গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীদের উৎসব ভাতা, ঈদ বোনাস, মাতৃত্বকালীনছুটিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা এবং সর্বোপরি চাকরির নিশ্চয়তা দিতে হবে। এগুলো প্রত্যেক শ্রমিকের অধিকার।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘সরকারি দফতর, অধিদফতর, পরিদফতর ও স্বায়িতশাসিত প্রতিষ্ঠানে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কর্মরতদের বয়স শিথিল করে স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানে স্থায়ীকরণের দাবিতে’ বিক্ষোভ সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশে জোনায়েদ সাকি বলেন, দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারিদের কাজে নেওয়ার সময় নিয়োগপত্র দেওয়া হয় না। কর্মকর্তারা তাদের ইচ্ছামতো বিদায় করে দেন। তাদের বেতনের কোনও ঠিক নেই। তারা ৩০ দিন কাজ করে ২২ দিনের বেতন পান। সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিন কেউ পান না। যদি ৩০ দিন কাজ করানো হয়, ৩০ দিনের বেতন দিতে হবে। যদি মাসে চার দিন ছুটি ধরে ২৬ দিনের বেতন দেওয়া হয়, তাহলে অবশ্যই চার দিনের সাপ্তাহিক ছুটি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, কর্মচারী ভাই-বোনদের পরিবার আছে, সন্তান আছে। তাদেরও তাদের পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে হয়। তারা অসুস্থ হন, তাদের বিশ্রামের প্রয়োজন আছে। তাদের জন্য সরকারের নীতিমালা তৈরি করতে হবে।
জোনায়েদ সাকি বলেন, এখানে অনেকের নামে বেতন তোলা হয়, কিন্তু তারা কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন না। সরকারি টাকা ঠিকই লোপাট হয়, কিন্তু কর্মচারী শ্রমিকদের জীবনের কোনও উন্নতি হয় না।
তিনি আরও বলেন, ঐক্যবদ্ধ শক্তি দিয়ে গণঅভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা তা আমরা আদায় করে নেবো। বাংলাদেশের শ্রমজীবী মেহনতি কর্মচারী, শ্রমিক, কৃষক, মেহনতি মানুষ তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা না হলে অভ্যুত্থানের বাংলাদেশ অর্জন নিশ্চিত হবে না। তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই আমরা চালিয়ে যাবো এবং সেভাবেই বাংলাদেশ তৈরি করবো।
বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল শেষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি পেশ করেন সংগঠনের নেতারা।
বাংলাদেশ দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের আহ্বায়ক মো. বোরহান উদ্দিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বহুমুখী শ্রমজীবী ও হকার সমিতির সভাপতি বাচ্চু ভূঁইয়াসহ দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের নেতারা।