ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলীয় হোদাইদা বন্দরে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানা গেছে।
হুথি নিয়ন্ত্রিত আল মাসিরাহ টিভি জানিয়েছে, মঙ্গলবার ইসরায়েল ১২টি হামলা চালায়। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, হুথিদের সামরিক কার্যক্রমের জবাবেই এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। হামলার আগে ইসরায়েলের আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিচাই আদ্রেয়ি এক বার্তায় বন্দরের সবাইকে সরিয়ে নিতে সতর্ক করেছিলেন।
হুথি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক্সে লিখেছেন, আমাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে ইসরায়েলি বিমানকে প্রতিহত করছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রায় ১০ মিনিট ধরে হামলা চলে এবং তিনটি ডক লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বন্দরের দুজন কর্মকর্তা জানান, ইসরায়েলের হামলায় আগের দফায় ক্ষতিগ্রস্ত ডকগুলো আবার ধ্বংস হয়।
এদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হুথিরা আক্রমণ চালালে তারা আরও আঘাত পাবে এবং বড় মূল্য দিতে হবে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই হুথিরা ইসরায়েলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে এবং লোহিত সাগরে জাহাজ লক্ষ্যবস্তু করছে। এর জবাবে ইসরায়েল ইয়েমেনের বিদ্যুৎকেন্দ্র, বন্দরসহ বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
গত দুই সপ্তাহে হুথিরা ইসরায়েলের এয়ালাত শহরের রামন বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার দায় স্বীকার করেছে। হামলায় দুজন আহত হন এবং বিমানবন্দরের কার্যক্রম কয়েক ঘণ্টা বন্ধ থাকে।
এরই মধ্যে ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও আল-জওফ প্রদেশে সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলায় ডজনখানেক মানুষ নিহত হয়েছে। নিহতদের জানাজায় মঙ্গলবার শত শত মানুষ যোগ দেন। গত মাসে ইসরায়েলি হামলায় হুথি প্রধানমন্ত্রী আহমেদ আল-রাহাভি নিহত হন। এর পর থেকে সংগঠনটি প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করে, ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা আটক করেছে। হুথিদের তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখবে।