উত্তরণের পথ আলোচনার টেবিলে বের করা ভালো: জোনায়েদ সাকি

উত্তরণের পথ আলোচনার টেবিলে বের করা ভালো: জোনায়েদ সাকি

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, নানা দ্বিমতের মধ্যেও রাজনৈতিক দলগুলো দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা করে কিছু কিছু বিষয়ে একমত হয়েছে। রাজনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণের পথ আলোচনার টেবিলে বের করা ভালো।

আজ শনিবার বিকেলে প্রথম আলোর কার্যালয়ে এক গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নিয়ে জোনায়েদ সাকি এ কথাগুলো বলেন।

‘নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক সমঝোতার পথ’ শিরোনামে এ বৈঠকের আয়োজন করে প্রথম আলো।

ঐকমত্যের বিষয়গুলো এখন দুটো জায়গা এসে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে জোনায়েদ সাকি বলেন, কীভাবে এটা বাস্তবায়ন হবে এবং নির্বাচনের প্রশ্ন। এ দুটো জায়গায় কিছু সমাধান হলে সমঝোতার পথে এগিয়ে যাওয়া যাবে।

গণসংহতি আন্দোলনের এই নেতা আরও বলেন, একটা ধারণা প্রচলিত আছে যে নির্বাচনে বিএনপি জিতে যাবে এবং তারা কিছুই করবে না। এ ধারণার ব্যাপারে বিএনপির নিজের ভাবা উচিত এবং এটাতে আমলে নেওয়া প্রয়োজন।

জোনায়েদ সাকি বলেন, তাঁরা সংবিধানের কাঠামোতে থেকেই সংবিধানের মৌলিক সংস্কার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখন বাস্তবায়নের প্রশ্নে নিশ্চয়তা, অনাস্থার বিষয়গুলো আসছে। এ কারণে তাঁরা বলছিলেন যতটুকু জায়গায় ঐকমত্য হয়েছে, তার একটা আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি করা হোক। ঐক্যমত্যের বাস্তবায়নের একটা বাধ্যবাধকতা কিংবা আইনি জায়গা তৈরি করতে পারলে অনাস্থার জায়গাটা দূর হয়। কিন্তু অনাস্থাকে পুঁজি করে নিজস্ব রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা চাপিয়ে দিতে চাইলে বড় ধরনের ঝামেলা সৃষ্টি হবে।

তিনি আরও বলেন, ১৩ মাস পরে এসে এটাকে একটা ‘বিপ্লবী সরকার’ হিসেবে সংবিধান স্থগিত করে দিয়ে পুরো ব্যাপারটাকে সামলাতে গেলে সেই পথ খোলা আছে, কিন্তু সেটা যদি ঐকমত্যের ভিত্তিতে না হয় তা হলে একটা সংঘাত অনিবার্য ও সংকট জন্ম দেবে। যা দেশকে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা ও খাদে নিয়ে ফেলতে পারে।

জোনায়েদ সাকি মনে করেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকা দরকার ও ভাবা দরকার। জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে ঠিক করবেন কোন মতের পক্ষে তারা দাঁড়াচ্ছেন। তিনি বলেন, গণপরিষদের প্রস্তাব আসছে। আবার সংবিধানের সংশোধনের প্রস্তাবও আছে। গণপরিষদের সমস্যা হচ্ছে যে, সে একটা নতুন সংবিধানের এখতিয়ার পায়। যা অনেকে মানতে রাজি না। আবার সংশোধনীর সমস্যা হচ্ছে, এটা আদালত কর্তৃক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।

তিনি আরও বলেন, আগামী নির্বাচনে দুটো ক্ষমতা থাকা দরকার। নাম আপনি যেটাই দেন। আমাদের প্রস্তাব সংবিধান সংস্কার পরিষদ কিংবা সংবিধান সংস্কার সংসদ নামে। এই পরিষদ বা সংসদ সংবিধানের মৌলিক সংস্কার করার এখতিয়ার পাবে। তার মানে জনগণের ইচ্ছা এবং অভিপ্রায়ের প্রকাশ হিসেবেই এই সংস্কার সম্পন্ন হবে এবং তার ক্ষমতা জনগণের সংস্কার করতে দিচ্ছে। ভবিষ্যতে কোনো আদালত এইটাকে চ্যালেঞ্জ না করে বরং সুরক্ষা দিয়ে আসলে দায়িত্বপ্রাপ্ত হবে। এই সংসদ পাঁচ বছর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাবে।

জোনায়েদ সাকি বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ হয়ে উঠবে সবচেয়ে সংকটজনক জায়গা। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মিলে নির্বাচন কমিশন ও সরকার একটি পর্যবেক্ষণ কমিটি করতে পারে। যা চলতি মাস থেকেই কাজ করবে।

প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে গোলটেবিল বৈঠক শুরু হয়। সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ।

বৈঠকে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মতিউর রহমান আকন্দ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন।

আরও বক্তব্য দেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও বেসরকারি সংস্থা পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ কে আজাদ, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য বদিউল আলম মজুমদার, ওসমানী সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড সিকিউরিটির চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. মাহফুজুর রহমান, দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহ্ফুজ আনাম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা।

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin