সিরিয়া ও ইসরায়েল সীমান্তে উত্তেজনা কমাতে উভয় পক্ষ একটি উত্তেজনা নিরসন চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত টম ব্যারাক। তিনি বলেছেন, এই চুক্তি হলে ইসরায়েল হামলা বন্ধ করবে এবং সীমান্তের কাছে কোনও ভারী সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করবে না সিরিয়া। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মঙ্গলবার নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের এ কথা জানান ব্যারাক। তিনি বলেন, আমি মনে করি, সবাই ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনায় অংশ নিচ্ছে।
সিরিয়া ও ইসরায়েল কয়েক মাস ধরে নিরাপত্তা চুক্তি নিয়ে আলোচনায় করছে। দামেস্ক আশা করছে, এর মাধ্যমে ইসরায়েলি বিমান হামলা বন্ধ হবে এবং দক্ষিণ সিরিয়ায় প্রবেশ করা ইসরায়েলি সেনারা সরে যাবে। তবে ব্যারাক জানিয়েছেন, আলোচনায় এখনও যথেষ্ট অগ্রগতি হয়নি। ইহুদি নববর্ষ রোশ হাসানাহ উপলক্ষে প্রক্রিয়া ধীরগতিতে এগোচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের পুরনো বৈরী দেশ সিরিয়া ও ইসরায়েল। গত ডিসেম্বরে দীর্ঘ সময়ের শাসক বাশার আল–আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরও দুই দেশের মধ্যে ভূখণ্ডগত বিরোধ ও অবিশ্বাস রয়ে গেছে। নতুন অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল–শারার নেতৃত্বে সিরিয়া এখন ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনায় বসেছে।
কিন্তু ইসরায়েল সিরিয়ার নতুন সরকারকে দুর্বল রাখতে চায় বলে অভিযোগ করেছে দামেস্ক। আসাদ উৎখাতের পর ১৯৭৪ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিল করে ইসরায়েল সিরিয়ার সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় এবং রাজধানী দামেস্ক থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরত্বে সেনা পাঠায়। এরপর থেকে এক হাজারের বেশি বিমান হামলা ও চার শতাধিক স্থল অনুপ্রবেশ চালিয়েছে ইসরায়েল বলে দাবি করেছেন শারা।
নিউইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে শারা বলেন, আমরা ইসরায়েলকে ভয় পাই, আমরা ইসরায়েলের জন্য হুমকি নই। আলোচনায় বিলম্ব ও আকাশসীমা লঙ্ঘন আমাদের আরও দুর্বল করছে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, চুক্তি না হলে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও অস্থিতিশীলতা দেখা দিতে পারে।
তিনি আরও বলেন, সিরিয়া কোনও অবস্থাতেই বিভক্ত হবে না। সিরিয়ার ভাঙনের চেষ্টা হলে শুধু জর্ডান নয়, ইরাক ও তুরস্কও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে আমরা সবাই আবার শূন্য বিন্দুতে ফিরে যাব।
তবে শারা ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার মতো কোনও ঐতিহাসিক সমঝোতার সম্ভাবনা আপাতত নাকচ করেছেন। তার আশা, প্রথম ধাপে যদি উত্তেজনা নিরসনে চুক্তি হয়, তবে সেটিই হবে বড় অর্জন।