স্কুলে কাজ করা এক পরিচ্ছন্নতাকর্মীর ওপর ঘটে চলা অনিয়ম ও অন্যায় বন্ধ করে তার পাওনা পরিশোধের আবেদন নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদফতরের সহকারী পরিচালক খালিদ হোসেনের কাছে গেলে বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্তের সঙ্গে অশোভন আচরণ ও অপমান করা হয়েছে। অধিদফতরের সহকারী পরিচালক কর্মকর্তা খালিদ হোসেনের এই দুর্ব্যবহারের জন্য তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে নারীমুক্তি কেন্দ্র।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নারীমুক্তি কেন্দ্র জানায়, অধিদফতরের সহকারী পরিচালক কর্মকর্তা খালিদ হোসেন পরিচ্ছনতাকর্মী সম্প্রদায়কে কেন্দ্র করে তুচ্ছ ও অবজ্ঞাসূচক মন্তব্য করেন, সীমা দত্তের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন ও তাকে অপমান করে অফিস কক্ষ থেকে বের করে দেন। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের সহ-সভাপতি আসমা আক্তার ও সাধারণ সম্পাদক নিলুফার ইয়াসমিন শিল্পী।
নারীমুক্তি কেন্দ্রের নেতারা বলেন, ‘বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও নিপীড়িত পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের অধিকার নিয়ে লড়াই করছেন। ঢাকার মিরনজিল্লা কলোনি রক্ষার আন্দোলনে তার ভূমিকা সবাই জানেন। সেই সময়ের সিটি মেয়র ফজলে নূর তাপসের বিরুদ্ধে তিনি সাহসের সঙ্গে দাঁড়িয়েছিলেন। এই মানুষদের সঙ্গে তার সম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ঠ এবং তাদের অধিকারের ব্যাপারে তিনি সবসময়েই সোচ্চার। এরই অংশ হিসেবে নরসিংদী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী (পরিছন্নতা কর্মী) রাজু দাসের ওপর চলতে থাকা অবিচার ও অন্যায়ের প্রতিকার চাইতে মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) তিনি শিক্ষা ভবনে উপস্থিত হন। কিন্তু ন্যায়বিচারের পথ খুঁজতে গিয়েই তিনি নিজেই অপমানের শিকার হন।
নারীমুক্তি কেন্দ্র জানায়, অধিদফতরের সহকারী পরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) মো.খালিদ হোসেন দায়িত্বশীল পদে থেকেও তাকে চরমভাবে অবমাননা করেন, গর্হিত মন্তব্য করেন এবং অশোভন আচরণ করেন। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে ওনার ভিন্ন বক্তব্য থাকতে পারে, কিন্তু এভাবে অপমান করে তিনি একজন নারীনেত্রী ও অধিকারকর্মীকে তো নয়ই, কোনও নাগরিককেও অফিস থেকে বের করে দিতে পারেন না। সীমা দত্ত প্রতিবাদ করলে খালিদ হোসেন তাকে ক্ষমতা প্রদর্শন করে বলেন যে, তার যা মনে হয় করতে পারেন।
নারীমুক্তি কেন্দ্র প্রতিবাদ জানিয়ে উল্লেখ করে এই হীন মানসিকতার তীব্র প্রতিবাদ জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছে অভিযোগ দাখিল করবো। এ ঘটনা কেবল সীমা দত্তের প্রতি অবমাননা নয়, এটি নারী অধিকার আন্দোলনের প্রতি এবং অবহেলিত শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য দাবির প্রতি এক সুস্পষ্ট অবজ্ঞা। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান নারীমুক্তি কেন্দ্রের নেতারা।