শিশুদের পিঠে ভারী ব্যাগ 

শিশুদের পিঠে ভারী ব্যাগ 

শিশুদের হাড় নরম, পেশি ও লিগামেন্ট দুর্বল এবং মেরুদণ্ডের গ্রোথ প্লেট খুবই সংবেদনশীল। প্রতিদিন ভারী ব্যাগ বহন করলে শুধু সাময়িক অস্বস্তি নয়, বরং দীর্ঘ মেয়াদে তাদের মেরুদণ্ড ও ভঙ্গির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

ভারী ব্যাগ বহনের কারণে যেসব সমস্যা হতে পারে:

পেশি ও লিগামেন্টে টান পড়তে পারে। লাম্বার স্ট্রেইন ও মেরুদণ্ডের আশপাশের মাংসপেশিতে সমস্যা হতে পারে। কুঁজো হয়ে যাওয়া, কাঁধ সামনের দিকে চলে আসা, ফরওয়ার্ড হেড পোশ্চার বা মাথা ঝুঁকে চলার ভঙ্গি, স্কোলিওসিস এবং কাইফোসিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে যদি এক কাঁধে ঝোলানো হয়, ভার বহনের কারণে মেরুদণ্ডের হাড়ের সঠিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে।

ব্যাগের স্ট্র্যাপে চাপ পড়ায় ব্রাকিয়াল প্লেক্সাসে চাপ পড়তে পারে এবং নার্ভে সমস্যা হতে পারে। 

শিশুর হাঁটার ভঙ্গিতে পরিবর্তন হয় বা অস্বাভাবিক হয়ে যায়, ভারী ব্যাগ টানতে গিয়ে স্কুলে মনোযোগ কমে যায়, নিয়মিত ভার বহন শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে।

ব্যাগের ওজন শিশুর শরীরের ওজনের সর্বোচ্চ ১০-১৫%–এর বেশি হওয়া যাবে না। চওড়া, নরম ও অ্যাডজাস্টেবল স্ট্র্যাপ ব্যবহার করতে হবে।

ব্যাগের কোমর পর্যন্ত থাকবে, কখনোই নিতম্বের নিচে ঝুলবে না। ভারী বই সব সময় ব্যাগের ভেতরের দিকে (পিঠের কাছাকাছি) রাখতে হবে। সব সময় দুই কাঁধে সমানভাবে ঝুলাতে হবে, এক কাঁধে নয়। প্রতিদিন সব বই আনা-নেওয়া নয়, ক্লাসভিত্তিক বই বহন করা। প্রতিদিন ৩০-৪৫ মিনিট শারীরিক ব্যায়াম, দৌড়ানো বা সাঁতার দেওয়া উচিত। দীর্ঘ সময় ভার বহন না করে মাঝেমধ্যে নামিয়ে বিশ্রাম দেওয়া।

ব্যাথার রোধে: হট প্যাক, আলট্রাসাউন্ড, টেনস প্রয়োগ। প্রয়োজনে স্বল্প মেয়াদে ব্যথানাশক ওষুধ খেতে হবে। পেশিতে টান লাগলে স্ট্রেচিং করতে হবে। প্লান্ক, ব্রিজিং এক্সারসাইজ, সুপারম্যান এক্সারসাইজ, প্রোন এক্সটেনশন, ওয়াল এনজেল, শোলআডর রিট্রাকশন এক্সারসাইজ প্রভৃতি ব্যায়াম করতে হবে।

 পোশ্চার ট্রেনিং : আয়নায় দাঁড়িয়ে ভঙ্গি অনুশীলন। স্কুলে পোশ্চার অ্যাওয়ারনেস ক্লাস চালু করা। শিশুদের ব্যাগ বহনের সঠিক কৌশল শেখানো।

রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সেলিং: অভিভাবকেরা শিশুদের প্রতিদিন ব্যাগ পরীক্ষা করবেন, অপ্রয়োজনীয় বই সরিয়ে দেবেন। শিক্ষকেরা আলাদা লকার ব্যবস্থা রাখবেন, অপ্রয়োজনীয় বই স্কুলে আনতে দেবেন না।

ভারী ব্যাগ শিশুদের জন্য একটি নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকি। ক্লাসগুলোতে লকারের সিস্টেম থাকলে এ সমস্যা থেকে মুক্তি সম্ভব। প্রতিদিনের অভ্যাস ও সঠিক সচেতনতার মাধ্যমে এই সমস্যা প্রতিরোধ করা যায়। অভিভাবক, শিক্ষক ও চিকিৎসক একসঙ্গে কাজ করলে শিশুদের মেরুদণ্ড ও পেশি সুস্থ রাখা সম্ভব।

ডা. সাকিব আল নাহিয়ান, ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ

Comments

0 total

Be the first to comment.

হঠাৎ পা কেন ফুলেছে? Prothomalo | সুস্থতা

হঠাৎ পা কেন ফুলেছে?

প্রশ্ন: আমার বয়স ৫৮ বছর, উচ্চতা ৫ ফুট ৩ ইঞ্চি। আমার ওজন ৬৭ কেজি ৮০০ গ্রাম। কয়েক দিন আগে আমার হাঁটু...

Oct 03, 2025

More from this User

View all posts by admin