আজকাল বাবা মায়ের সবচেয়ে বড় মাথা ব্যথা শিশুর গেজেট নির্ভরশীলতা। বিশেষত কর্মজীবী বাবা মায়েদের একক পরিবারের শিশুদের ক্ষেত্রে এটি বেশি দেখা যায়। কাজ শেষে বাসায় ফিরে রান্না ঘরে গেলে শিশুর হাতে মোবাইল বা সামনে টিভিটা ছেড়ে দিয়ে যেতে হয়। বাবা মা তাদের হাতের কাজগুলো তাড়াহুড়ো করে শেষ করতে গেলেও শিশুকে ডিভাইসে ব্যস্ত রেখে সেটা করতে হয়। একসময় গিয়ে দেখা যায় আপনার সন্তান ডিভাইসে আসক্ত হয়ে গেছে। তখন যদি আপনি তাকে বলেন, ‘মোবাইলে এত সময় দেওয়া যাবে না’। তখন সে শুনবে কেন। আবার ধরুন, শিশু মূলত আচরণ শিখে বাবা মায়ের কাছ থেকে। প্রতিটি মানুষ মোবাইলে এত সময় দেন যে, শিশুটি মনে করে তারও ওইটাই করতে হবে। একসময় সে যখন বিচ্ছিন্ন বোধ করবে তখন তাকে, ‘এটা করা যাবে না’ বলার সুযোগ নেই। তার আগে তাকে অন্য অপশন দিতে হবে এবং সে আগ্রহবোধ করবে এমনকিছু দিতে হবে।
শিশুদের ডিভাইস আসক্তির ক্ষতি
শিশুর ডিভাইস আসক্তিতে তিন ধরনের ক্ষতি হতে পারে। তারমধ্যে একটি হলো শারীরিক ক্ষতি। দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনে তাকালে চোখ লাল হওয়া,ঝাপসা দেখা, ‘ডিজিটাল আই স্ট্রেইন’-এর মতো চোখের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। শিশুর ঘুমের ব্যাঘাতও একটা বড় সমস্যা। ব্লু লাইট ঘুমের হরমোন (মেলাটোনিন) কমায়, ঘুম কম হয় বা দেরি করে। মনে রাখবেন, বাইরে খেলাধুলা না করলে হাড়-মাংসপেশি সঠিকভাবে বিকশিত হয় না। এছাড়া আছে মানসিক ক্ষতি। শিশুর পড়াশোনা বা অন্য কাজে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায়। এর কারণে রাগ, বিরক্তি, চেঁচামেচি বাড়ে—বিশেষ করে ডিভাইস কেড়ে নিলে। এছাড়া সামাজিক যে ক্ষতিগুলো ঘটে তাহলো, বন্ধু বা পরিবারের সাথে মেলামেশা কমে যায়। যোগাযোগ দক্ষতা, সমস্যা সমাধান, দলগত কাজের ক্ষমতা কমে যায়। এসব যখন আপনার শিশুর ক্ষেত্রে ঘটবে তখন দেখবেন, শিক্ষাগত পারফরম্যান্স খারাপ হয়ে যায়। আত্মনিয়ন্ত্রণ ও ধৈর্যশক্তি কমে যায়।
কী করতে পারেন
নানা অ্যাক্টিভিটি পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে শিশুকে ডিভাইস থেকে দূরে নেওয়া যেতে পারে। শিশুদের দৈনিক রুটিনে ছোট ছোট খেলার, ক্রাফট বা আর্ট–ক্রিয়েশন টাইম রাখুন। আশেপাশের বাসার শিশুদের সঙ্গে খেলতে দিন। তবে সেই সময়টাই কোনও না কোনও অভিভাবক যেন উপস্থিত থাকেন সেই খেয়াল রাখবেন।
-গেমস বা স্পোর্টস অ্যাক্টিভিটি (ফুটবল, সাইকেল চালানো বা দৌড়) দিয়ে শিশুকে ব্যস্ত রাখতে পারে।
-পেইন্টিং, কল্পকাহিনি লেখা, লেগো বা ব্লক তৈরি করতে দিতে পারেন।
-মিউজিক বা ছোট নাটক, গান, কাহিনি বলার সময় শিশু মনোযোগ দেয় কিনা খেয়াল করুন।
-যদি নির্দিষ্ট সময় ডিভাইস ছাড়া অন্য খেলায় ব্যস্ত থাকে, তাহলে তাকে পুরস্কৃত করুন।
ছোট শিশুরা সাধারণত ২০–৩০ মিনিটের ব্যস্ততা ভালোভাবে ধরে রাখতে পারে। তাই বড় প্ল্যান করার আগে ছোট ছোট সেশন ভাবুন। মনে রাখবেন, অ্যাক্টিভিটি যত মজাদার হবে, শিশুর মনোযোগ ততো বেশি থাকবে এবং ডিভাইসের প্রতি আকর্ষণ কমবে।