ঢাকায় এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে হংকংয়ের বিপক্ষে ৭ গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচে সুযোগ পেয়েও পয়েন্ট ছিনিয়ে নিতে পারেনি বাংলাদেশ। ৪-৩ গোলে ম্যাচ হেরে গ্রুপ সেরা হওয়াটা অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। এখন বাকি তিন ম্যাচ জিততেই হবে। সঙ্গে অন্য দলের ফল কী হয় সেটার অপেক্ষাতেও থাকতে হবে। তবে হাভিয়ের কাবরেরার দৃষ্টি আপাতত মঙ্গলবারের ম্যাচে। হংকংয়ের বিপক্ষে তাদের মাঠে বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার ম্যাচে তিন পয়েন্টই লক্ষ্য।
সোমবার হংকংয়ে সংবাদ সম্মেলনে স্প্যানিশ কোচ এই ম্যাচের জন্য অপেক্ষায় আছেন জানিয়ে বলেছেন, ‘আমরা যথেষ্ট সময় নিয়েছি, বিশেষ করে সুস্থ হয়ে ওঠা এবং হংকংয়ের পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার জন্য। প্রয়োজনীয় মিটিংগুলোও হয়েছে, তাই আজকের সেশনের জন্য এবং আগামীকালের বড় ম্যাচের জন্য আমরা মুখিয়ে আছি।’
নিজের দলের পরিচয়টাও পরিষ্কার করেছেন কাবরেরা। জামাল ভূঁইয়ারা নিজেদের নিংড়ে দেওয়ার জন্য যে প্রস্তুত তাও বলেছেন কোচ, ‘একটি দল বা এই গ্রুপের পরিচয় নির্ধারণ করে এমন একটি বিষয় হলো—উদ্যম, আগ্রাসন, প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা। আমি পুরোপুরি একমত, এটা আমরা সবসময় আলোচনা করি এবং এটা আমাদের দলের দর্শন বা পরিচয়ের অংশ।’
হংকং দলের নিয়মিত গোলকিপার এমবুয়েলে চোটে পড়ে ছিটকে গেছেন। যদিও কাবেরার কাছে সেটা বড় কিছু নয়, ‘এমবুয়েলে তাদের সবচেয়ে অভিজ্ঞ গোলকিপার। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তিনি বড় ধরনের ইনজুরিতে পড়েছেন। আমরা তার জন্য শুভকামনা জানাই। তার জায়গায় আরেকজন বিকল্প খেলোয়াড় থাকবে, যার মানও ভালো।’
বাংলাদেশ দলের গোলকিপার মিতুল মারমার পারফরম্যান্স নিয়ে বেশ সমালোচনা চলছে। যদিও ঢাকার ম্যাচে রক্ষণভাগ তথা সাদ উদ্দিনরা বেশ ভুগিয়েছেন। তারপর মিতুলের নড়বড়ে পারফরম্যান্স। তবু বাংলাদেশ কোচ মিতুলের ওপরই আস্থা রাখছেন,‘ আমার মতে পারফরম্যান্সের দিক থেকে মিতুল শীর্ষে ছিল। আপনি কোন দিক থেকে দেখছেন তার ওপর নির্ভর করে। সে খুবই নির্ভরযোগ্য এবং ধারাবাহিক, বিশেষ করে বল বিল্ড-আপ বা আক্রমণে সাহায্য করার ক্ষেত্রে। আমাদের জন্য সে একজন অতিরিক্ত খেলোয়াড়ের মতো। আমরা মিতুল মারমার পারফরম্যান্স এবং মান নিয়ে পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী।’
ঢাকার ৭ গোলের ম্যাচ নিয়ে কাবরেরার মূল্যায়ন, ‘আমরা খুব ভালো খেলেছি, সামগ্রিকভাবে খুব ভালো পারফরম্যান্স ছিল। আমরা জানতাম হংকংয়ের শক্তি, এটা খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ হবে। আমরা আমাদের সেরাটা দিয়েছি, বিশেষ করে প্রথমার্ধে আমরা বলের ওপর দারুণ নিয়ন্ত্রণ রেখেছিলাম। তবে তারা খুবই প্রতিযোগিতামূলক দল। আমি অ্যাশলিকে (হংকং কোচ) অনেক আগে থেকেই চিনি, কারণ আমরা একে অপরের বিরুদ্ধে ভারতে খেলেছি। সে খুবই প্রতিযোগিতামূলক, তার মানসিকতাও খুব শক্তিশালী। তাই আমরা তার দলের কাছ থেকেও সেটা আশা করেছিলাম।’
ঢাকার মতো কালকেও লড়াকু মেজাজে খেলতে চান কোচ, ‘আমরা খুব ভালো খেলেছি, তবে সামগ্রিকভাবে এটা ছিল একটি দারুণ ম্যাচ—উভয় দলের পক্ষ থেকেই প্রতিযোগিতামূলক। আমরা আগামীকালও ঠিক একই রকম ম্যাচের প্রত্যাশা করছি। আমরা একই মানসিকতা, একই লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবো এবং জানি যে সামনে এগিয়ে যেতে হলে আমাদের তিন পয়েন্ট পেতেই হবে।’
হংকংয়ে অনুশীলন সুবিধা নিয়ে মনক্ষুণ্ন সবাই। কাবরেরা তা পরোক্ষে স্বীকারও করে নিয়েছেন। যদিও তিনি সেটাকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছেন না বলে জানালেন, ‘যখনই আমরা বাইরে যাই, তখন ট্রেনিংয়ের জায়গাগুলো মোটামুটি ঠিকই ছিল। অবশ্যই সেরা ছিল না, পরিবেশও খুব ভালো ছিল না, কিন্তু আমাদের পরিকল্পিত অনুশীলনগুলো করার জন্য যথেষ্ট ছিল। আরও ভালো হতে পারতো, এতে কোনও সন্দেহ নেই। আমি হংকংয়ের সুযোগ-সুবিধার মান সম্পর্কে ঠিক জানি না। এগুলো গড়পড়তা ছিল বলা যায়, তবে আমার কাছে এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়।’
ঢাকার ম্যাচে শুরুর একাদশ ঠিকমতো খেলতে পারেনি। বিশেষ করে দুই সোহেল রানা, সাদ ও ফাহিমরা সেভাবে আলো ছড়াতে পারেননি। বিরতির পর জামাল-শমিত-ফাহামিদুল ও জায়ান নেমে দলের চিত্র পাল্টে দেন। কোচের সে ক্ষেত্রে যুক্তি, ‘ম্যাচের প্রথমার্ধে মূল একাদশ দারুণ খেলেছে। এরপর হংকং ম্যাচে ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল, যতক্ষণ না আমরা বিকল্প খেলোয়াড়দের মাঠে নামাই। তাই আমি বলবো, মূল একাদশ এবং ৫৬-৫৭ মিনিটে নামা বিকল্প খেলোয়াড়রা সবাই খুব ভালো কাজ করেছে। তাই আগামীকালও একই রকম কিছু হবে—যেই খেলুক, যেই বিকল্প আসুক, তাদের ভূমিকা একই থাকবে।’