বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিম তখন শয্যাশায়ী। মৃত্যুর ঠিক তিন দিন আগে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে শিষ্য বশিরউদ্দিন সরকারের কাছে গান শুনতে চাইলেন। নিজের গানের পাশাপাশি তিনি শোনালেন গুরু আবদুল করিমের লেখা ‘কোন মিস্তরি নাও বানাইলো/ কেমন দেখা যায়/ ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে/ ময়ূরপঙ্খি নায়।’ গানটি শুনতে শুনতে অঝোরে কাঁদছিলেন আবদুল করিম।
বাউলসম্রাটের আশীর্বাদপুষ্ট সিলেট অঞ্চলের বিশিষ্ট শিল্পী বশিরউদ্দিন সরকারের স্মরণে শোকসভায় কথাগুলো বলেন বক্তারা। গতকাল বেলা তিনটার দিকে সিলেট নগরের সারদা হলে শুরু হওয়া এই শোকসভার আয়োজন করে সিলেট বিভাগের বাউল ঐক্য পরিষদ। চলতি বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন বশিরউদ্দিন সরকার।
বক্তারা গল্পের ফাঁকে ফাঁকে বলেন, শাহ আবদুল করিমের চোখে পানি দেখে সবাই তখন বশিরউদ্দিনকে দোষারোপ করতে থাকেন, কেন তিনি এ গান শোনালেন! করিম বিষয়টি লক্ষ করে ইশারায় সবাইকে শান্ত হতে বললেন। ওই দিন গান শোনানোর এক ফাঁকে শাহ আবদুল করিম হাত মুঠো করে প্রতীকী কিছু তুলে দেন বশিরউদ্দিনের হাতে। এরপর বলেছিলেন, ‘তোমার ঠেখন নাই (তুমি আটকাবে না)।’ বশিরউদ্দিনও হাত পেতে সানন্দে গ্রহণ করেছিলেন সেই আশীর্বাদ। প্রতীকী উপহারটি গ্রহণ করে যতনে রাখেন নিজের পকেটে। এরপর আবদুল করিমের প্রসঙ্গ উঠলেই বশিরউদ্দিন বলতেন, ‘এখন পর্যন্ত বাবার (আবদুল করিম) দোয়ায় ঠেকিনি কোথাও।’
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি বিরহী কালা মিয়ার সভাপতিত্বে এ শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত চলা শোকসভায় বক্তব্য দেন নাট্যব্যক্তিত্ব আমিরুল ইসলাম চৌধুরী, লেখক সুমনকুমার দাশ, নাট্যব্যক্তিত্ব শামসুল বাসিত ও আনোয়ার হোসেন। এ কে এম কামরুজ্জামানের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বাউল সূর্যলাল দাস।
শোকসভায় আরও বক্তব্য দেন বিরহী লাল মিয়া, আলাউদ্দিন হোসেন শাহ, বোরহান উদ্দিন মাইজভান্ডারি, বাউল কানাইলাল সরকার, বাউল আলাউদ্দিন, ছড়াকার সিরাজ উদ্দিন, শীতন বাবু, বাউল তারা মিয়া, কবি মিজানুর রহমান, বাউল পথিক রাজু, সৌভাগ্য রুবি প্রমুখ।