জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর মামলায় সাক্ষ্য দিলেন দুজন

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর মামলায় সাক্ষ্য দিলেন দুজন

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানোর ঘটনায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুজন সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছেন।

আজ সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ শহীদ আস সাবুরের বড় ভাই মো. রিজওয়ানুল ইসলাম ও শহীদ সাজ্জাদ হোসেনের (সজল) বাবা মো. খলিলুর রহমান এই জবানবন্দি দেন।

শহীদ আস সাবুরের বড় ভাইয়ের জবানবন্দি

রিজওয়ানুল ইসলাম জবানবন্দিতে বলেন, তাঁর ছোট ভাই আস সাবুর দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল। গত বছরের ৫ আগস্ট আস সাবুর সকালে প্রাইভেট পড়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। তাঁকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আস সাবুর ফোন করে জানায়, বাইপাইল মোড়ের কাছে গোলাগুলি চলছে। তার সামনে একজনের মাথায় গুলি লেগেছে, একজনের কোমরে গুলি লেগেছে, একজনের পেটে গুলি লেগেছে। তিনি আস সাবুরকে বাড়ি ফিরে যাওয়ার কথা বলেন। কিন্তু আস সাবুর বলে, সব রাস্তা বন্ধ, অনেক মানুষ জমায়েত হয়ে আছে। তারপরও সে চেষ্টা করবে বাড়ি ফিরে যাওয়ার। কিন্তু দুপুরের পর থেকে তাকে ফোন দিলেও ধরেনি এবং বিকেলের পর থেকে নম্বরটি বন্ধ দেখায়। পরদিন ৬ আগস্ট বেলা সাড়ে ৩টার দিকে সমন্বয়ক ইমরান তাঁকে ফোনে জানান আস সাবুরকে পাওয়া গেছে। তিনি জিজ্ঞেস করেন, আস সাবুর কি বেঁচে আছে? তখন জানান, তাকে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

শহীদ সাজ্জাদের বাবার জবানবন্দি

শহীদ সাজ্জাদের বাবা খলিলুর রহমান জবানবন্দিতে বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট তিনি ঢাকার তেজগাঁও এলাকায় কর্মরত ছিলেন। তাঁর স্ত্রী আশুলিয়ার একটি হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। তাঁর স্ত্রী সেদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাঁকে ফোন দিয়ে জানান, তাঁদের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন মিছিলে গেছে। তিনি ডিউটি (দায়িত্ব পালন) শেষে সেদিন বিকেল ৫টায় ছেলের নম্বরে ফোন দিয়ে বন্ধ পান। তিনি তাঁর স্ত্রীকে ফোন দিয়ে খোঁজ নিতে বলেন। তবে সেদিন আর ছেলের সন্ধান পাননি।

পরের দিন (৬ আগস্ট) বেলা ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার দিকে একজন ছেলে খলিলুর রহমানকে ফোন দেন। সেই ফোন পেয়ে তিনিসহ পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য আশুলিয়া থানাসংলগ্ন মসজিদের সামনে যান। তখন আগুনে পোড়া লাশগুলো বের করে পলিথিনে মোড়ানো হচ্ছিল এবং লাশের সঙ্গে থাকা মালামাল চেক করছিল। তাঁর ছেলের সঙ্গে দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ড (পরিচয়পত্র) ছিল। সেই দুটি কার্ড দেখে তাঁর ছেলের লাশ শনাক্ত করা হয়।

সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে গতকাল রোববার এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। আজ প্রথম দিনে দুজন সাক্ষী জবানবন্দি দিলেন। মামলায় মোট আসামি ১৬ জন। তাঁদের মধ্যে ৮ আসামি গ্রেপ্তার আছেন। তাঁরা হলেন সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফী, ঢাকা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন, আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল মালেক, আরাফাত উদ্দীন, কামরুল হাসান, শেখ আবজালুল হক ও সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার। সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ এই মামলার আট আসামি পলাতক।

Comments

0 total

Be the first to comment.

সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে হাইকোর্টের চার বিচারপতির বিষয়ে তদন্ত চলছে Prothomalo | বাংলাদেশ

সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে হাইকোর্টের চার বিচারপতির বিষয়ে তদন্ত চলছে

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারকাজ থেকে বিরত রাখা হাইকোর্ট বিভাগের ১২ বিচারপতির মধ্যে ৪ বিচারপতির বিষয়ে...

Sep 13, 2025
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীর সঙ্গে মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের বৈঠক Prothomalo | বাংলাদেশ

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীর সঙ্গে মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের বৈঠক

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য...

Sep 12, 2025
দুর্গাপূজা যাতে শান্তিপূর্ণ না হতে পারে, সে জন্যই খাগড়াছড়ির ঘটনা: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা Prothomalo | বাংলাদেশ

দুর্গাপূজা যাতে শান্তিপূর্ণ না হতে পারে, সে জন্যই খাগড়াছড়ির ঘটনা: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

শারদীয় দুর্গাপূজা যেন শান্তিপূর্ণভাবে না হতে পারে, সে জন্যই খাগড়াছড়িতে ‘সহিংস ঘটনা ঘটানো’ হয়েছে বলে...

Oct 01, 2025

More from this User

View all posts by admin