এ অবস্থায় নির্বাচন হলে দেশে গুন্ডাতন্ত্রের উত্থান হবে, চাঁদাবাজি আরও বাড়বে: চরমোনাই পীর

এ অবস্থায় নির্বাচন হলে দেশে গুন্ডাতন্ত্রের উত্থান হবে, চাঁদাবাজি আরও বাড়বে: চরমোনাই পীর

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, ‘স্বার্থান্বেষী একটি মহল দেশকে বারবার চুরিতে চ্যাম্পিয়ন করেছে। তারা দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করে কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে বেগমপাড়া করেছে। এখন পর্যন্ত তাদের বিচার হয়নি, অবশ্যই বিচার করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দাবি ছিল মৌলিক সংস্কার, জুলাই হত্যাকাণ্ডের দৃশ্যমান বিচার এবং পরে জাতীয় নির্বাচন। কিন্তু কোনোটি এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। নরসিংদীতে এক পুলিশ কর্মকর্তা চাঁদাবাজি ঠেকাতে গিয়ে মার খেয়েছেন, অপমানিত হয়েছেন। এ অবস্থায় নির্বাচন হলে দেশে গুন্ডাতন্ত্রের উত্থান হবে, চাঁদাবাজি আরও বাড়বে, আরও মায়ের কোল খালি হবে। এক্ষেত্রে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের বিকল্প নেই। দেশ ও মানবতার পক্ষে সবাই একত্রিত হলে চাঁদাবাজরা শেখ হাসিনার মতো পালাতে বাধ্য হবে।’

মঙ্গলবার (০৭ অক্টোবর) বিকালে হবিগঞ্জ পৌরসভা মাঠে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জেলা শাখা আয়োজিত গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। পিআর পদ্ধতি ও জুলাই সনদের ভিত্তিতে জাতীয় নির্বাচনসহ বিভিন্ন দাবিতে এ সমাবেশ হয়।

চরমোনাই পীর বলেন, ‘মানুষ এখন ইসলামের পক্ষের একটি শক্তিকে নির্বাচনে চায়। আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি। ইসলামি ও সমমনা দলগুলোকে একত্র করে একটি বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলাই আমাদের কাজ।’

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলার সভাপতি মাওলানা মহিব উদ্দিন আহমদ সোহেল। সাধারণ সম্পাদক শামছুল হুদার সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজ মাওলানা মাহমুদুল হাসান, মুফতি তাজুল ইসলাম, শেখ হাদীসুর রহমান রূহানী ও কামাল উদ্দিন আহমদ প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চরমোনাই পীর বলেন, ‘দেশের কল্যাণের জন্য ২০০৮ সালেই আমরা পিআর পদ্ধতির নির্বাচন দাবি করেছিলাম। বর্তমান ব্যবস্থায় ফ্যাসিস্ট সরকার তৈরি হয়, কালো টাকার দৌরাত্ম্যে মানুষ ভোট দিতে পারে না, ভোটের সঠিক মূল্যায়নও হয় না। পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে প্রতিটি দলের প্রতিনিধি সংসদে যাওয়ার সুযোগ পাবে। কালো টাকার প্রভাব কমবে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে। আমরা পিআর পদ্ধতির দাবিতে শেষ পর্যন্ত অটল থাকবো। যদি সরকার না মানে, তবে গণভোটের দাবি তুলবো। গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত জানতে চাইবো। এরপর দেশের অবস্থা বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ইসলামী আন্দোলন।’

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin