চীনের তাইওয়ান বিষয়ে জাপান ‘অবস্থান অপরিবর্তিত’ থাকার দাবি করলেও, তারা যেন সীমারেখা অতিক্রম না করে। বৃহস্পতিবার এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এমন সতর্কবার্তা দেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং।
জাপানের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাপানের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দাবি করেছেন যে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সম্প্রতি তাইওয়ানকে ঘিরে যে মন্তব্য করেছেন, তা সরকারের বিদ্যমান নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনে না এবং জাপান এ অবস্থান থেকে সরে আসারও পরিকল্পনা করছে না।
ব্রিফিংয়ে মাও নিং বলেন, তাইওয়ান প্রশ্নে জাপান সরকারের উচিত চীন–জাপানের মধ্যে বিদ্যমান চারটি রাজনৈতিক দলিলের নীতি অনুসরণ করা। ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ধারণাগুলোকে অস্পষ্ট করা বা ইতিহাসের গতিপথ পাল্টানোর চেষ্টা করা উচিত নয়।
মাও বলেন, তাইওয়ানের চীনে প্রত্যাবর্তন ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিজয়ের ফল এবং যুদ্ধোত্তর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটিকে পরিবর্তন করার অধিকার কারও নেই।
তিনি আরও বলেন, যদি জাপানের অবস্থান সত্যিই অপরিবর্তিত থাকে, তাহলে তাদের নেতার উচিত নয় তাইওয়ান প্রশ্নের সঙ্গে তথাকথিত ‘জাতীয় অস্তিত্বের জন্য হুমকির মতো পরিস্থিতি’ এ ধরনের ধারণাকে যুক্ত করা। শুধু ‘অবস্থান বদলায়নি’ বললেই চীনের উদ্বেগ দূর হবে না।
জাপানকে চীনের উদ্বেগকে গুরুত্ব সহকারে নেওয়া, ভুল মন্তব্য প্রত্যাহার, এবং নিজেদের প্রতিশ্রুতি বাস্তব পদক্ষেপে রূপান্তর করার আহ্বান জানান মাও।
এদিকে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির ‘ভুল মন্তব্য’ চীনের জনগণের মধ্যে তীব্র জনরোষ সৃষ্টি করেছে। অবিলম্বে এ মন্তব্য সংশোধন করার জন্য জাপানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে চীন।
বৃহস্পতিবার চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হ্য ইয়ংছিয়ান এ আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন. ‘চীনের সাথে বোঝাপড়ার এটা সঠিক উপায় নয়। আমরা জাপানকে তাদের ভুল কাজগুলো অবিলম্বে সংশোধন করার জন্য জোরালোভাবে আহ্বান জানাচ্ছি।’