেসম্যান বা স্পেস এস।
তার বিখ্যাত ‘লেস পল’ গিটার, যা সোলো পারফর্মেন্সের সময় ধোঁয়া ছড়াতো, হয়ে উঠতো রক ইতিহাসের অন্যতম প্রতীক। কখনও সংগীত শিক্ষা না নেওয়া ফ্রেলি ২০০৯ সালে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘আমি অশিক্ষিত সংগীতশিল্পী, সংগীত পড়তে জানি না—তবুও আমি বিশ্বের অন্যতম পরিচিত গিটারবাদক। ভাবুন তো, এটা কীভাবে সম্ভব!’
১৯৭৮ সালে ব্যান্ডের চার সদস্য একসঙ্গে একদিনে নিজ নিজ একক অ্যালবাম প্রকাশ করেন। তার মধ্যে ফ্রেলির অ্যালবামটি বিক্রিতে এগিয়ে যায়, বিশেষ করে ‘নিউ ইয়র্ক গ্রুভ’ গানটি জনপ্রিয়তা পায়।
১৯৮২ সালে ব্যান্ডের দিকনির্দেশনা নিয়ে দ্বিধা ও ব্যক্তিগত আসক্তির কারণে তিনি কিস ছেড়ে দেন। পরবর্তী সময়ে বলেন, ‘আমি বিভ্রান্ত ছিলাম। যদি ওই ব্যান্ডে থাকতাম, হয়তো নিজেকেই ধ্বংস করতাম। অনেক সময় গাড়ি চালাতে চালাতে মনে হতো, একটা গাছে ধাক্কা দিই।’ jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68f22d38cba86" ) ); ১৯৮৪ সালে গঠন করেন ‘ফ্রেলিজ কমেট’, যা দুটি অ্যালবাম প্রকাশ করলেও প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। ১৯৮৯ সালে নিজের নামে অ্যালবাম ‘ট্রাবল ওয়াকিন’ প্রকাশ করেন, যেখানে ব্যাক ভোকালে ছিলেন পিটার ক্রিস।
১৯৯৬ সালে কিস-এর মূল সদস্যরা একত্রিত হয়ে পুনর্মিলনী ট্যুরে গেলে ফ্রেলিও যোগ দেন এবং ২০০২ সাল পর্যন্ত ব্যান্ডে থাকেন। তবে ২০২২-২৩ সালের বিদায়ী বিশ্বভ্রমণ ট্যুরে তিনি অংশ নেননি। পরবর্তী বছরগুলোতে জিন সিমন্সের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল বেশ টানাপোড়নের।
২০১৯ সালে সিমন্স দাবি করেন, মাদকাসক্তির কারণে ফ্রেলিকে ব্যান্ড থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। জবাবে ফ্রেলি বলেন, ‘আমি ১২ বছর ধরে সম্পূর্ণভাবে নিরামিষ খাবার গ্রহণ করছি। আমি নিজের ইচ্ছেতেই ব্যান্ড ছেড়েছি, কারণ তুমি (জিন) আর পল—অত্যন্ত নিয়ন্ত্রণপাগল, অবিশ্বস্ত এবং কাজের জন্য অসম্ভব কঠিন মানুষ।’
পর্দার বাইরেও ফ্রেলি ছিলেন অনুপ্রেরণার প্রতীক। পার্ল জ্যামের গিটারিস্ট মাইক ম্যাকক্রেডি বলেন, ‘আমি ১১ বছর বয়সে বন্ধুর কাছ থেকে একটি কিস লাঞ্চবক্স দেখি—সেখান থেকেই আমার জীবন বদলে যায়। এস আমার নায়ক। আমি তার গিটার সোলো অনন্তবার বিশ্লেষণ করেছি। ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে তার সঙ্গে বাজানো আমার জীবনের স্বপ্নপূরণ।’
পয়জন ব্যান্ডের ফ্রন্টম্যান ব্রেট মাইকেলস এক্স-এ লিখেছেন, ‘এস, আমার ভাই, অসংখ্য উৎসবে একসঙ্গে বাজানো, তোমার সঙ্গে সংগীত তৈরি—অমূল্য অভিজ্ঞতা। আমি আর আমার পরিবার তোমার প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানাই। শান্তিতে ঘুমাও, কিংবদন্তি!’
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান