রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক প্রায় তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। গত আগস্টে এক স্ট্যাটাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তো ভারতের অর্থনীতিকে 'মৃত' বলে বসেন। তবে ধনতেরাসে (দীপাবলির প্রথম দিন) ভারতজুড়ে কেনাবেচার পরিমাণ হয়তো হোয়াইট হাউজের অধিপতির দাবিকে ভুল প্রমাণের চেষ্টা করছে।
ভারতের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীদের সংগঠন কনফেডারেশন অব অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্সের দাবি, এবারের ধনতেরাসে দেশজুড়ে প্রায় এক লাখ কোটি রুপির কেনাকাটা হয়েছে। সংগঠনটির সম্পাদক প্রবীণ খাণ্ডেলওয়াল বলেন, ধনতেরাসে দেশজুড়ে স্বর্ণ, রৌপ্য এবং অন্যান্য শুভ জিনিসপত্রের মোট ব্যবসা এক লাখ কোটি রুপিরও বেশি হবে বলে অনুমান করছি।
তিনি আরও বলেন, এ সময় স্বর্ণের বাজারে ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে। প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে আমাদের ধারণা, কেবল স্বর্ণ ও রৌপ্যের লেনদেন হয়েছে ৬০ হাজার কোটি রুপিরও বেশি।
উল্লেখ্য, ধনতেরাসের দিন কোনও কিছু কিনলে সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায় বলেই বিশ্বাস করেন ভারতীয়রা।
সনাতন ধর্মীয় রীতি অনুসারে, ধনতেরাস উপলক্ষ্যে ভারতবাসী সাধারণত স্বর্ণ, রৌপ্যের জিনিসের পাশাপাশি বাসনকোসন, ইলেকট্রনিক্স, লক্ষ্মী-গণেশের মূর্তি, মাটির প্রদীপ, মোমবাতি এবং পূজার অন্যান্য সামগ্রী।
এবারের উৎসবে দিল্লিতে ১০ হাজার কোটি রুপিরও মূল্যের স্বর্ণ বিক্রি হয়েছে বলে জানা গেছে। গত বছরের তুলনায় ২৫ গুণ বেশি বিক্রির রেকর্ড হয়েছে এ বছর।
বর্তমানে ভারতে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী। গত বছর ১০ গ্রাম স্বর্ণের দাম যেখানে ছিল প্রায় ৮০ হাজার রুপি, সেটাই এবার বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে এক লাখ ৩০ হাজার রুপির বেশি। শতকরা বিচারে এই হার ৬০ শতাংশের কাছাকাছি।
২০২৪ সালে রৌপ্যের দাম ছিল প্রতি কেজি ৯৮ হাজার রুপি। এবার সেটা হয়েছে এক লাখ ৮০ হাজার রুপি। এখানে বৃদ্ধির হার ৫৫ শতাংশ।
তা সত্ত্বেও ধনতেরাসে এই দুই মূল্যবান ধাতু কিনতে পিছপা হননি ভারতীয় ক্রেতারা। ইন্ডিয়া বুলিয়ন অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সচিব সুরেন্দ্র মেহতা জানান, মুম্বইয়ের জাভেরি বাজারে স্বর্ণ ও রৌপ্যের কয়েন কেনার জন্য ভিড় উপচে পড়েছিল। স্বর্ণের চড়া দামের কারণে এবার রৌপ্যের বিক্রিবাট্টা বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।
কনফেডারেশন অব অল ইন্ডিয়া ট্রেডার্সের তরফে জানানো হয়েছে, স্বর্ণ ও রৌপ্য ছাড়াও ব্যাপক বিক্রিবাট্টা হয়েছে অন্যান্য সামগ্রীও। এর মধ্যে রয়েছে ১৫ হাজার কোটি রুপির রান্নাঘরের জিনিসপত্র, ১০ হাজার কোটি রুপির ইলেকট্রনিক্স পণ্য, সাজসজ্জার জিনিসপত্র, প্রদীপ। এছাড়া তিন হাজার কোটি রুপি মূল্যের পূজার অন্যান্য সামগ্রী বিক্রি হয়েছে। ১২ হাজার কোটি রুপির শুকনো ফল, মিষ্টি, পোশাক, যানবাহন এবং অন্যান্য জিনিসপত্র বিক্রি হয়েছে।