বাংলাদেশ ব্যাংক রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দেশের সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছে একটি নতুন নির্দেশনা পাঠিয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, একই সময়ে তিনটির বেশি ব্যাংকের শরিয়াহ সুপারভাইজরি কমিটির সদস্য হিসেবে কোনও ইসলামিক স্কলার নিয়োগ পেতে পারবেন না।
নির্দেশনার মধ্যে আরও বলা হয়েছে, এই পদে মনোনীত ব্যক্তিকে অবশ্যই ইসলামিক বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে। একজন সদস্যকে প্রতি মাসে ২৫ হাজার টাকা সম্মানী এবং প্রতি সভায় উপস্থিতির জন্য সর্বোচ্চ ৮ হাজার টাকা দেওয়া হবে। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ এই কমিটির সদস্য নিয়োগ ও অপসারণের একমাত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান।
দেশে বর্তমানে ১০টি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংক রয়েছে। এছাড়া প্রচলিত ধারার ১৭টি ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকিং উইন্ডো বা শাখা রয়েছে। সব ব্যাংকের জন্যই শরিয়াহ সুপারভাইজরি কমিটি থাকা বাধ্যতামূলক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, এই কমিটি ব্যাংকের শরিয়াহ নীতি প্রণয়ন ও কার্যক্রম পরিপালনের দায়িত্বে থাকে। তবে, বর্তমানে একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১৭টি ব্যাংকের শরিয়াহ সুপারভাইজরি কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এমন পরিস্থিতিতে সময় ও মনোযোগের অভাবে তারা কার্যকর ও স্বাধীন মতামত দিতে পারছেন না। অনেক ক্ষেত্রেই শুধুমাত্র উপস্থিতির ভিত্তিতে সম্মানী গ্রহণের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।
নতুন সার্কুলারে বলা হয়েছে, প্রতিটি ব্যাংকের শরিয়াহ সুপারভাইজরি কমিটিতে ৩ থেকে ৫ জন সদস্য থাকবে। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ থেকে সদস্য মনোনয়নের আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের ইসলামী ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগে পূর্ণ জীবনবৃত্তান্ত এবং পর্ষদের অনুমোদনের অনুলিপি পাঠাতে হবে। একজন সদস্য সর্বোচ্চ তিন বছরের জন্য নিয়োগ পাবেন। এর মধ্যে একজনকে চেয়ারম্যান করা হবে। মেয়াদ শেষ হলে কর্মদক্ষতা ও অন্যান্য গুণাবলির ভিত্তিতে পুনঃনিযুক্তি সম্ভব। তবে, কোনও ব্যক্তি একই ব্যাংকে ৬ বছর দায়িত্ব পালন করলে পরবর্তী পুনঃনিয়োগের আগে দুই বছর বিরতি বাধ্যতামূলক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নির্দেশনা ইসলামী ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা, নিয়ন্ত্রক তত্ত্বাবধান এবং কার্যকর শরিয়াহ মানদণ্ড নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।