বিদেশ যাচ্ছেন? সীমান্তে ফোন তল্লাশি থেকে গোপনীয়তা রক্ষার উপায়গুলো জেনে নিন

বিদেশ যাচ্ছেন? সীমান্তে ফোন তল্লাশি থেকে গোপনীয়তা রক্ষার উপায়গুলো জেনে নিন

বিদেশ ভ্রমণের সময় নিজের স্মার্টফোনটি নিরাপদ রাখা এখন অনেক জরুরি। কারণ আপনার ফোনেই রয়েছে আপনার ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের প্রায় সব তথ্য। অথচ আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সময় এই ফোনই হয়ে উঠতে পারে সীমান্তে নজরদারির প্রধান লক্ষ্যবস্তু।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী “অযৌক্তিক অনুসন্ধান ও জব্দ” নিষিদ্ধ করলেও, ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) সংস্থার বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে—যে কোনও বিমান, স্থল বা সমুদ্রপথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় যাত্রীদের ইলেকট্রনিক ডিভাইস তল্লাশি করার। সিবিপি-এর তথ্যমতে, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশপথে মোট যাত্রীদের মাত্র ০.০১ শতাংশ-এর ডিভাইস তল্লাশি করা হয়, যার মধ্যে ৩৬ হাজারেরও বেশি ছিলেন বিদেশি নাগরিক।

তবে সাম্প্রতিক সময় ডিভাইস তল্লাশির হার বেড়েছে। তাই আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের জন্য এখনই সময় নিজেদের ডিভাইস সুরক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়ার।

সীমান্তে আপনার ফোন তল্লাশি করা হতে পারে কেন?

সিবিপি-এর মতে, ইলেকট্রনিক ডিভাইস তল্লাশি করা হয় যাত্রীদের ‘দেশে প্রবেশের উদ্দেশ্য যাচাই ও অভিবাসন আইন অনুযায়ী তাদের যোগ্যতা নির্ধারণের’ জন্য।

এই ব্যাখ্যাটি অনেকটাই অস্পষ্ট—অর্থাৎ, কী কারণে কারও ফোন তল্লাশি করা হতে পারে, তার স্পষ্ট কোনও নিয়ম নেই। সিদ্ধান্তটি নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ওপর।

ফোন তল্লাশিতে রাজি না হলে কী হবে?

এখানে বিষয়টি নির্ভর করছে আপনি মার্কিন নাগরিক কিনা তার ওপর।

সিবিপি জানিয়েছে, ফোনে পাসকোড বা নিরাপত্তা লক থাকলে, তা না খুললে ডিভাইসটি জব্দ বা আটক করা হতে পারে এবং যাত্রীর প্রসেসিং সময় বেড়ে যেতে পারে।

কর্মকর্তারা কী খুঁজে দেখেন?

সিবিপি দুই ধরণের অনুসন্ধানের কথা বলেছে:

তবে সীমান্ত কর্মকর্তারা ক্লাউডে থাকা তথ্য দেখতে পারেন না। তাই সীমান্ত পার হওয়ার আগে ডেটা ক্লাউডে ব্যাকআপ রাখাটা বুদ্ধিমানের কাজ।

ডিভাইস জব্দ হলে কী করবেন?

ইলেকট্রনিক ফ্রন্টিয়ার ফাউন্ডেশন (ইএফএফ) পরামর্শ দিয়েছে, ডিভাইস জব্দ হলে ফর্ম ৬০৫১ডি নামের একটি রশিদ চাইতে হবে, যাতে পরে সেটি ফেরত পাওয়া যায়।

মার্কিন নাগরিকদের ফোন তল্লাশিতে রাজি না হলেও দেশে প্রবেশে বাধা দেওয়া যায় না, কিন্তু বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আলাদা।

ভ্রমণের আগে নিজের ঝুঁকি মূল্যায়ন করুন

সবচেয়ে আগে ভাবুন—আপনার সঙ্গে কী কী ডিভাইস নেওয়া দরকার? প্রতিটি ডিভাইসেই যদি সংবেদনশীল তথ্য থাকে, তাহলে একটি বার্নার ফোন (অস্থায়ী ফোন) বা ফাঁকা ক্রোমবুক ব্যবহার করতে পারেন।

যদি আপনি সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিক বা কর্মী হয়ে থাকেন, তবে আপনার নজরদারির ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।

সীমান্ত পার হওয়ার আগে করণীয়

১. অ্যাকাউন্ট থেকে লগ আউট করুন: ফোন এয়ার মোডে থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ক্লাউডে থাকা তথ্য দেখতে পারবেন না।

২. ডেটা ব্যাকআপ করুন: সব তথ্য ক্লাউডে ব্যাকআপ করে ফোন থেকে মুছে ফেলুন।

৩. অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ ও ফাইল মুছুন: ব্রাউজিং হিস্ট্রি, চ্যাট লগ, সংবেদনশীল কন্টাক্ট তথ্য সরিয়ে ফেলুন।

৪. বার্তা পরিষ্কার করুন: সিগন্যাল বা হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করলে গ্রুপ চ্যাট ত্যাগ করুন, ‘ডিসঅ্যাপিয়ারিং মেসেজ’ চালু করুন।

৫. অ্যাপ আইকন পরিবর্তন করুন: সিগন্যাল বা টেলিগ্রাম-এর মতো অ্যাপের চেনা আইকন বদলে ফেলুন যাতে দৃষ্টি আকর্ষণ না করে।

৬. বায়োমেট্রিক আনলক বন্ধ করুন: ফেস আইডি বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যান বন্ধ রাখুন—কারণ কর্মকর্তার জোর করে তা ব্যবহার করতে পারে।

৭. রিমোট ওয়াইপ ফিচার সক্রিয় করুন: আইফোন বা অ্যান্ড্রোয়েড -এর রিমোট ডিলিট অপশন অন রাখুন, প্রয়োজনে দ্রুত ডেটা মুছে ফেলতে পারবেন।

৮. অ্যাডভান্সড প্রোটেকশন মোড চালু করুন: গুগল ওঅ্যৈাপল উভয়েরই এমন সুরক্ষা সেটিং আছে যা ক্লাউড ডেটা এনক্রিপ্ট করে।

৯. আপনার অবস্থান জানান: পরিবারের সদস্য বা বন্ধুকে জানিয়ে রাখুন আপনি কোথায় যাচ্ছেন। বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে একজন অভিবাসন আইনজীবীর যোগাযোগ নম্বর রাখাও জরুরি।

সীমান্তে ফোন তল্লাশি খুব সাধারণ নয়, তবে আগের চেয়ে বেড়েছে। তাই আগে থেকেই সতর্ক থাকা ভালো। ভ্রমণের প্রস্তুতির সময় নিজের তথ্য সুরক্ষায় এই পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করুন—এগুলো আপনার গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা দুটোই রক্ষা করবে।

Comments

0 total

Be the first to comment.

মাইক্রোসফটের সঙ্গে চুক্তি: ওপেনএআই’র বাজারমূল্য ৫০০ বিলিয়ন ডলার BanglaTribune | তথ্যপ্রযুক্তি

মাইক্রোসফটের সঙ্গে চুক্তি: ওপেনএআই’র বাজারমূল্য ৫০০ বিলিয়ন ডলার

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই এখন আর শুধু অলাভজনক সংস্থা নয়—এবার তার...

Oct 29, 2025

More from this User

View all posts by admin