বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ তার সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর উপস্থিত ছিলেন।
জবানবন্দিতে ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘২০০৮ সালের নির্বাচনের ১০ মাস আগেই নির্বাচনের ফলাফল দিল্লীতে নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল এবং এই পরিকল্পনা অনুযায়ী পরবর্তী ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভূমিধ্বস বিজয় হয়। নির্বাচনে এই ফল হওয়ার পেছনে জেনারেল মঈন এবং ডিজিএফআইয়ের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল। ডিজিএফআইয়ে সেই সময় কর্মরত ছিল ব্রিগেডিয়ার মামুন খালেদ। এই ইলেকশন মেকানিজমে ব্রিগেডিয়ার মামুন খালেদ যিনি পরবর্তীতে ডিজিএফআইয়ের প্রধান হয়েছিলেন এবং লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পদোন্নতি পেয়েছিলেন।
তিনি বলেন, ‘ডিজিএফআইয়ের মাধ্যমে বিএনপিকে বিভক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং কারচুপির মাধ্যমে আওয়ামী লীগের বিজয়ের ব্যবস্থা করেছিল। শেখ হাসিনা ক্ষমতাসীন হওয়ার পর তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, বাংলাদেশে একটি ফ্যাসিস্ট শাসন কায়েম করতে হলে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে দুর্বল করা আবশ্যক। কারণ দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর মোরাল যদি উচ্চ থাকে তাহলে তারা কোনও অবস্থাতেই একটি বিদেশী শক্তির ইঙ্গিতে দেশে কোনও পুতুল সরকারকে মেনে নেবে না। সুতরাং পরিকল্পনামতো শেখ হাসিনা ক্ষমতাসীন হওয়ার মাত্র দুই মাসের মধ্যে পরিকল্পিতভাবে বিডিআর হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। এই পরিকল্পনায় শেখ পরিবারের সদস্য এবং শেখ হাসিনার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ধানমন্ডির এমপি শেখ তাপস সরাসরি জড়িত ছিল। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচনের আগে থেকেই বিডিআরের কিছু সদস্যের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে শেখ তাপস এবং অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতারা বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পরিস্থিতি তৈরি করে। দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো বিডিআর হত্যাকাণ্ডে শেখ তাপসের জড়িত থাকার সব রকম প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তাকে কখনও বিচারের মুখোমুখি করা হয়নি।’
জবানবন্দিতে তিনি আরও বলেন, ‘শাহবাগের এই আন্দোলনের ফলে রাষ্ট্রের আইন পরিবর্তন করে রেট্রোসপেক্টিভ ইফেক্ট দিয়ে কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজাকে আপিল বিভাগে ফাঁসির রায়ে পরিবর্তন করা হয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি একটি চরম অবিচারের উদাহরণ হয়ে থাকবে। ফাঁসির দাবি করার বাইরেও গণজাগরণ মঞ্চের উদ্যোক্তাগণ বাংলাদেশের যেসমস্ত মিডিয়া এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তাদের বিবেচনায় ভিন্ন মতের ব্যক্তিদের মালিকানাধীন সেই সমস্ত প্রতিষ্ঠান বন্ধের দাবি জানায়। তাদের ন্যায়বিচার না করে ফাঁসির দাবি এবং ভিন্নমতের প্রতিষ্ঠান বন্ধের দাবির মধ্য দিয়ে পুরো প্রক্রিয়ায় ফ্যাসিবাদী চরিত্র উন্মোচিত হয়। সেই সময় আমার দেশ পত্রিকা জনগণকে এই ফ্যাসিস্ট প্রবণতার ব্যাপারে সতর্ক করার চেষ্টা করে। আমরা একটি সংবাদ প্রকাশ করি যার শিরোনাম ছিল “শাহবাগে ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি”।’
মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘শাপরা চত্বরে ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসের ৬ তারিখে সারাদেশ থেকে লাখ লাখ আলেম এবং মাদ্রাসার ছাত্ররা ঢাকায় এসে প্রতিবাদ বিক্ষোভ করে। আমার দেখা মতো বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় গণজমায়েত সেদিন ঢাকায় হয়েছিল। ঐ দিন তারা কতগুলো দাবিদাওয়া সম্বলিত একটি আল্টিমেটাম দেয়। সেই গণহত্যায় প্রধান ভূমিকা পালন করে তৎকালীন ডিএমপির কমিশনার বেনজীর আহমেদ, র্যাবের অপারেশন চীফ সে সময়কার কর্নেল জিয়াউল আহসান এবং বিজিবির তৎকালীন প্রধান মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ। এটা জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক যে, আজ পর্যন্ত শাপলা গণহত্যার বিচার বাংলাদেশে হয় নাই। শাপলা গণহত্যার কিছুদিন আগে ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে। সেই সময়কার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিচার চলছিল। ট্রাইব্যুনাল-১ এর মাননীয় চেয়ারম্যান ছিলেন বিচারপতি নিজামুল হক (নাসিম)। তিনি বিচারের নামে যে অবিচার করছিলেন তার একটি ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্ট আমার দেশ এবং লন্ডনের দি ইকোনমিস্ট পত্রিকায় ছাপা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিচারপতি নিজামুল হক তার বেঞ্চের মামলা নিয়ে বিদেশে অবস্থানরত একজন বাংলাদেশী জিয়া উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে নিয়মিত সলাপরামর্শ করতেন। তাদের স্কাইপ কথোপকথনের প্রমাণ এবং ই-মেইল আমার দেশ পত্রিকা এবং দি ইকোনমিস্ট পত্রিকার হাতে পৌঁছায়। সেই স্কাইপ কথোপকথনে দেখা যায় যে, পুরো বিচার প্রক্রিয়া একটি তামাশায় পরিণত হয়েছে। সাক্ষীর জেরার প্রশ্নোত্তর থেকে শুরু করে খসড়া রায় লিখে দেওয়া পর্যন্ত বিচারপতি নিজামুল হক, বেলজিয়ামে অবস্থানরত বাংলাদেশী নাগরিক জিয়া উদ্দিন আহম্মেদ এবং ট্রাইব্যুনালের সরকার পক্ষের আইনজীবী জিয়াদ আল মালুম নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনা করে আগে থেকেই নির্ধারণ করছেন। এই প্রসঙ্গে একটি উদাহরণ এখানে দেওয়া যেতে পারে। বিচারপতি নিজামুল হক সরকার পক্ষের আইনজীবী জিয়াদ আল মালুমকে আগে থেকে বলতেন যে, বিচার চলাকালে তিনি যেন মাঝে মধ্যেই দাঁড়িয়ে অবজেকশন জানান এবং বিচারপতি নিজামুল হক তাকে বসিয়ে দেবেন। ভাষাটা এরকম ছিল “আপনি দাড়াইয়া যাবেন আর আমি বসাইয়া দিমু, সবাই মনে করবে যে আমাদের খাতির নাই”। নিজামুল হক সাহেব আরেকবার তৎকালীন আপীল বিভাগের বিচারপতি এসকে সিনহার কাছে পদোন্নতির জন্য তদবির করছিলেন। উত্তরে বিচারপতি এসকে সিনহা তাকে বলছিলেন, পদোন্নতির আগে তাকে কয়েকটি রায় দিয়ে আসতে হবে। তৎকালীন আইনমন্ত্রী এবং আইন প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গেও বিচারপতি এসকে সিনহা ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখতেন। স্কাইপ কথোপকথন এবং ই-মেইলে যেসমস্ত নথিপত্র পাওয়া গিয়েছিল তাতে পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছিল যে, এই মামলাগুলোর রায় পূর্ব নির্ধারিত। জনগণকে বোকা বানানোর জন্য বিচারের নাটক করা হয়েছিল।’
২০১৩ সাল পর্যন্ত শেখ হাসিনা সেনাবাহিনী এবং বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিতে সমর্থ হন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সরকারি নিপীড়ন আরম্ভ হয়। কাদের মোল্লাকে ততদিনে তিনি ফাঁসি দিতে সক্ষম হন। এই পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনা বুঝতে পারেন যে, একতরফা নির্বাচন হলে তিনি সামাল দিতে পারবেন এবং এর পরে বাংলাদেশে তিন তিনটি নির্বাচনী তামাশা মঞ্চস্থ হয়। ২০১০ সালে আমি প্রথমবার গ্রেফতার হওয়ার পর আমাকে র্যাব-১ এর আয়নাঘর, যা টিএফআই সেল নামে পরিচিত, সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়। টিএফআই সেলে আমাকে শারীরিক নির্যাতন করা না হলেও বিভিন্ন উপায়ে মানসিক নির্যাতন করা হয়েছিল।’
মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘ভিন্ন মত এবং বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর জুলুমকে বৈধতা দেওয়ার জন্যে ফ্যাসিস্ট সরকার বাংলাদেশে ইসলামী জঙ্গিবাদের অপপ্রচার করে। জঙ্গি দমনের নামে তারা কিছুদিন পরপর বিভিন্ন নাটক তৈরি করেছে। এই সমস্ত নাটকে প্রধানত গ্রামের দরিদ্র, অসহায় জনগণের উপর জুলুম চালানো হয়েছে। শেখ হাসিনা ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠার পেছনে সরকারের বিভিন্ন বিভাগ, মিডিয়া এবং রাজনীতিবিদ তার সহযোগী ভূমিকা পালন করেছে। সরকারের বিভাগগুলোর মধ্যে বিচার বিভাগ, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন এবং সেনাবাহিনী বিশেষ করে ডিজিএফআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ডিজিএফআইকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর সামরিক এবং নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল তারেক সিদ্দীক মূল ভূমিকা পালন করেছে। বিচার বিভাগের মধ্যে বিচারপতি খায়রুল হক, বিচারপতি এসকে সিনহা, বিচারপতি মোজাম্মেল হোসেন, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দীকি, বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, বিচারপতি