উন্নত ব্যবস্থাপনার নাম করে দেশের সমুদ্র বন্দর বিদেশি কোম্পানির কাছে তুলে দেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের কাজ নয় বলে জানিয়েছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নেতারা। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত ঢাকা সমাবেশে এ কথা বলেন দলটির নেতারা।
কর্মসূচিতে দলটির সিনিয়র নেতারাও বলেছেন, আমাদের সমর্থিত অন্তর্বর্তী সরকার গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য উপলব্ধিতে নিতে পারেনি; যে কারণে গত ১৪ মাসে বৈষম্যহীন মানবিক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিপুল সম্ভাবনা বিনষ্ট হয়েছে।
সমাবেশে পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের এই মাহেন্দ্রক্ষণে কারোরই হঠকারিতার কোনও অবকাশ নেই। বিচার ও সংস্কারের ধারায় আগামী ফেব্রুয়ারিতে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার পথকে প্রশস্ত করতে হবে। গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের সব রাজনৈতিক দল ও অংশীজনকে এই লক্ষে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, দুঃখজনক হচ্ছে আমাদের সমর্থিত অন্তর্বর্তী সরকার গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য উপলব্ধিতে নিতে পারেনি; যে কারণে গত ১৪ মাসে বৈষম্যহীন মানবিক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিপুল সম্ভাবনা বিনষ্ট হয়েছে। তিনি বলেন, ক্ষমতা গ্রহণের পর সরকারের একাংশ নিজেরা যেমন লোভে পড়েছে, তেমনি গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের মধ্যেও তারা লোভ আর ক্ষমতা-লিপ্সা জাগিয়ে তুলেছে। প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার অভাবে তারা রাজনৈতিক দল ও জনগণের নজিরবিহীন সমর্থনকে কাজে লাগাতে পারেনি, বরং এই সমর্থনকে তারা দুর্বলতা হিসাবে বিবেচনা করে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচন, গণভোট ও জুলাই সনদের ভিত্তিতে দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের অনেকটা নির্ভর করছে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার উপর। এ কারণে একদিকে সরকারকে যেমন যাবতীয় পক্ষপাতমূলক ভূমিকা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে, অন্যদিকে সবাইকে আস্থায় নিয়ে অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানে দৃঢ়চিত্ত ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। ফেব্রুয়ারির সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচনই কেবল এই সরকারকে মুক্তি দিতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে তিনি বলেন, নির্বাচনে আমরা আর কোনও টাকার খেলা দেখতে চাইনা। অতীতের মত নির্বাচনে টাকার খেলা আর পেশিশক্তির দৌরাত্ম চলতে দিলে আগামী সংসদও বিত্তবান আর ব্যবসায়ীদের ক্লাবে পরিণত হবে।
সমাবেশে পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী বলেন, গত ১৪ মাসে দারিদ্র্য, বেকারত্ব, চাকরিচ্যুতি ও না খাওয়া মানুষের সংখ্যা বেড়েছে, মানুষের প্রকৃত আয় কমে গেছে। বাজারের আগুনে মানুষ দিশেহারা। এই সময়কালে নারী-বিদ্বেষ নতুন চেহারা নিয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর পুরুষতান্ত্রিক মনোভাবের কারণে এবারও সংসদে নারীদের প্রত্যক্ষ নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আকবর খান বলেন, উন্নত ব্যবস্থাপনার নাম করে আমাদের সমুদ্র বন্দর বিদেশি কোম্পানির কাছে তুলে দেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের কাজ নয়। তিনি অবিলম্বে দেশ ও জনস্বার্থবিরোধী পদক্ষেপ থেকে সরে আসতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
সমবেতকণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সমাবেশ শুরু হয়।
জনগণের জীবন-জীবিকা নিশ্চিত, বাজার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম বন্ধ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সমগ্র প্রশাসন ঢেলে সাজানো, সরকার ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্ব উচ্ছেদ, দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনা বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার তৎপরতা বন্ধ, গণঅভ্যুত্থানের গণ-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন ও নির্বাচনের গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার আট দফা দাবিতে এই সমাবেশ ও গণমিছিলের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশের পর পার্টির পার্টির নেতা কর্মীদের গণমিছিল হাইকোর্ট, তোপখানা রোড, দৈনিক বাংলা, নয়া পল্টন, বিজয়নগর হয়ে সেগুনবাগিচায় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।