সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে প্রোটিয়াদের সহজেই হারিয়েছে পাকিস্তান। ফয়সালাবাদে ১৪৪ রানের লক্ষ্য ৩ উইকেট হারিয়ে ১৪৯ বল হাতে রেখে জিতেছে স্বাগতিক দল। ৭ উইকেটের জয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পাকিস্তান তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ নিশ্চিত করেছে ২-১ ব্যবধানে।
এই জয়ের মূল কারিগর ওপেনার সাইম আয়ুবের ৭৭ রানের ঝলমলে ইনিংস ও স্পিনার আবরার আহমেদের দুর্দান্ত বোলিং।
মাত্র ১৪৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অবশ্য শুরুটা ভালো হয়নি পাকিস্তানের। ইনিংসের প্রথম ওভারেই নান্দ্রে বার্গারের বলে দুই বল খেলে শূন্য রানে ফেরেন ওপেনার ফখর জামান।
প্রাথমিক বিপর্যয়ের পর অধিনায়ক বাবর আজমকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস গুছিয়ে তোলেন সাইম আয়ুব। দ্বিতীয় উইকেটে দুজনে যোগ করেন ৬৫ রান। দ্রুতগতির এই জুটি ভাঙে ১১তম ওভারে। বাবর ৩২ বলে ২৭ রান করে রানআউট হন।
এরপর মোহাম্মদ রিজওয়ানের সঙ্গে আরও ৬৫ রানের জুটি গড়ে ম্যাচ নিজেদের করে নেন সাইম। তবে ২৪তম ওভারে যখন পাকিস্তানের জয়ের জন্য দরকার মাত্র ১৪ রান, তখন বিয়র্ন ফোরটুইনের বলে আউট হন সাইম। তার আগে ৭০ বলে ১১টি চার ও একটি ছক্কায় খেলেছেন ৭৭ রানের ইনিংস। সাইম ফেরার পর বাকি পথটা সামাল দেন রিজওয়ান। তিনি অপরাজিত থাকেন ৩২ রানে। তার ৪৫ বলের ইনিংসে ছিল ৩ চার ও ১ ছক্কা। সঙ্গে সালমান আলী ২ বলে ৫ রান করে ২৫.১ ওভারে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতে অবদান রাখেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে ফোরটুইন ও বার্গার একটি করে উইকেট নেন।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন প্রোটিয়া অধিনায়ক ম্যাথিউ ব্রিটজকে। শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। কুইন্টন ডি ককের দায়িত্বশীল অর্ধশতকের পরও দল ৩৭.৫ ওভারে ১৪৩ রানে গুটিয়ে যায়।
লুয়ান-দ্রে প্রিটোরিয়াস ও ডি ককের উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৭২ রান। ১৫তম ওভারে সালমান আলীর বলে ৩৯ রান করা প্রিটোরিয়াস ফেরার পর ভেঙে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস। টনি ডি জর্জিও দ্রুত সময়ে ২ রানে ফেরেন।
ডি কক ৭০ বলে ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৫৩ রানে আউট হলে আবরার আহমেদের ঘূর্ণিতে ধসে পড়ে প্রোটিয়ারা। শেষ ৮ উইকেট হারায় মাত্র ৩৭ রানে।
আবরার ছিলেন পাকিস্তানের সেরা বোলার। ১০ ওভারে মাত্র ২৭ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন। ম্যাচসেরাও তিনি। অধিনায়ক শাহীন শাহ আফ্রিদি, সালমান আলী ও মোহাম্মদ নওয়াজ নেন দুটি করে উইকেট।