যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে এক চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এক ফোনালাপে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন এই দুই নেতা। যদিও বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ আসেনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
ট্রাম্প তার নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ স্যোশালে লিখেছেন, এই ফোনকলটি ছিল গঠনমূলক। তিনি শির অনুমোদনকে ‘কৃতজ্ঞতার সঙ্গে’ গ্রহণ করেছেন। এই চুক্তির আওতায় টিকটকের যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা বিক্রি করা হবে একদল মার্কিন বিনিয়োগকারীর কাছে।
চীনের সরকারি সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া অবশ্য আলোচনার ফলাফল স্পষ্ট করে জানায়নি। শিকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, বেইজিং টিকটক নিয়ে আলোচনাকে স্বাগত জানাচ্ছে।
চীনা প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্স পরিচালিত টিকটককে আগে জানানো হয়েছিল, তাদের অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রম বিক্রি করতে হবে। নইলে অ্যাপটি বন্ধ করে দেওয়া হবে।
তবে ট্রাম্প জানুয়ারিতে প্রথম এ ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে চারবার অ্যাপ বন্ধের সময়সীমা পিছিয়ে দেন এবং চলতি সপ্তাহের শুরুতে আবারও সময়সীমা বাড়িয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত করেন।
নিজের পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, দুপক্ষই বাণিজ্য ইস্যুতে অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং তারা দক্ষিণ কোরিয়ায় অক্টোবরে শুরু হতে যাওয়া এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) সম্মেলনে দেখা করবেন। পাশাপাশি তিনি চীন সফরেও যাবেন।
ট্রাম্প বলেছেন, আমি প্রেসিডেন্ট শির সঙ্গে একমত হয়েছি যে আমরা দক্ষিণ কোরিয়ার এপেক সম্মেলনে সাক্ষাৎ করব এবং আগামী বছরের শুরুর দিকে আমি চীন সফরে যাব। তিনি আরও বলেছেন, শি’ও উপযুক্ত সময়ে যুক্তরাষ্ট্র সফর করবেন।
শুক্রবার বিকেলে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, এখনও চুক্তিতে স্বাক্ষর বাকি এবং শিগগিরই এর একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া হতে পারে।
তিনি বলেন, আমরা সেই চুক্তি সম্পন্ন করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। যুক্তরাষ্ট্র অ্যাপটির ওপর খুব কড়া নিয়ন্ত্রণ রাখবে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই চুক্তির আওতায় একদল মার্কিন কোম্পানি—যার মধ্যে ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ ল্যারি এলিসন সহ-প্রতিষ্ঠিত ওরাকলও রয়েছে—বাইটড্যান্স থেকে লাইসেন্সকৃত অ্যালগরিদম প্রযুক্তি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।
তবে আলোচনার বড় জটিলতা হলো, টিকটকের ১৭ কোটি মার্কিন ব্যবহারকারীর কাছে কনটেন্ট পৌঁছে দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত শক্তিশালী অ্যালগরিদমটির মালিকানা কার হাতে থাকবে।
সিনহুয়া জানিয়েছে, টিকটক নিয়ে চীনের অবস্থান খুবই স্পষ্ট এবং তারা কোম্পানিগুলোকে বাজারের নিয়ম মেনে বাণিজ্যিক আলোচনায় অংশ নিতে এবং এমন সমাধানে পৌঁছাতে স্বাগত জানায় যা চীনা আইন ও বিধিবিধান এবং স্বার্থের ভারসাম্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, আমরা আশা করি যুক্তরাষ্ট্র চীনা কোম্পানিগুলোর জন্য উন্মুক্ত, ন্যায়সঙ্গত ও বৈষম্যহীন ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরি করবে।
শুক্রবার বাইটড্যান্সের এক বিবৃতি চুক্তির অবস্থান নিয়ে আরও সংশয় সৃষ্টি করে। সংস্থাটির এক মুখপাত্র বলেন, বাইটড্যান্স যুক্তরাষ্ট্রের আইনের নিয়মকানুন মেনে চলবে, যাতে টিকটক ব্যবহারকারীরা আমেরিকায় “টিকটক ইউএস” নামের আলাদা সংস্করণের মাধ্যমে অ্যাপটি ব্যবহার করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে টিকটক বজায় রাখার প্রচেষ্টার জন্য দুই প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
মার্কিন কংগ্রেসের বহু আইনপ্রণেতা—এমনকি ট্রাম্পের নিজের দলের কয়েকজনও—এই সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, বাইটড্যান্সের সঙ্গে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিসিপি) সম্পর্ক এখনও বড় ঝুঁকি।
যদিও ট্রাম্প প্রথম দফায় টিকটক নিষিদ্ধ করার ডাক দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে তিনি অবস্থান বদলেছেন। প্ল্যাটফর্মটিকে তিনি তার ২০২৪ সালের নির্বাচনি প্রচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছেন।