স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার বিরুদ্ধে বিএনপি নেতাকে মারধরের অভিযোগ

স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার বিরুদ্ধে বিএনপি নেতাকে মারধরের অভিযোগ

গাজীপুরের শ্রীপুরে পূর্ব বিরোধের (ভাড়া চাওয়ায়) জেরে বিএনপি নেতাকে হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় রবিবার (১৬ নভেম্বর) সকালে বিএনপি নেতার ছেলে সাব্বির শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

এর আগে শনিবার বিকালে উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের নান্দিয়া সাঙ্গুন গ্রামে এ হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে।

হামলায় আহত মতিউর রহমান (৬০) উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের নান্দিয়া সাঙ্গুন গ্রামের মৃত নূরুদ্দিনের ছেলে। তিনি কাওরাইদ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক।

অভিযুক্ত কবির ঢালী (৪৭) একই গ্রামের মৃত মমতাজ উদ্দিন ঢালীর ছেলে। তিনি কাওরাইদ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।

আহত বিএনপি নেতার ছেলে সাব্বির (২৭) বলেন, ‘বছর খানেক আগে অভিযুক্ত কবির ঢালী আমাদের জমি ভাড়া নিয়ে সেখানে বৈশাখী মেলার আয়োজন করেন। ওই মেলা বিরতিহীনভাবে ১০ দিন ধরে চলে। মেলা শেষে জমির ভাড়া দেওয়ার কথা থাকলেও না দিয়ে নির্দিষ্ট সময় পর মেলা বন্ধ করে দেন। ভাড়া দেওয়ার বিষয়ে একাধিকবার বৈঠক ও আলোচনা হয়েছে। পরে তার কাছে ভাড়া চাইলে দিই-দিচ্ছি বলে সময় পার করতে থাকেন। শনিবার বিকাল ৩টার দিকে আমার বাবা মতিউর রহমান নান্দিয়া সাঙ্গুন (বায়তুন নুর জামে মসজিদের দক্ষিণ) পাশের রাস্তা দিয়ে বাড়ির পাশে নদীর পাড়ে যাচ্ছিলেন। সে সময় কবির ঢালী ও তার ৬ জন সহযোগী বাবাকে উদ্দেশ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছিলেন। কেন গালিগালাজ করছেন, জিজ্ঞাসা করলে কিছু বুঝে ওঠার আগেই অভিযুক্তরা আমার বাবাকে মারধর শুরু করেন।

‘এক পর্যায়ে কবির ঢালীর হাতে থাকা দা দিয়ে বাবাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় কোপ দিলে বাঁ চোখের উপরে লেগে কেটে যায় এবং গুরুতর আহত হন। পরে কবির ও তার সহযোগীরা গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করে। বাবার ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে অভিযুক্তরা হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।’

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত কবির ঢালীর ফোনে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, ‘কাওরাইদের নান্দিয়া সাঙ্গুন গ্রামে মারামারির ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি তদন্তের জন্য একজন উপ-পরিদর্শককে (এসআই) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin