এক বিশ্বমানের সৌন্দর্য যিনি কখনও তার রূপ দিয়ে নয়, বরং নিজস্ব স্বতন্ত্রতায় জয় করেছেন পৃথিবীকে—সেই ডায়ান কিটন আর নেই। ক্যালিফোর্নিয়ার নিজের বাসায় ১১ অক্টোবর শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। ‘দ্য গডফাদার’ সিরিজের কেই অ্যাডামস-কোরলিওনে চরিত্রে অভিনয় করে ১৯৭০-এর দশকে তিনি প্রথম খ্যাতি পান। এরপর তাকে দেখা যায় আরও অনেক আলোচিত সিনেমায়—‘ফাদার অব দ্য ব্রাইড’, ‘ফার্স্ট ওয়াইভস ক্লাব’, আর সবচেয়ে জনপ্রিয় ‘অ্যানি হল’, যেটির জন্য ১৯৭৮ সালে তিনি পান সেরা অভিনেত্রীর অস্কার।
ব্যক্তিত্বই হলো সেরা স্টাইল—এবং ডায়ান কিটনের চেয়ে ব্যক্তিগত স্টাইলের নিখুঁত উদাহরণ আর কেউ হয়তো হতে পারেন না। তার সিগনেচার পোশাক—শার্ট, টাই, বেল্টসহ ভেস্ট আর ঢিলেঢালা প্যান্ট ছিল একেবারেই ব্যতিক্রমী, যেখানে মিশে ছিল সৌন্দর্য আর খানিকটা খামখেয়ালিপনা। যেন একদিকে বু ব্রামেল, অন্যদিকে চার্লি চ্যাপলিন। ‘ছেলেদের পোশাক ধার করা’ কথাটিও তার জন্য যথেষ্ট নয়—তিনি সেটিকে করে তুলেছিলেন একান্ত নিজের। jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68ebb8e41bcc6" ) ); তার পোশাকের আসল আকর্ষণ ছিল এটিই—এটা ছিল ঠিক তার মতো। এক বিশ্বমানের সৌন্দর্য, যিনি কখনও সৌন্দর্যকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেননি। হলিউডের সবচেয়ে প্রথাবদ্ধ যুগেও তিনি ছিলেন এক শান্ত বিদ্রোহী, যিনি কোনও ছাঁচে নিজেকে গড়তে দেননি। কিটনের জন্য ফ্যাশন কখনোই ক্ষমতার প্রতীক ছিলো না; বরং ছিল আনন্দ, হাসি আর বুদ্ধিমত্তার সহজ মিশেল।
‘‘আমি ‘অ্যানি হল’ সিনেমার কথা ভাবলেই পোশাকের কথাই আগে আসে’’, তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন। ‘এটা আমার জন্য সবকিছু ছিল—আমি নিজের মতো করে পোশাক পরতে পেরেছিলাম।’
আসলে, ‘অ্যানি হল’ ছবিতে কিটনের যে পোশাক দেখা গেছে, তার অনেকটাই ছিল তার নিজের আলমারির সংগ্রহ। সিনেমার পোশাক বিভাগ যখন অন্যভাবে সাজাতে চেয়েছিল, তখন পরিচালক উডি অ্যালেন হস্তক্ষেপ করে বলেন, ‘ওকে ওর মতো থাকতে দাও। ও এক প্রতিভা। ও যা চায় তাই পরুক।’ jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68ebb8e41bcfa" ) ); অবশ্যই, হলিউড তখনও পুরুষতন্ত্রে আবদ্ধ ছিল। তাই কৃতিত্বের ভাগ দিতে চেয়েছিল ডিজাইনার রালফ লরেনকে, যিনি কিটনের জন্য একটি ব্লেজার ও টাই দিয়েছিলেন। কিন্তু লরেন নিজেই পরে লিখেছিলেন তার ২০২৪ সালের বই ‘ফ্যাশন ফার্স্ট’–এর ভূমিকায়: ‘‘আমাকে প্রায়ই বলা হয়, আমি ডায়ানকে ‘অ্যানি হল’–এ সাজিয়েছিলাম। আসলে তা নয়—অ্যানির স্টাইল ছিল ডায়ানের স্টাইল।”
ক্যারি গ্রান্টের মতোই, কিটনেরও ছিল সেলাই করা পোশাককে প্রাণবন্ত করে তোলার এক আশ্চর্য ক্ষমতা। ভারী কোট, মোটা বেল্ট, টুপি আর বড় ফ্রেমের চশমা—এসবের মধ্যেও তিনি এনে দিতেন এক জীবন্ত গতি। ফ্রেড অ্যাস্টেয়ারের নাচের মতোই তার পোশাকও যেন চলত, হাত পকেটে গুঁজে রাখা কিংবা টুপির সামান্য টিপে ধরা—সবই ছিল তার চরিত্রের এক্সটেনশন।
ডায়ান কিটন-এর অদ্ভুত ফ্যাশন নির্বাচন—যেমন রেড কার্পেটে টারটান শার্ট, সন্ধ্যার পোশাকে সাদা মোজা—মিডিয়ার কটাক্ষও কুড়িয়েছিল বহুবার। ২০০৪ সালের অস্কারে কালো টেইলকোট, সাদা কার্নেশন ফুল ও চামড়ার দস্তানা; আবার ২০২৩ সালে প্যারিসে থম ব্রাউন ফ্যাশন শো–তে পিনস্ট্রাইপ স্যুট, দুই রঙা প্ল্যাটফর্ম জুতা ও সসেজ আকৃতির হ্যান্ডব্যাগ! jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68ebb8e41bd29" ) ); ‘ফ্যাশন ফার্স্ট’ বইতে কিটন লিখেছেন, পুরুষদের পোশাক তাকে দিত ব্যক্তিগত গোপনীয়তার পরিসর। তার ভাষায়, ‘বড় একটা কোটই আমার কাছে বলগাউন।’
লেখক একবার তাকে দেখেছিলেন লস অ্যাঞ্জেলেসে রালফ লরেনের এক পার্টিতে। ভক্তসুলভ কণ্ঠে বলেছিলেন, ‘আমি কি আপনার একটা ছবি তুলতে পারি?’ কিটন হেসে উত্তর দিয়েছিলেন, ‘অবশ্যই! চলুন, সেলফি তুলি।’ ছবিতে দেখা যায়, তিনি পরে আছেন সাদা উঁচু কলারের ব্লাউজ আর বোলার হ্যাট। সেদিন তাকে দারুণ দেখাচ্ছিলো, কারণ তিনি ছিলেন দারুণ একজন মানুষ। jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68ebb8e41bd53" ) );
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান