ভিন্ন নক্ষত্র থেকে আসা রহস্যময় আন্তনাক্ষত্রিক ধূমকেতু নিয়ে কয়েক মাস ধরেই বিভ্রান্তিতে রয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এবার নতুন করে তথ্য পর্যালোচনা করে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, আমাদের সৌরজগতের দিকে ধেয়ে আসা আন্তনাক্ষত্রিক ধূমকেতুটি আগের ধারণার চেয়ে অনেক বড়। যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী অ্যাভি লোয়েব জানিয়েছেন, ৩আই/অ্যাটলাস নামের ধূমকেতুটির ওজন ৩৩ বিলিয়ন টনের বেশি হতে পারে। তিনি ধূমকেতুটির গতিপথ পরীক্ষা করে এর পৃষ্ঠ থেকে নির্গত পদার্থের মোট ভরের ক্ষয় ও বহিঃপ্রবাহের গতির তুলনা করে লোয়েব জানান, এই ধূমকেতুর কেন্দ্রের ব্যাস সম্ভবত ৩.১ মাইলেরও বেশি। আগে রেকর্ড করা অন্য দুটি আন্তনাক্ষত্রিক বস্তুর মধ্যে সবচেয়ে বড় হতে পারে এটি।
ধূমকেতুটির কেন্দ্র সম্ভবত কার্বন ডাই–অক্সাইড গ্যাস ও বরফ দিয়ে গঠিত। এর বিস্তৃত বায়ুমণ্ডল বা কোমাতে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই–অক্সাইড গ্যাস রয়েছে। ধূমকেতুটি প্রথম শনাক্ত করা হয় গত জুলাই মাসে। নাসার অর্থায়নে পরিচালিত চিলির রিও হুরতাডোতে অবস্থিত গ্রহাণু প্রভাবের প্রাথমিক সতর্কীকরণ ব্যবস্থা অ্যাস্টারয়েড টেরেস্ট্রিয়াল-ইম্প্যাক্ট লাস্ট অ্যালার্ট সিস্টেম (অ্যাটলাস) থেকে সংগ্রহ করা তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রথম ধূমকেতুটির উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। প্রথমে ভিন্ন কোনো বস্তু হিসেবে মনে করা হলেও পরে বিজ্ঞানীরা বস্তুটিকে ধূমকেতু হিসেবে আখ্যা দেন।
নাসা জানিয়েছে, ধনু নক্ষত্রমণ্ডলের দিক থেকে আসার পর এই আন্তনাক্ষত্রিক ধূমকেতুটি আমাদের সৌরজগতের মধ্য দিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। ধূমকেতুটি পৃথিবীর জন্য কোনো হুমকি নয়। তবে এর অস্বাভাবিক গতিপথের কারণে এটি সম্ভবত বৃহস্পতি, মঙ্গল ও শুক্র গ্রহের খুব কাছ দিয়ে যাবে। এর আগে এ মাসের শুরুর দিকে বিজ্ঞানী লোয়েব জানান, আগামী ৩ অক্টোবর ধূমকেতুটি মঙ্গল গ্রহের কক্ষপথ থেকে ১৬ লাখ ৭০ হাজার মাইল দূরে অবস্থান করবে।
ইতিহাসে এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো সৌরজগতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করা কোনো আন্তনাক্ষত্রিক বস্তু শনাক্ত করা হয়েছে। এর আগে ২০১৭ সালে ওউমুয়ামুয়া নামের একটি চুরুট আকৃতির আন্তনাক্ষত্রিক বস্তু শনাক্ত করা হয়েছিল। এ ছাড়া ২০১৯ সালে ২১/বরিসভ নামের একটি ধূমকেতুর সন্ধান পাওয়া যায়। সেটি সম্ভবত অন্য কোনো নক্ষত্রমণ্ডল থেকে পথভ্রষ্ট হয়ে এখানে চলে এসেছিল। নাসা জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের পর ৩আই/অ্যাটলাস সূর্যের এত কাছে চলে যাবে যে তা আর দৃশ্যমান থাকবে না।
সূত্র: এবিসি নিউজ