জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপ–এ ছড়িয়ে পড়ছে এক নতুন ধরনের ম্যালওয়্যার, যার নাম ‘সোরভেপোটেল’। সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ট্রেন্ড মাইক্রো জানিয়েছে, এটি এমন এক ক্ষতিকর সফটওয়্যার যা ব্যবহারকারীর তথ্য চুরি বা মুক্তিপণ আদায়ের জন্য নয়, বরং সংক্রমিত অ্যাকাউন্ট থেকেই বিপুলসংখ্যক স্প্যাম বার্তা পাঠিয়ে অন্য অ্যাকাউন্টকে ঝুঁকিতে ফেলে।
কীভাবে কাজ করে এই ম্যালওয়্যার
গবেষকদের মতে, সোরভেপোটেল মূলত উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে চলা কম্পিউটার ব্যবহার করে ছড়ায়। প্রথমে সাইবার অপরাধীরা আকর্ষণীয় বার্তা বা অফারের ছদ্মবেশে একটি জিপ ফাইল পাঠায়। সেখানে ফাইলটি খোলার অনুরোধ জানানো হয়।
ব্যবহারকারী একবার ফাইলটি খুললেই ম্যালওয়্যারটি সক্রিয় হয়ে পড়ে এবং হোয়াটসঅ্যাপ ওয়েবের মাধ্যমে ভুক্তভোগীর কনট্যাক্ট ও গ্রুপে একই ক্ষতিকর ফাইল পাঠিয়ে দেয়। ফলে মুহূর্তের মধ্যেই ম্যালওয়্যারটি বহু অ্যাকাউন্টে ছড়িয়ে পড়ে।
এই স্বয়ংক্রিয় স্প্যাম ছড়ানোর কারণে অনেক ব্যবহারকারীর হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট স্প্যাম বার্তা পাঠানোর অভিযোগে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ হয়ে যাচ্ছে।
সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক
সোরভেপোটেলের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো এর স্বয়ংক্রিয় সংক্রমণ প্রক্রিয়া। সংক্রমিত কম্পিউটারে হোয়াটসঅ্যাপ ওয়েব চালু থাকলে ম্যালওয়্যারটি ব্যবহারকারীর অজান্তেই বার্তা পাঠাতে শুরু করে। এর ফলে প্রতারণা রোধ করা কঠিন হয়ে পড়ে, কারণ এটি মানুষের হাতে নয়, স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করে।
ট্রেন্ড মাইক্রোর বিশ্লেষণে আরও জানা গেছে, ম্যালওয়্যারটি সক্রিয় হওয়ার পর পাওয়ারশেল স্ক্রিপ্টের মাধ্যমে বাহ্যিক সার্ভারে সংযোগ স্থাপন করে, যা পরবর্তীতে আরও ক্ষতিকর উপাদান ডাউনলোড করতে পারে বা ব্যবহারকারীর ডিভাইসকে নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে।
প্রতিরোধ করতে যা করবেন
এ ধরনের প্রতারণা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ব্যবহারকারীদের কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে —
১। অপরিচিত উৎস থেকে পাঠানো কোনও ফাইল বা লিংক খোলা যাবে না।
২। ‘অটো ডাউনলোড’ ফিচার বন্ধ রাখতে হবে, যাতে কোনও ফাইল অনুমতি ছাড়া ডিভাইসে না আসে।
৩। হোয়াটসঅ্যাপ ওয়েবে লগইন করার পর ব্যবহার শেষে লগআউট করতে হবে।
৪। অ্যান্টিভাইরাস ও সিকিউরিটি সফটওয়্যার আপডেট রাখুন এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপ হলে দ্রুত পদক্ষেপ নিন।
সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, হোয়াটসঅ্যাপের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম এখন সাইবার অপরাধীদের অন্যতম লক্ষ্য। তাই অনলাইনে নিরাপদ থাকতে সচেতনতা, যাচাই-বাছাই ও সাবধানতাই হতে পারে সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।
তথ্যসূত্র: দ্য হ্যাকার নিউজ