রাজধানীর উত্তরা থেকে গত সোমবার বিকালে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। লাশ উদ্ধারের ৩০ ঘণ্টার মধ্যেই ক্লুলেস এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে চারজনকে। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি, বিশেষ কায়দায় তৈরি নাইলনের রশি ও নিহতের অটোরিকশা।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- সামিদুল হক মনা (৪২), রবিউল ইসলাম রানা (২০), হজরত আলি (৪৫) ও নয়ন মিয়া (৩০)।
বুধবার (১৯ নভেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার মুহিদুল ইসলাম।
মুহিদুল ইসলাম বলেন, “সোমবার বিকাল আনুমানিক ৪টার দিকে তুরাগ থানাধীন ১৭ নম্বর সেক্টরের ৭ নম্বর ব্রিজের পাশে একটি ফাঁকা জমির ছনের ভেতর গলাকাটা অবস্থায় অজ্ঞাত এক কিশোরের (বয়স আনুমানিক ১৬) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে ৯৯৯-এ খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে তুরাগ থানা পুলিশ মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।”
তিনি বলেন, “নিখোঁজ সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে জানা যায়, নিহত কিশোরের নাম শান্ত । তিনি গত রবিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে রিকশা চালাতে বের হয়ে আর বাসায় ফিরে আসেনি। এ ঘটনায় মা বাদী হয়ে কাফরুল থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেছিলেন। পরে নিহতের মামা মো শহিদুল ইসলাম মরদেহটি তার ভাগনের বলে শনাক্ত করেন।”
তিনি আরও বলেন, “তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তুরাগ থানা পুলিশ অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদের শনাক্ত করে। প্রথমে কাফরুল এলাকা থেকে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী সামিদুল হক মনাকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দেয় এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের নাম ঠিকানা প্রকাশ করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।”
গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্যে ও তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানিয়েছে, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে শান্তকে ৭ নম্বর ব্রিজের কাছে নিয়ে যায় দুজন। সেখান থেকে কৌশলে ফাঁকা জমিতে নিয়ে রবিউল ইসলাম রানা নাইলনের রশি দিয়ে গলা চেপে ধরে এবং সামিদুল হক মনা ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে ভিকটিম শান্তকে হত্যা করে। পরে তারা অটোরিকশাটি নিয়ে ভাষানটেকের দিকে চলে যায়। হজরত আলির সহায়তায় নেত্রকোনার দুর্গাপুরে নয়ন মিয়ার কাছে রিকশাটি ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।”
এ ঘটনায় তুরাগ থানায় নিয়মিত হত্যা মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।