বঙ্গোপসাগরে আবারও একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপের পরিণত হয়ে এখন মিয়ানমার ও বাংলাদেশের উপকূলে দিকে রয়েছে। এটি উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে মিয়ানমার ও বাংলাদেশ উপকূল বরাবর অগ্রসর হতে পারে। এর প্রভাবে সঞ্চালনশীল মেঘমালা সৃষ্টির ফলে চার সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত এবং নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এছাড়া ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধ্বসের শঙ্কার কথাও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।
বুধবার (৫ নভেম্বর) আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও মিয়ানমার উপকূলে অবস্থানরত লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়ে উত্তর পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর, মিয়ানমার ও বাংলাদেশের উপকূলে রয়েছে। এটি উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে মিয়ানমার-বাংলাদেশ উপকূল বরাবর অগ্রসর হতে পারে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়, চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায়; বরিশাল ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা ও ময়মনসিংহ বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বৃষ্টি হিতে পারে। এছাড়া দেশের অন্য এলাকায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
তাপমাত্রার বিষয়ে বলা হয়, সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং দেশের অন্য এলাকায় তা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে।
এদিকে আবহাওয়ার সতর্কবার্তায় বলা হয়, সুস্পষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা সৃষ্টি হচ্ছে। সমুদ্র বন্দরগুলো, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন এলাকার উপর দিয়ে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তায় বলা হয়, সুস্পষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে মঙ্গলবার বিকাল ৪টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় কক্সবাজার, বান্দরবন, রাঙামাটি ও চট্টগ্রাম জেলার কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। অতি ভারী বৃষ্টির কারণে কক্সবাজার, বান্দরবন, রাঙামাটি ও চট্টগ্রাম পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধ্বসের শঙ্কা রয়েছে।
এছাড়া আজ (৫ নভেম্বর) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলগুলোর ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নৌবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।