জনপ্রিয় সংক্ষিপ্ত সময়ের ভিডিও অ্যাপ-টিকটককে মার্কিন নিয়ন্ত্রিত মালিকানায় স্থানান্তরের জন্য কাঠামোগত চুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মার্কিন ও চীনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই চুক্তি আগামী শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের মধ্যে ফোনালাপের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
১৭ কোটি মার্কিন ব্যবহারকারীর টিকটক নিয়ে এই সম্ভাব্য চুক্তি বিশ্বের এক নম্বর ও দুই নম্বর অর্থনীতির মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা আলোচনায় একটি বিরল অগ্রগতি। একে বৈশ্বিক বাজারকে অস্থির করে তোলা ব্যাপক বাণিজ্যযুদ্ধ প্রশমনের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মাদ্রিদে চীনা আলোচকদের সঙ্গে বৈঠকের পর মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ১৭ সেপ্টেম্বরের সময়সীমা—যা যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাপটির কার্যক্রম ব্যাহত করতে পারত—চীনা আলোচকদের একটি সম্ভাব্য চুক্তিতে পৌঁছাতে উৎসাহিত করেছে।
তিনি জানান, সেই সময়সীমা ৯০ দিন বাড়ানো হতে পারে যাতে চুক্তিটি চূড়ান্ত করা যায়। তবে তিনি এর নির্দিষ্ট বিবরণ প্রকাশ করতে অস্বীকার করেছেন।
বেসেন্ট বলেন, যখন বাণিজ্যিক শর্তগুলো প্রকাশ করা হবে, তখন এটি টিকটকের সাংস্কৃতিক দিকগুলো সংরক্ষণ করবে, যেগুলো চীনা আলোচকরা গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, তারা অ্যাপটির চীনা বৈশিষ্ট্যগুলোর প্রতি আগ্রহী, যা তারা সফট পাওয়ার মনে করে। আমরা চীনা বৈশিষ্ট্য নিয়ে মাথা ঘামাই না। আমরা জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত।
চলতি বছর দ্বিতীয়বারের মতো দুই পক্ষ বলছে যে, তারা টিকটক নিয়ে চুক্তির কাছাকাছি এসেছে। মার্চের আগের ঘোষণা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।
যেকোনও চুক্তির জন্য রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে। ২০২৪ সালে পাস হওয়া এক আইন টিকটকের মার্কিন ব্যবহারকারীর তথ্য চীনা সরকারের হাতে যেতে পারে—এমন আশঙ্কায় অ্যাপটির মালিকানা পরিবর্তন বাধ্যতামূলক করে। ওয়াশিংটন আশঙ্কা করছে, বেইজিং এভাবে মার্কিনিদের ওপর নজরদারি চালাতে বা অ্যাপটির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারমূলক কার্যক্রম চালাতে পারে।
তবে ট্রাম্প প্রশাসন বারবার অ্যাপটি বন্ধ করে দেওয়ার পদক্ষেপ থেকে বিরত থেকেছে। কারণ তা অ্যাপটির লাখো ব্যবহারকারীকে ক্ষুব্ধ করতে পারে এবং রাজনৈতিক যোগাযোগ ব্যাহত করতে পারে। ট্রাম্প টিকটককে কৃতিত্ব দিয়েছেন গত বছর পুনঃনির্বাচনে জয়লাভে সাহায্য করার জন্য। তার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে ১ কোটি ৫০ লাখ অনুসারী রয়েছে। হোয়াইট হাউজ গত মাসে একটি আনুষ্ঠানিক টিকটক অ্যাকাউন্টও চালু করেছে।
ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, “আমাদের দেশে তরুণদের খুব প্রিয় একটি কোম্পানি বাঁচানোর জন্যও একটি ‘চমৎকার’ চুক্তি হয়েছে। তারা খুব খুশি হবে! আমি শুক্রবার প্রেসিডেন্ট শি’র সঙ্গে কথা বলব। সম্পর্ক এখনও অত্যন্ত শক্তিশালী!!!”
বেসেন্ট বলেননি, মূল কোম্পানি বাইটড্যান্স অ্যাপটির মৌলিক প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ অনির্দিষ্ট মার্কিনি ক্রেতার কাছে হস্তান্তর করবে কিনা। চীনা সাইবারস্পেস নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তা ওয়াং জিংতাও বলেছেন, চুক্তিতে মেধাস্বত্বের অধিকার, অ্যালগরিদমসহ প্রযুক্তির লাইসেন্স অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
টিকটকের বাইরে, জাতীয় নিরাপত্তার উদ্বেগ দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্র চীনের কাছে সেমিকন্ডাক্টর ও অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তি সরবরাহ বন্ধ করেছে এবং এমন চীনা পণ্য নিষিদ্ধ করেছে, যেগুলো দিয়ে মার্কিনিদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি বা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ সম্ভব বলে ওয়াশিংটন সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে।
চীনের শীর্ষ বাণিজ্য আলোচক লি চেংগ্যাং সাংবাদিকদের বলেছেন, এই উদ্বেগগুলো ‘একতরফা দমনমূলক কার্যকলাপ’ ছাড়া কিছু নয়।
ট্রাম্প-সি বৈঠক নিয়ে আলোচনা
ট্রাম্প বারবার শি’র সঙ্গে বৈঠকে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আর চীন তাকে বেইজিংয়ে এক শীর্ষ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানাতে চাইছে। বেসেন্ট বলেছেন, বৈঠক হবে কিনা তা শুক্রবারের ফোনালাপে দুই নেতার আলোচনার ওপর নির্ভর করছে।
আলোচনার সঙ্গে যুক্ত এক সূত্র জানিয়েছে, মার্কিনি দল চীনকে জানিয়েছিল যে মাদ্রিদে টিকটক নিয়ে কোনও চুক্তি না হলে এই শরতে সম্ভাব্য কোনও বৈঠক হবে না।