এনায়েতুর রহিম, বিচারপতি নিজামুল হক এবং বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বিশেষভাবে ফ্যাসিবাদকে শক্তি যুগিয়েছে। আইনজীবীদের মধ্যে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, সাবেক আইন সচিব দুলাল, প্রসিকিউটর রানা দাস গুপ্ত, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল আমিন উদ্দিন, সাবেক চীফ প্রসিকিউর গোলাম আরিফ টিপু, প্রসিকিউটর জিয়াদ আল মালুম, দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান এবং মোশাররফ হোসেন কাজল উল্লেখযোগ্য। পুলিশ বাহিনীর মধ্যে সাবেক আইজিপি শহিদুল হক, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, সাবেক আইজিপি আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাবেক আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী, সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ এবং সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে মনিরুল ইসলাম, আসাদুজ্জামান, হারুনুর রশীদ, বিপ্লব সরকার, মেহেদী হাসান, প্রলয় কুমার জোয়াদ্দার, হাবিবুর রহমান প্রমুখ ফ্যাসিস্ট সরকারের লাঠিয়ালের কাজ করেছে। নির্বাচন কমিশনের মধ্যে ২০১৪ সালের রকিব উদ্দিন কমিশন, ২০১৮ সালে নুরুল হুদা কমিশনের মরহুম মাহাবুব তালুকদার ব্যতীত অন্যান্য কমিশনারবৃন্দ এবং ২০২৪ সালের হাবিবুল আউয়াল কমিশনের সদস্যবৃন্দ বাংলাদেশে নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংসের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদকে দীর্ঘস্থায়ী করেছে। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে জাতীয় পার্টির হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ, রওশন এরশাদ, জিএম কাদের ফ্যাসিবাদের সহযোগী ভূমিকা পালন করেছে। ১৪ দলীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেনন, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, দিলীপ বড়ুয়া, নজিবুল বাশার মাইজভাণ্ডারী, ফজলে হোসেন বাদশা, শিরিন আক্তার এবং তাদের সঙ্গীরাও ফ্যাসিবাদ তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে। ১৪ দলের বাইরে মেজর জেনারেল ইব্রাহিম, শমশের মুবিন চৌধুরী, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, মিজবাউর রহমান চৌধুরী, কাদের সিদ্দীকি, মাহি বি চৌধুরী প্রমুখ ফ্যাসিবাদকে দীর্ঘায়িত করেছে।’
তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীর মধ্যে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার পিছনে ২০০৮ সালে জেনারেল মঈন ইউ আহমেদ, জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, তৎকালীন ডিজিএফআইয়ের কর্মকর্তা জেনারেল আমিন, ব্রিগেডিয়ার বারী এবং ব্রিগেডিয়ার মামুন খালেদ ভূমিকা রেখেছে। ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ এ ভুয়া নির্বাচনকালীন সময়ে ৩ সেনা প্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া, জেনারেল আজিজ আহমেদ এবং জেনারেল শফিউদ্দিন আহমেদ ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠায় তাদের নৈতিক দায় এড়াতে পারেন না। ডিজিএফআইয়ের অধিকাংশ ডিজি এই সময়ের মধ্যে সরকারের জুলুমের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এদের মধ্যে মোল্লা ফজলে আকবর, লে. জেনারেল মামুন খালেদ, লে. জেনারেল মোঃ আকবর হোসেন, জেনারেল সাইফুল আমিন, তাবরেজ শামস এবং হামিদুল হক ওম এবং অন্যান্য মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্ট। র্যাবের সেনা সদস্যদের মধ্যে মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান সবচেয়ে বিতর্কিত এবং জুলুমকারীর ভূমিকা পালন করেছে। বাংলাদেশের বাইরে থেকে ভারত শেষ হাসিনার ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠার পিছনে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি ছিল। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত সব সময় তার আধিপত্য কায়েম করতে চেয়েছে। শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় বসিয়ে ভারত বাংলাদেশকে প্রকৃতপক্ষে একটি অঘোষিত উপনিবেশে পরিণত করেছিলো। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে ভারতের তদানীন্তন পররাষ্ট্র সচিব ঢাকায় এসে জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধ্য করেছিলেন। এর মাধ্যমে ভারত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছে।’