আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জনবল এবং রিটার্নিং অফিসার নিয়োগের প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, সরকারের কাছ থেকে লোকবল ভাড়া করে আনার বদলে নির্বাচন কমিশনের নিজেদের মধ্য থেকে রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
বুধবার (১৯ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ইসির সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
আব্দুল মঈন খান বলেন, রিটার্নিং অফিসার নির্বাচন কমিশনের বাইরে না থাকলে নির্বাচনের গুণগত পরিবর্তন আসবে। নির্বাচন কমিশনকে শক্ত থাকতে এবং তাদের সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহার করার আহ্বানও জানান তিনি।
বিএনপির এই নেতা মনে করেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে একটি সিস্টেমের মধ্যে আনতে হলে জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোর করণীয় একটাই—তা হলো নিয়মকানুন মেনে নির্বাচন করা।
তিনি বলেন, নিয়ম ভঙ্গ করে কেউ গায়ে জোর খাটালে কথা ও কাজের মধ্যে কোনও মিল থাকবে না।
তফসিল ঘোষণার পর আচরণ প্রতিপালন সম্পর্কে তিনি বলেন, স্বাধীনতা মানে যা খুশি তাই করা নয়, স্বাধীনতা কিছু নিয়মকানুনের ভেতরেই থাকে।
অঙ্গীকারনামা দেওয়ার বিধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগে অনেক নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও এ ধরনের অঙ্গীকার দিয়েছেন বলে তার মনে পড়ে না। অঙ্গীকারনামা আপনারা যতই নেন, আমরা যদি আমাদের বিহেভিয়ার নিজেরা কন্ট্রোল না করি, ওই সময় অঙ্গীকারনামা কোনও কাজ হবে না।
এসময় তিনি নির্বাচন কমিশনকে নিয়মকানুনের জটিলতা না বাড়িয়ে জিনিসগুলো সহজ রাখতে এবং মানুষকে সুনাগরিক হতে অনুপ্রাণিত করার পরামর্শ দেন।
প্রযুক্তিগত দিক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মঈন খান এআই এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ছড়ানো মিস ইনফরমেশন (ভুল তথ্য) নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, মানুষের বাক-স্বাধীনতা আছে, কিন্তু তা অপব্যবহার করা উচিত নয়। ফ্রিডম ফ্রিডম ইজ নট অ্যাবসলিউট ফ্রিডম—কোনও স্বাধীনতা এরকম না যে আমি যা কিছু করবো সেটাই ফ্রিডম। এ ব্যাপারে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার কথা বলেন তিনি।
সংলাপে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ভঙ্গ না করা, লিঙ্গ, বর্ণ, ধর্ম নিয়ে কোনও বৈষম্য না করা এবং ধর্মীয় উপাসনালয়কে রাজনৈতিক প্রচারণায় ব্যবহার না করার বিষয়ে সম্পূর্ণ সমর্থন জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য। তিনি বলেন, ধর্মকে রাজনীতির কারণ যেন কোথাও ব্যবহার করা না হয়।