বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় টানা দুই দিন সাক্ষ্য প্রদান শেষে সাংবাদিক মাহমুদুর রহমানকে জেরা করেছেন আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন।বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ দ্বিতীয় দিনের মতো মাহমুদুর রহমানকে জেরা করেন আমির হোসেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।এর আগে জবানবন্দিতে মাহমুদুর রহমান ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগের শাসনামলের পটভূমি, হত্যা, গুম ও নির্যাতনের বিভিন্ন বর্ণনা দেন। বর্ণনা দেন জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণহত্যাসহ গত ১৬ বছরের গুম-খুনেরও। কিন্তু রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন জেরাকালে মামুদুর রহমানের এসব বক্তব্য অসঙ্গত বলে দাবি করেন এবং শেখ হাসিনার শাসনামলে কোনও দুর্নীতি কিংবা হত্যাকাণ্ড ঘটেনি বলেও জানান।জেরার একপর্যায়ে সাক্ষীর বক্তব্য অস্বীকার করে আমির হোসেন বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলকে ১৫ বছরের ‘চরম দুর্নীতি পরায়ণ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের শাসন’ হিসেবে চিত্রিত করার কোনও ভিত্তি নেই। তার মতে, এ ধরনের মন্তব্য শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কেননা বাংলাদেশে কোনও মানবতাবিরোধী অপরাধ হয়নি।তিনি আরও বলেন, কোনও ধরনের হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দেননি শেখ হাসিনা ও কামাল। এ কারণে তারা সবাই কমান্ড রেসপনসিবিলিটির আওতাভুক্ত নয়। অর্থাৎ এ মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত কোনও অন্যায় সংঘটিত হয়নি। ফলে ‘কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ প্রসঙ্গ এখানে অবান্তর।জুলাই অভ্যুত্থানের সময় কোনও হত্যাকাণ্ড ঘটেনি বলে যুক্তি দেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী। তাই হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধে নির্দেশ দেওয়া কিংবা পদক্ষেপ নেওয়ার প্রশ্নও ওঠে না। অর্থাৎ যেহেতু কোনও প্রকার হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়নি, সেহেতু হত্যাকাণ্ড বন্ধের নির্দেশ প্রদান বা উদ্যোগ গ্রহণ অবান্তর। এছাড়া গত ১৬ বছরে কোনও ফ্যাসিবাদের উত্থান হয়নি বলেও দাবি করেন এই আইনজীবী।জেরা শেষে এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আমির হোসেন বলেন, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে আমার মক্কেল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল কোনও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তাদের নির্দেশেও এসব হয়নি।আজ পৌনে ১১টা থেকে ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ শুরু হয়। দ্বিতীয় দিনের মতো মাহমুদুর রহমানকে জেরা শুরু করেন শেখ হাসিনা ও কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। দুপুর দেড়টায় তার জেরা শেষ হয়।বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নায়ক নাহিদ ইসলামের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ফলে শেখ হাসিনার এ মামলায় ১৭তম দিনের মতো ৪৭তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন তিনি।